ঢাকাSunday , 21 August 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ করে যাবো

Link Copied!

picনিজস্ব প্রতিবেদক : ‘সেদিন মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এসেছি, মরে গেছি ভেবে লাশের ট্রাকে তুলেছিল, ঢাকা মেডিক্যালের করিডোরেও রেখেছিল, কিন্তু জ্ঞান ফিরে আসায় চিৎকার করে উঠি, তারপরই সবাই বোঝে আমি মরিনি, তখনও বেঁচে আছি। এখনও ভাবি, আর কিছুক্ষণ পর যদি জ্ঞান ফিরতো তাহলে হয়তো মর্গেই চলে যেতাম।’ কথাগুলো বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আহতদের একজন নাসিমা ফেরদৌস। মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসা এই নারী এখনও বয়ে চলেছেন শরীরের ভেতরে অসহ্য যন্ত্রণা।শরীরের ভেতরেই দুঃসহ য্ন্ত্রণা তাকে প্রতিদিনই মনে করিয়ে দেয় ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের সেই ভয়াবহ হামলার কথা।
নাসিমা ফেরদৌস বলেন,‘ফুসফুসের কাছে, হাতে পায়ে এক থেকে দেড় হাজার স্প্লিন্টার, কী যে অসহ্য যন্ত্রণা বয়ে বেড়াচ্ছি সেটা ভুক্তভোগী ছাড়া কেউ বুঝবে না।’ তিনি বলেন, শরীরে অনেক যন্ত্রণা হয়, চুলকায়, গরমের দিনে গরম আর শীতের দিনে পা দুটো ঠাণ্ডা হয়ে যায়, জ্বালাপোড়া করে…এ যন্ত্রণার কোনও শেষ নেই। ‘অতীত বড় দুঃসহ, কিছুতেই ভুলে থাকতে পারি না। যে অসহ্য যন্ত্রণা প্রতিনিয়ত বয়ে চলেছি এর সঙ্গে অন্য কোনও কিছুর তুলনা চলে না।’
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আহতরা এভাবেই যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে দিন পার করছেন।সেদিন অনেককেই মৃত ভেবে লাশ বহনের গাড়িতে তোলা হয়েছিল। তবে ভাগ্য সহায় থাকায় বেঁচে আছেন এখনও। হামলার পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছিলেন, এত বছর পরেও দেখে রাখছেন তাদের। আর তারাও নিজেদের কাছে অঙ্গীকারাবদ্ধ, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ করে যাবেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করে যাবেন।
গুরুতর আহত নাসিমা ফেরদৌস বলেন, তবে আমাদের পাশে থেকেছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।তিনি আমাদের উন্নত চিকিৎসা করিয়েছেন।আর এই উন্নত চিকিৎসার জন্যই পা দুটো এখনও সঙ্গে আছে, হারাতে হয়নি। যদিও হাঁটতে আমার বহুদিন সময় লেগেছে, দীর্ঘদিন বিছানায় ছিলাম। নাসিমা ফেরদৌস বলেন, এত কিছুর পরও দলীয় সব কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছি, হুইল চেয়ারে করে গিয়েছি সব জায়গায়। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দলের সঙ্গে থাকতে চাই। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে, শেখ হাসিনার আদর্শে রাজনীতি করে যাবো যতদিন বেঁচে থাকবো।
নাসিমা ফেরদৌস বর্তমানে বরগুনা-ঝালকাঠি আসনের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য। স্বামী হারুন অর রশীদ আর এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে থাকেন ঢাকার উত্তরাতে। বলেন, স্বামী-সন্তানের সহযোগিতা জীবনের আরেক পাওয়া আমার, ওদের সাহায্য-ভালবাসা ছাড়া আমি এখানে আসতে পারতাম না।
কথা হয় গ্রেনেড হামলায় আহত আরও কয়েকজনের সঙ্গে। তাদের একজন রাশিদা আক্তার রুমা।
