নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেছেন, ‘বিদ্যমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সব রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে জাতীয় সংলাপ অনুষ্ঠানের প্রয়োজন। এর মাধ্যমে ক্ষমতার কার্যকর বিকেন্দ্রীকরণ এবং অংশীদারিত্বমূলক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও জঙ্গিবাদ নির্মূলের উপযোগী কর্মসূচি প্রণয়ন করা যা ‘জাতীয় সনদ’ হিসেবে গৃহীত হতে পারে।’
শুক্রবার রাজধানীর পুরানা পল্টনস্থ মৈত্রী মিলনায়তনে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি জাতীয় পরিষদের সভায় সভাপতির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।
আ স ম রব বলেন, ‘যে দেশের রাজনীতিতে আজ এক অস্বাভাবিক, অস্বস্তিকর ও হিংসাত্মক পরিবেশ বিরাজ করছে। সম্প্রতি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সহিংস নির্বাচনের মাধ্যমে যেভাবে ভোট ডাকাতি ও মানুষ খুন হয়েছে তাতে ভবিষ্যতে জাতীয় নির্বাচনসহ সব ধরনের অবাধ-সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথ রুদ্ধ হয়ে গেছে।’
তিনি বলেন, ‘জনগণের ভোটাধিকার, মৌলিক মানবাধিকার, অবাধ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করার অধিকার, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সব কিছুই সরকার কর্তৃক নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন শুধু দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। মেরুদণ্ডবিহীন এ নির্বাচন কমিশন দিয়ে দেশে কখনো অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হলেও স্বাধীন দেশের উপযোগী রাজনীতি, রাষ্ট্র-প্রশাসন গড়ে তোলা এবং আইন-কানুন ও সংবিধান প্রণীত হয়নি। এতে দেশ স্বাধীন হলেও জনগণ মুক্তি পায়নি।’
রব বলেন, ‘পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ গঠন করে সেখান থেকে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের বিধান করে অবিলম্বে জাতীয় সংসদ নির্বাচন দিতে হবে। তা নাহলে দেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও সহিংসতা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি দেশকে অভ্যন্তরীণ পরাধীনতাসহ দুই জোটের অসুস্থ রাজনীতি থেকে মুক্ত করার জন্য প্রচলিত উপনিবেশিক ধাঁচের রাজনীতি ও রাষ্ট্র-ব্যবস্থাপনা পরিবর্তন এবং দেশকে নয়টি প্রদেশে বিভক্ত করা অতীব জরুরি হয়ে দেখা দিয়েছে।’
সভায় বক্তব্য দেন- দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, এমএ গোফরান, আতাউল করিম ফারুক, মো. সিরাজ মিয়া, মিসেস তানিয়া ফেরদৌসী প্রমুখ।

