
নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে দেশের কোনো কারাগারেই বন্দি করে রাখা যাবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
বুধবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সরকারের প্রতি এ হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
প্রসঙ্গত, রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে বাসে পেট্রোল বোমা হামলায় বিস্ফোরক আইনের মামলায় বুধবার বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আগামী ১৮ জুলাই আদালতে হাজিরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
অন্যদিকে, বিএনপির চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে করা বড় পুকুরিয়া কয়লাখনির মামলা বৈধ মর্মে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি বুধবার প্রকাশিত হয়েছে। এর ফলে আগামী দুই মাসের মধ্যে বেগম খালেদা জিয়াকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে মামলা নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া দেয়া হবে।’
এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, ‘খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা সরকারের দুরভিসন্ধিমূলক চক্রান্ত। কারণ, বিএনপির চেয়ারপারসন হচ্ছেন গণতন্ত্রের প্রতীক, হারানো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আপোষহীন সিপাহসালার। উনাকে নানা দিক দিয়ে বিপর্যস্ত করার জন্য সরকার অনেকদিন ধরেই চক্রান্ত এঁটে আসছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘এই কারণেই তারা জনগণের ইচ্ছা-সমর্থন ছাড়া জোর করে ক্ষমতায় বসে আছে। যে সময় ঘটনাটি (যাত্রাবাড়ীতে যাত্রীবাহী বাসে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ) ঘটেছে বিএনপির চেয়ারপারসন তখন গুলশান কার্যালয়ে অবরুদ্ধ ছিলেন। বালির ট্রাক দিয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। তার কার্যালয়ের টেলিফোন ও বিদ্যুতের লাইন কেটে দেয়া হয়। উনি (খালেদা) তাহলে কোন দিক দিয়ে নির্দেশ দিলেন?’
প্রধানমন্ত্রীর দিকে ইঙ্গিত করে রিজভী বলেন, ‘ক্ষমতাসীন দল ক্ষমতার জোরে নিজেদের মামলা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে শেখ হাসিনারও মামলা ছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী হয়ে শেখ হাসিনা নিজের সব মামলা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। নিজেদের দলের নেতাকর্মীদের সব মামলাও প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। অথচ, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মামলাগুলো চলছে। এটা সরকারের বেআইনী কাজ।’
সরকারকে গণবিচ্ছিন্ন আখ্যা দিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া হারানো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য সংগ্রাম করছেন। তাকে ভয় পেয়েই সরকার এই কাজগুলো করছেন, যাতে বিএনপির চেয়ারপারসন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। কিন্তু এটা তাদের ভুল ধারণা। উনার উপস্থিতি দেশের লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মীকে উজ্জীবিত করে, জাতীয়তাবাদী শক্তিকে অনুপ্রাণিত করে। সুতরাং দেশের কোনো কারগারেই তাকে (খালেদা জিয়া) বন্দি করে রাখা যাবে না।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে সরকারের উদ্দেশে রিজভী বলেন, ‘কারাগারের ভয় দেখাচ্ছেন, মামলা দিচ্ছেন। আপনাদেরও যে কারাগার রচিত হচ্ছে, সেখানে যাওয়ার জন্য সরকারি মহল প্রস্তত থাকবেন। ’
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার (২৪ মে) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনের ভাসানী মিলনায়তনে এক প্রতিবাদ সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘এত সুন্দর জেলখানা বানাইছেন, সেখানে থাকবেন না, এটা কী করে হয়?’
গয়েশ্বর আরো বলেন, ‘শেখ হাসিনা যেভাবে লণ্ডভণ্ড করছেন, দুর্যোগ খুব কাছে। আলীবাবা চল্লিশ চোরা একসাথে জেলখানায় যাবেন।’
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম, আব্দুল আউয়াল খান, শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম পটু, ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক মেহবুব মাসুম শান্ত, দপ্তর সম্পাদক আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী, সহ-সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার বসু (মিন্টু) প্রমুখ।

