বাগেরহাট প্রতিনিধি : বাগেরহাটের মংলায় বসুন্ধরা গ্রুপের মেঘনা সিমেন্ট মিলসের পুরানো বার্জ পরিদর্শনে এসে গ্যাসের তেজষক্রিয়ায় চিনা নাগরিকসহ দু’জন নিহত হয়েছেন। এসময় উদ্ধার করতে গিয়ে আরো দুজন আহত হয়েছেন।
রোববার (৭ আগস্ট) দুপুরে মংলা বসুন্ধরা গ্রুপের মেঘনা সিমেন্ট মিলসের ঘাটে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতরা মংলা বন্দর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। বিকেলে বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
তারা হলেন, চিনা নাগরিক জাং (৫০) ও বসুন্ধরা গ্রুপের মেঘনা সিমেন্ট মিলসের টেকনিশিয়ান মাসুদ শেখ (৪২)। তিনি বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার ঝনঝনিয়া গ্রামের মজিদ শেখের ছেলে। চিনা নাগরিক জাং নির্মাণাধীন পদ্মাসেতুর কাজে এদেশে আসেন। নদী শাসনের কাজে তিনি নিয়োজিত ছিলেন। আহতরা হলেন, মেঘনা সিমেন্ট মিলসের কর্মচারী সাঈদুর রহমান ও বেলাল হোসেন।
বসুন্ধরা গ্রুপের মেঘনা সিমেন্ট মিলসের ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) গোলাম মোর্তুজা এই প্রতিবেদককে বলেন, সম্প্রতি চিনা নাগরিক জাং বসুন্ধরা গ্রুপের মেঘনা সিমেন্ট মিলসের পুরাতন একটি বার্জ নিলামে কেনেন। রোববার দুপুরে তিনি তা দেখতে মংলার মেঘনা সিমেন্ট কারখানায় আসেন।
একপর্যায়ে সিমেন্ট কারখানার তিন কর্মচারীকে নিয়ে বার্জটি দেখতে কারখানার ঘাটে যান। সঙ্গীদের বাইরে রেখে তিনি বার্জের ঢাকনা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন। বেশকিছুক্ষণ হয়ে যাওয়ার পর তিনি ফিরে না আসায় তার সঙ্গে থাকা মাসুদ নামে এক কর্মচারী চিনা নাগরিককে খুঁজতে বার্জের ভেতরে ঢোকেন। মাসুদও ফিরে না আসায় বার্জের বাইরে থাকা সাঈদ ও বেলাল উদ্বিগ্ন হয়ে তাদের কারখানার ফায়ার সার্ভিসের একটি উদ্ধারকারী দল নিয়ে বার্জের ভেতরে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে বন্দর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে যাওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক চিনা নাগরিক জাং ও মাসুদকে মৃত ঘোষণা করেন।
মংলা থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) মনজুর এলাহী প্রতিবেদককে বলেন, ‘নিহতদের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
মংলা বন্দর হাসপাতালের চিকিৎসক প্রকাশ মন্ডল বলেন, ‘চিনা নাগরিক জাং ও মেঘনা সিমেন্ট কারখানার কর্মচারী মাসুদকে হাসপাতালে আনার আগেই মারা গেছেন। বার্জের ঢাকনা দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় ভেতরে এক ধরনের গ্যাসের সৃষ্টি হয়েছে। ওই গ্যাসে অক্সিজেন ফেল করে তাদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে তাদের মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।’