‘বেঁচে আছি, মরি নাই, ধুঁকে ধুঁকে মরে যাচ্ছি’ বলেন, গ্রেনেড হামলায় গুরুতর আহত আরেক নারী রাশিদা আক্তার ‍রুমা। সেদিনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে  তিনি বলেন, আমরা সেদিন অনেকেই ছিলাম ট্রাকের সামনে। আইভী আন্টি ( আইভী রহমান) ছিলেন আমার ডান পাশে। নেত্রী (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) ট্রাক থেকে নামলে তাকে আমরা এগিয়ে নেবো, গাড়িতে তুলে দেবো এই ছিল পরিকল্পনা।নেত্রী জয় বাংলা বললেন, আমি ডান পা’টা কেবল বাড়ালাম, ঐ মুহূর্তেই বিকট শব্দ, পড়ে গেলাম, জ্ঞান হারালাম। এক মুহূর্তের জন্য জ্ঞান এলো, দেখলাম চারিদিকে কেবল রক্ত আর রক্ত, কত–শত স্যান্ডেল পরে আছে, চিৎকার চারিদিকে, সামনে নেত্রীর ট্রাক শূন্য। আমি আবার জ্ঞান হারাই। পরে শুনেছি, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আমাকে লাশের সঙ্গে রাখা হয়েছিল, মৃত ভেবে আমার শরীরও চাদর দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। কিন্তু তখন নাকি চায়না নামের একজন কর্মী আমার একটু শব্দ শুনতে পেয়ে বলেছিল, উনি বেঁচে আছেন। তখন সাবের ভাইয়ের (সাবের হোসেন চৌধুরী) গাড়িতে করে আমাকে প্রথমে বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ওখান থেকে পঙ্গু হাসপাতাল, পঙ্গু থেকে সিকদার হাসপাতাল, সেখান থেকে ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়। ভারতের হাসপাতালে আমার জ্ঞান ফেরে, সেখানে চিকিৎসা হয়। কিন্তু এখনও ডান কান থেকে রক্ত পড়ে, চোখেও ঠিকমত দেখতে পাই না। চিকিৎসকরা বলেছেন, ডান কানে অপারেশন না করালে অন্ধ হয়ে যাবো। গ্রেনেড হামলার দিনে বোমার আঘাতে ১৮টা দাঁত পড়ে গেছে আমার, মানুষের পায়ের নিচে চাপা পড়ে পেটের ভেতরে অনেক ক্ষত হয়—সেই ক্ষত দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। পেটের এই সমস্যা নিয়ে গত ১৮ দিন হাসপাতালে থেকে বাড়ি ফিরে এসেছি গত পরশু।স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন,‘আমাকে যদি একটু বিদেশ নিয়ে চিকিৎসা করাতেন তিনি, তাহলে হয়তো সুস্থ হয়ে যেতাম।’
রাশিদা আক্তার বলেন, প্রধানমন্ত্রী গ্রেনেড হামলায় আহতদের জন্য সবধরনের সহযোগিতা করে যাচ্ছেন, কিন্তু তার একার পক্ষে আর কতটুকু সম্ভব? আমাদের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন, কারও ছেলের চাকরি দিচ্ছেন, কারও মেয়ের বিয়ে দিচ্ছেন—সব করছেন তিনি। তার পাশাপাশি সংসদ সদস্যরাও যদি আমাদের দায়িত্ব নিতেন তাহলে আমরা আরেকটু ভালো থাকতে পারতাম।
এত কষ্টের পরেও আওয়ামী লীগের প্রতি ভালবাসা একটুও কমেনি জানিয়ে রাশিদা আক্তার বলেন, ‘মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ করে যাবো, নেত্রীর প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতার শেষ নেই।’
২১ আগস্ট জনসভায় মঞ্চের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন নীহার রঞ্জন কর। তিনি এখন সুধাসদনে আছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে।
কেমন আছেন জিজ্ঞেস করতেই তিনি বলেন,‘বাইঁচা আছি, মরি নাই। তবে অনেক যন্ত্রণা, এর থেকে মুক্তি নাই।’ নীহার রঞ্জন জানালেন, ২০০৪ সালেই তিনি নিয়োগ পান।সেদিন মঞ্চের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন তিনিসহ অন্যরা। তারমধ্যে ল্যান্স কর্পোরাল (অব.) মাহবুবুর রশীদ মারাই গিয়েছেন হামলায়। গ্রেনেড হামলায় ডান পা হাঁটুর নিচ থেকে প্রায় উড়ে গিয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, প্রথমে পঙ্গু হাসপাতাল, তারপর ভারতে তার চিকিৎসা হয়। ‘একের পর এক অপারেশন ও বোন ড্রাফটিং করে এখন চলাফেরা করতে পারি কিন্তু দৌড়াতে পারি না,’ বলেন তিনি। নেত্রীই দেখাশোনা করছেন জানিয়ে তিনি বলেন,‘শুধু আমি না, হামলায় আহত প্রত্যেককে দেখে রাখেন নেত্রী।’
ইতিহাসের অন্যতম ন্যাক্কারজনক এ ঘটনায় আওয়ামী লীগকে চিরতরে ধ্বংস করতে চেয়েছিল বিএনপি, সঙ্গে ছিল জামায়াত বলেন নীহার রঞ্জন কর। বলেন, বাংলার মানুষ এখন সবই জানে। বঙ্গবন্ধুকে তারা সপরিবারে হত্যা করেছে, তার মেয়েকেও তারা হত্যা করতে চেয়েছিল, আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করতে চেয়েছিল তারা, কিন্তু পারেনি। কিছুতেই পারবে না। আমাদের মত কর্মীরা থাকতে আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করা কারও পক্ষেই সম্ভব না।