ঢাকাTuesday , 14 June 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দলের সিদ্ধান্ত মানছেন না নেতারাই

Link Copied!

BNP Logoনিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপিতে ‘এক নেতার এক পদ’ নীতি বাস্তবায়নে বাঁধা হয়ে দাড়িয়েছেন খোদ দলটির শীর্ষস্থানীয় একাধিক নেতা। ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হওয়ার পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীসহ বেশ কয়েকজন নেতা একটি পদ রেখে ছেড়ে দেন অন্যগুলো। কিন্তু বেশ কজন নেতা আবার এই পথে হাঁটতে চাইছেন না।
নতুন কমিটির ৪২ নেতার মধ্যে এখন পর্যন্ত যুবদল সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মৎসজীবী দলের সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ ছেড়েছেন সহ সাংগঠনিক সম্পাদক (কুমিল্লা) আব্দুল আউয়াল।
নতুন কমিটিতে এখন পর‌্যন্ত পদ না পাওয়া নেতাদের মধ্যে ঢাকা মহানগর বিএনপির এক নম্বর যুগ্ম আহ্বায়কের পদ থেকে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুল আউয়াল মিন্টু পদত্যাগ করেছেন বলে দলটির বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। তবে এ বিষয়ে মিন্টুর কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আর নতুন কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম) পদ পেলেও শাহাদাত হোসেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের পদ ছাড়েননি। বরং মহানগরের সভাপতির পদ পেলে সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ ছেড়ে দেয়ার কথা মৌখিকভাবে কেন্দ্রকে জানিয়েছেন শাহাদাত হোসেন।
একই বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হাশেম বকর চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে মহাসচিবকে চিঠি দিয়েছেন।
তবে এর বাইরে একাধিক পদে আছেন- এমন নেতারা একটি বেছে এক বা একাধিক পদ ছাড়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করছেন।
গত ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনের আগেই বিএনপিতে এক নেতা এক পদ নীতি কার্যকরের সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ি দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে যেসব নেতা থাকবেন তারা দলের বা অঙ্গ সংগঠনের কোনও পদে থাকতে পারবেন না।তবে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বিশেষ প্রয়োজনে সাময়িক সময়ের জন্য যে কাউকে চাইলে একাধিক পদে রাখতে পারবেন বলে সিদ্ধান্ত হয়।
এই ‘বিশেষ প্রয়োজনে’র দোহাই দিয়ে যুগ্ম মহাসচিবদের মধ্যে এখনও একাধিক পদ ধরে রেখেছেন মজিবর রহমান সারোয়ার। তিনি বরিশাল মহানগরী সভাপতি ও শ্রমিক দলের উপদেষ্টা। আরেক যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবীর খোকন নরসিংদী জেলা বিএনপির সভাপতির পর ধরে রেখেছেন। যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল ঢাকা মহানগরী বিএনপির সদস্যসচিব ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি-কোনও পদই ছাড়েননি। যুগ্ম মহাসচিব হারুন-অর-রশীদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির এক নম্বর সদস্য ও আসলাম চৌধুরী চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক পদেও রয়েছেন।
সাংগঠনিক সম্পাদকদের মধ্যে ফজলুল হক মিলন গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি, নজরুল ইসলাম মঞ্জু খুলনা মহানগরী বিএনপির সভাপতি, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু নাটোর জেলা বিএনপির সভাপতি, বিলকিস শিরিন কেন্দ্রীয় মহিলা দলের যুগ্ম সম্পাদক ও বরিশাল জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি, আসাদুল হাবিব দুলু নীলফামারী জেলা বিএনপির সভাপতি পদে রয়েছেন। আর এমরান সালেহ প্রিন্স আগে সহ-প্রচার সম্পাদক পদে থাকলেও এখন সেই পদ শূন্য হয়ে গেছে।
একাধিক নেতা জানিয়েছেন, তারা কেন্দ্রীয় পদ পেলেও বিশেষ করে জেলার দায়িত্ব ছাড়তে নারাজ। তাদের যুক্তি, দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের পর জেলার নেতৃত্ব হুট করে ছেড়ে দিলে রাজনীতি টিকবে না। দল ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
কেউ আবার সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি করে দায়িত্ব ছাড়তে চান বলে জানা গেছে।
গত ৩ জুন নতুন কমিটির নেতাদের নিয়ে প্রথম বৈঠকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক পদ রেখে বাকি পদ ছাড়তে নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া নতুন কমিটিতে পদ পেয়েছেন অথচ জেলা বা অন্য কোথাও থাকতে চান এমন আগ্রহ থাকলে তা লিখিতভাবে কেন্দ্রকে জানানোর জন্য বলেছেন। এরপরে কয়েকজন নেতা মৌখিকভাবে, কেউ আবার লিখিতভাবে পছন্দের পদের কথা জানিয়েছেন।
একাধিক পদ ছাড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খায়রুল কবির খোকন বলেন, ‘কেন্দ্র যদি এক নেতার এক পদ নীতির বাস্তবায়ন চায় তাহলে অবশ্যই জেলা সভাপতির পদ ছেড়ে দেব।’ তিনি বলেন, ‘আগে জেলা সম্মেলন করে গুছিয়ে পদ ছাড়তে হবে, এ জন্য সময় লাগবে।’
বিএনপির একজন সাংগঠনিক সম্পাদক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘সময় লাগলেও এবার এক নেতার এক পদের নীতি বাস্তবায়ন হবে। তবে অনেকে এখনই একাধিক পদ ছাড়তে চাচ্ছে না’।