ঢাকাSunday , 5 June 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জনসংখ্যার বিচারে এটা মোটেও বিশাল বাজেট নয়

Link Copied!

jasodনিজস্ব প্রতিবেদক : ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটকে অনেকে বিশাল বাজেট হিসেবে আখ্যায়িত করলেও জনসংখ্যার বিচারে এটা মোটেও বিশাল বাজেট নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার।
রোববার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের শহীদ কর্নেল তাহের মিলনায়তনে জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটি আয়োজিত প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের ওপর দলের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় লিখিত বক্তব্যে এ কথা জানান তিনি।
শিরীন আখতার লিখিত বক্তব্যে বলেন, এ বাজেটের অর্থায়ন নিয়েও বিভিন্ন ধরনের সমালোচনা দৃশ্যমান। বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী রাজস্ব ও জিডিপির অনুপাত বাড়ানোর পাশাপাশি জিডিপির পাঁচ শতাংশের মধ্যে বাজেট ঘাটতি সীমিত রাখার একটি স্থিতিশীল পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছেন। বাজেট বাস্তবায়নে কৌশলগত ও সক্ষমতার চ্যালেঞ্জের কথাও বলেছেন অনেকে। জাসদ দেখতে পেয়েছে অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় সেগুলোও যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করেছেন।
এছাড়া প্রবৃদ্ধির গতিশীলতা, কর্মসৃজন, দারিদ্র্য বিমোচন ও টেকসই উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়ে প্রণয়ন করা হয়েছে এবারের বাজেটে। যার শিরোনাম দেওয়া হয়েছে ‘প্রবৃদ্ধি, উন্নয়ন ও সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার পথে অগ্রযাত্রা’। বাংলাদেশ এ বছর ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির বৃত্ত থেকে বেরিয়ে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির দিকে যাত্রা শুরু করেছে। তবে জাসদ মনে করে জাতীয় বাজেট ২০১৬-১৭ গত দুই দশকের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারায় প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখলেও উন্নয়ন ও সমতা নিশ্চিত করতে কোনো আদর্শগত ও ব্যবহারিক দিকনির্দেশনা দেয়নি।
তিনি বলেন, ইনক্লুসিভ গ্রোথ বা অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি যে নামেই ডাকা হোক না কেন তা চিরায়ত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিরই একটি রূপভেদ। প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়ন সমার্থক নয়। উন্নয়ন প্রপঞ্চটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চেয়ে বৃহত্তর ও ব্যাপক। অর্থনীতি ও উন্নয়ন বিষয়ে সমকালীন পুঁজিবাদী বিশ্বসাহিত্যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সূচকের মাধ্যমে উন্নয়ন পরিমাপের প্রয়াসকে অবান্তর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এবারের বাজেটে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য ও বিভিন্ন সামাজিক সূচকের ধারণা ব্যবহার করা হলেও তা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অনুসঙ্গ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। জাতিসংঘের মানব উন্নয়ন প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন নিরীক্ষায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে অপরাপর সূচক ব্যবহার করে যে যে মানব উন্নয়ন সূচি প্রবর্তন করা হয়েছে তা অথবা আরো অধিকতর সূচকসহ কোনো সূচি হতে পারে উন্নয়নের নির্দেশক। অর্থমন্ত্রী বাজেট কাঠামো উপস্থাপনের যে প্রস্তাব করেছেন সেক্ষেত্রে জাসদ ‘উন্নয়ন’ ধারণার সমকালীন আলোচনার প্রতিফলন দেখতে চায়।
প্রতিক্রিয়ায় জাসদের এ নেতা আরো জানান, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অগ্রগতি হাতে হাত ধরে অগ্রসর না হলে সামগ্রিক অগ্রগতি নিশ্চিত ও টেকসই হতে পারে না। অর্থনৈতিক অগ্রগতির সুবিধা জনগণের সব অংশের জন্য, বিশেষত অনগ্রসর ও পিছিয়ে পড়া অংশের জন্য, নিশ্চিত করতে না পারলে সে রাজনৈতিক অগ্রগতি হুমকির মুখে পড়বে। কেননা, আধুনিক নিরাপত্তার ধারণা অনুসারে জাসদ মনে করে, যেকোনো বাইরের শত্রুর চেয়ে দারিদ্র্যের মতো অভ্যন্তরীণ শত্রু একটি দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের জন্য অধিকতর ক্ষতিকর।
শিরীন আখতার বলেন, সরকারের রূপকল্প ২০২১ একটি রাজনৈতিক দলিল। এ রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নের জন্য একটি পরিপ্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০১০-২০২১ ও এর অধীনে দুটি ষষ্ঠ ও সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা করা হয়েছে। সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ২০১৬-২০২০ এ জাতীয় পরিকল্পনা দলিলগুলো জাতীয় সংসদে রাজনীতিকদের আলাপ আলোচনা ও মতামতের জন্য উপস্থাপন ও আলোচনার কথা জানাচ্ছে জাসদ’।
এছাড়া বাজেট চূড়ান্ত করার সময় সমাজে সমতা বিধানের লক্ষ্যে সমাজতান্ত্রিক নীতি অনুসরণ করা হয়েছে, এ কথাটি সরাসরি উল্লেখ করতে হবে। সমাজতান্ত্রিক নীতির পাশাপাশি রাষ্ট্রীয়, ব্যক্তি ও সমবায় মালিকানার স্বীকৃতি আছে বাংলাদেশের সংবিধানে কিন্তু ঘোষিত বাজেটে ব্যক্তিখাতের বিনিয়োগ নিয়ে এবং সরকারি ও বেসরকারি মালিকানা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা থাকলেও অর্থনীতিতে সমবায় মালিকানার ভূমিকা ও বিকাশ বিষয়ে পুরোপুরি নিশ্চুপ। জাসদ সংবিধানের মূলনীতির একটির প্রতি এ কৃপণতাকে যথাযথ মনে করে না।
এ সময় দলীয় সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি মীর হোসাইন আখতার, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আনোয়ার হোসেন, সহসভাপতি অ্যাডভোকেট শাহ জিকরুল আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুন্নবী প্রমূখ ছিলেন।