নিজস্ব প্রতিবেদক : বাগেরহাটের রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উদ্বেগ নিয়ে কটাক্ষ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। তিনি বলেছেন, ‘খালেদা জিয়ার কথা শুনে মনে হয়েছে যেন মার চেয়ে মাসীর দরদ বেশি।’
বৃহস্পতিবার সকালে কমলাপুরে বিআরটিসি বাস ডিপোতে বিআরটিসি শ্রমিক কর্মচারী শ্রমিকলীগ আয়োজিত জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা ও মিলাদ মাহফিলে এসব কথা বলেন নাসিম। তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিরোধীতাই প্রমাণ করে তিনি দেশের উন্নয়ন চান না।’
রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ভারতীয় প্রতিষ্ঠান এনটিপিসির সঙ্গে চুক্তি করেছে সরকার। বামপন্থি ও পরিবেশবাদী বিভিন্ন সংগঠন এই কেন্দ্র বাতিলের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছে। তাদের দাবি, এই কেন্দ্র হলে সুন্দরবনের ব্যাপক ক্ষতি হবে।
বুধবার খালেদা জিয়াও সংবাদ সম্মেলন করে একই ধরনের বক্তব্য দিয়ে এই কেন্দ্র বাতিলের দাবি জানান। তার দাবি, কেবল পরিবেশগত দিক থেকে নয়, আর্থিক দিক থেকেও এই কেন্দ্র লাভজনক হবে না। কিন্তু সরকার সব বুঝেও ভারতের স্বার্থে এই প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে ২০ দলীয় জোট ও দেশবাসীর প্রতি আহ্বানও জানিয়েছেন খালেদা জিয়া।
তবে বিএনপি চেয়ারপারসনের এই আহ্বানকে নাসিম দেখছেন বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা হিসেবে। তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া সব সময় ভারতবিরোধী কথা বলে আসছেন। পার্বত্য শান্তিচুক্তির সময় তিনি বলেছিলেন এই চুক্তি হলে বাংলাদেশ থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। আজ এক যুগ পার হতে চলল, কিন্ত ওই অঞ্চল বাংলাদেশ দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়নি।’
বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে চারদলীয় জোট সরকারের ব্যর্থতার কথা তুলে ধরে নাসিম বলেন, ‘ক্ষমতায় থাকাকালে খালেদা জিয়া এক মেগাওয়াটও নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারেননি। বরং ২০০১ সালে আমরা ক্ষমতা ছাড়ার আগে যত বিদ্যুৎ উৎপাদন হতো, খালেদা জিয়া তা আরও কমিয়েছেন। তিনি পাঁচ বছরে কিছুই করতে পারেননি, এখন এসেছেন আমাদেরকে জ্ঞান দিতে।’
রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র হলে সুন্দরবনের কোনো ক্ষতি হবে না নিশ্চয়তা দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তিন বছর ধরে বিশেষজ্ঞদের দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এই কেন্দ্রের কাজ শুরু হয়েছে। এতো দিন পর খালেদা জিয়ার ঘুম ভেঙেছে।’

