নিজস্ব প্রতিবেদক : জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে জঙ্গি-সন্ত্রাস মোকাবিলা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন কেন্দ্রীয় ১৪ দলসহ পেশাজীবী পরিষদের নেতারা।
শনিবার বিকেলে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক যৌথসভায় এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করেন উপস্থিত নেতারা। আগামী ১১ জুলাই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশ সফল করার জন্য এ সভা আহ্বান করা হয়।
কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী বলেন, জনগণ জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আছে। সরকারই জনগণের শক্তিতে বলীয়ান হয়েই জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদ রুখবে, রুখেছে। জঙ্গিবাদের কোনো স্থান বাংলার মাটিতে হবে না।
সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া বলেন, একাত্তর সালে যে অপশক্তি পরাজিত হয়েছিল তারাই আবার বাংলাদেশে চক্রান্ত করছে। আগামী সমাবেশের মাধ্যমে আমরা তাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আছি, আমরা পিছপা হব না। এই ম্যাসেজ দিতে চাই।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হওয়ার পর থেকে সরকারবিরোধী চক্রান্ত ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছিল। আমরা তা কঠোর হস্তে দমন করেছি। এরপর শুরু হয় গুপ্তহত্যা। এটাও আমরা জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে বন্ধ করবো।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সমালোচনা করে হানিফ বলেন, যখন গুলশান হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটল তখন তিনি ঐক্যের ডাক দিলেন, কিন্তু ঈদের দিনই কি বললেন, এই্ সরকার জঙ্গি দমন করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই পদত্যাগ করে নির্বাচন দিলেই সব সমস্যার সমাধান হবে। এই কথার অর্থ কি? বাংলাদেশে যত গুপ্তহত্যা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হচ্ছে তা তার নির্দেশেই হচ্ছে। ওনি ক্ষমতায় যাওয়ার জন্যই জামায়াতকে দিয়ে বিভিন্ন নামে এসব করাচ্ছেন। যা তার কথার মাধ্যমেই প্রমাণিত হয়েছে।
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, জঙ্গিবাদ বৈশ্বিক উৎপাতে পরিণত হয়েছে। গুলশান ও শোলাকিয়ার ঘটনা বাংলাদেশে কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। এর অতীত হল হেফাজতি তাণ্ডবের পরাজয়, আগুন সন্ত্রাসের পরাজয়। আমরা জঙ্গিদের ধ্বংস করছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তথ্য উদঘাটন করছে। এখন ওদের গুরুদের পরিচয় উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাপরিষদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, আমরা গণতান্ত্রিক দল। যদি জনগণের কাছে উন্নয়ন এবং গণতন্ত্র নিয়ে কাছাকাছি যেতে পারি তাহলেই আমরা সফল হব।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ভয়কে জয় করেই আমরা একাত্তর সালে পাকিস্তানিদের পরাজিত করেছিলাম। ভয়কে জয় করেই আমরা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে স্বাধীনতা এনেছিলাম। আজ বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে এনেছি। তিনি আজ ডাক দিয়েছেন খুনি-জঙ্গিদের প্রতিহত করতে। তাই আশা করি, আগামী ১১ জুলাই শহীদ মিনারের সমাবেশে সবাই উপস্থিত হয়ে জঙ্গি-সন্ত্রাস মোকাবিলায় তার হাতকে শক্তিশালী করবেন।
১৪-দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মতিয়া চৌধুরী বলেন, শুধু আগামী ১১জুলাই সন্ত্রাস প্রতিরোধ সমাবেশ নয়। যতদিন এই দেশে জঙ্গি-সন্ত্রাস আছে, চক্রান্ত আছে ততদিন অনবরত একের পর এক কর্মসূচি দেন- আমরা আছি।
নাট্যভিনেতা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ গুলশান ও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় সন্ত্রাসী হামলাকে নজিরবিহীন উল্লেখ করে বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ বন্ধের কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে জঙ্গি ও সন্ত্রাসী তৎপরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই যে গুলশান-উত্তরায় কোনো সিনেমা হল নেই, একটা থিয়েটার নেই। এটা কেন? এটাও আপনাদেরকে ভাবতে হবে? আর কারা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসতে চাচ্ছে এটা সবাই জানি। কিন্তু আমাদের চুপ করে গেলে চলবে না।
জাতীয় প্রেসক্লাবে সভাপতি শফিকুর রহমান বলেন, জঙ্গিবাদের চারা রোপন করেছিলেন জিয়াউর রহমান। এরশাদ সাহেব সেটাকে নার্সিং করেছেন। আর খালেদা জিয়া তাদের হাতে পতাকা তুলে দিয়েছে। তাই বর্তমান এই সংকটও মূলত খালেদা জিয়া এবং তার সাথে যারা আছে তাদেরকে নিয়েই।
সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের গোলাম কুদ্দুস বলেন, জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে এক কাতারে নিয়ে আসতে হবে।
শহীদ জায়া শ্যামলী নাসরিন বলেন, সন্ত্রাসী হামলার মধ্যদিয়ে একাত্তর সালের মুক্তিযুদ্ধের পুনরাবৃত্তি দেখতে পাচ্ছি।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ১৪-দলের মুখপাত্র ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। আরো বক্তব্য রাখেনে ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সবুর, অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, নিম চন্দ ভৌমিক, সোহেল হায়দার চৌধুরী, বাসেত মজুমদার, চিত্রনায়ক ফারুক প্রমুখ। ১৪-দলের নেতারা এতে উপস্থিত ছিলেন।

