নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যু রহস্য উৎঘাটনে তদন্ত হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন সরকার দলীয় সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।
সোমবার সকালে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারন আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার সমালোচনা করে খালিদ মাহমুদ বলেন, ‘তিনি একজন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। তিনি একজন রাষ্ট্রপতির স্ত্রী। আবার প্রাক্তন বিরোধী দলীয় নেতা। তার কথাবার্তায় কোনো শালীনতা নেই। তার এই ধরণের আচারণের কারণে আরাফাত রহমান কোকো হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে মাদকাসক্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। কোকোর মৃত্যুর ঘটনার একটা তদন্ত হওয়া দরকার।’
তিনি আরও বলেন, ‘একজন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির ছেলের, একজন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর ছেলের এ ধরনের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা মেনে নেয়া যায় না। এই মৃত্যুর ঘটনার দায় নিতে হবে খালেদা জিয়াকে। কারণ, তার ছেলেদের লালন পালন করার জন্য রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে যে অর্থ দেওয়া হয়েছে তা মেহনতী মানুষের।
তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া দুই ছেলের মধ্যে একজনকে মাদকাসক্ত করেছেন। আরেকজনকে ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত হাওয়া ভবনে বসিয়ে দেশের সম্পদ লুট করেছেন। দেশের টাকা বাইরে পাচার করেছেন। সেটা আদালতে প্রমাণিত। খালেদার বড় ছেলে তারেক রহমান আওয়ামী লীগ নেতা আহসান উল্লাহ মাস্টার, প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়াকে হত্যা করেছেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করে হত্যার চেষ্টা করেছেন। তারেক রহমান ২৪ জন মানুষকে হত্যা করেছেন। গণহত্যা করে বিদেশে পালিয়ে গেছেন। আজ তিনি (তারেক জিয়া) জানেন যে, তিনি আইনের মুখোমুখি হলে অপরাধী সাব্যস্ত হবেন। ইতোমধ্যে কয়েকটি মামলায় অপরাধী সাব্যস্ত হয়েছেন। তিনি আজ পলাতক হয়ে ষড়যন্ত্র করে দেশকে বিশৃঙ্খল অবস্থার দিকে নিয়ে যাচ্ছেন।
খালেদা জিয়ার সদ্য ইফতার পার্টিতে দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, আজকে রাজনীতি থেকে ছিটকে পরে গিয়ে বেগম খালেদা জিয়া ইফতার পার্টিতে মিথ্যা কথা বলছেন, বিষোদগার করেছেন। তিনি (খালেদা জিয়া) বলেছেন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি আওয়ামী লীগ নাকি জঙ্গি লালন পালন করে, কতো বড় ভয়ানক কথা। যার আঁচলের নীচে কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযম। যিনি নিজামী, সাঈদীদের মুক্তি দাবি করেছেন তার মুখে এই কথা।
‘একজন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কীভাবে কথা বলতে হয় এইটুকু পর্যন্ত ভুলে গেছেন’ উল্লেখ করে খালিদ মাহমুদ আরও বলেন, ‘তার প্রত্যেকটি কথা, প্রত্যেকটি উচ্চারণের মধ্যে শালীনতা নেই। একজন রাষ্ট্রপতির স্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেতা ও প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তার কাছে এই ধরণের বক্তব্য আশা করা যায় না।’
বাজেট আলোচনায় অংশ নেন আওয়ামী লীগের এ কে এম রহমতুল্লাহ, সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি, আবু সালেহ মোহাম্মদ সাঈদ (দুলাল), মহিবুর রহমান মানিক, তাজুল ইসলাম, ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন।

