
স্পোর্টস ডেস্ক : অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে বেশ ঝামেলায় পড়েছিলেন রুবেল হোসেন। মডেল অভিনেত্রী নাজনীন আক্তার হ্যাপির করা নারী নির্যাতনের মামলায় শেষ পর্যন্ত জেলে যেতেও হয়েছিল ডানহাতি এই পেসারকে। বিশ্বকাপ শেষে সেই ইস্যু আড়ালে চলে যায়। অবশেষে সব বিতর্ক পেছনে ফেলে বিয়ের পিড়িতে বসেছেন রুবেল। বাগেরহাটের মেয়ে ইসরাত জাহান দোলার সঙ্গে নতুন ইনিংস শুরু করেছেন তিনি। আর বিয়ের পর অনেকটাই বদলে গেছেন বলে জানিয়েছেন রুবেল।
সবার চোখকে ফাঁকি দিয়ে অনেকটা গোপনেই গত জানুয়ারিতে বিয়ে করলে জাতীয় দলের পেসার রবেল হোসেন। সংবাদ মাধ্যমের কল্যাণে এই খবরটা মোটামুটি এখন সবারই জানা হয়ে গেছে। বাগেরহাট শহরের মুনিগঞ্জ এলাকার একটি ফ্ল্যাটে বাবা-মা, চাচা ও বোন ছাড়াও কাছের আত্মীয়-স্বজনের উপস্থিতিতে চুপিসারে এ বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। জানা গেছে, রুবেলের স্ত্রী ইসরাত জাহান দোলা এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় পাস করেছেন।
হঠাৎ করে গোপনে বিয়ে প্রসঙ্গে রুবেল বলেন, ‘আমার আব্বা ওই সময়টাতে বেশ অসুস্থ ছিলেন। এজন্য আব্বা তার ছেলের বউকে দেখতে চেয়েছিলেন। এই কারণে তাড়াহুড়ো করে বিয়ে করা। ওই সময় কাছের কিছু বন্ধু-বান্ধব আর আত্মীয়-স্বজনকে নিয়েই তাড়াহুড়ো করে বিয়েটা করা হয়। আসলে তখন শুধু কাবিন হয়েছিল। তবে শিগগিরি আমার বিবাহত্তোর সংবর্ধনার আয়োজন করা হবে।’
চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাগেরহাটের মুনিগঞ্জ এলাকার ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম কচির বাসায় ইসরাত জাহান দোলাকে বিয়ে করেন জাতীয় দলের পেসার রুবেল। বর্তমানে রুবেলের স্ত্রী দোলা তার মায়ের বাসাতেই থাকেন। চলতি বছর সুবিধাজনক সময় রুবেল বড় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তার স্ত্রীকে উঠিয়ে আনবেন জানিয়েছেন। বিশেষ করে বিয়ে পর অনেকটা বদলে গেছেন জাতীয় দলের ডানহাতি এ পেসার।
এ প্রসঙ্গে রুবেল বলেন, ‘অবশ্যই। বেশ কিছু পরিবর্তনতো হয়েছেই। কারণ এখন আমি বিবাহিত। আমাকে ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করতে হবে। আগে হয়তো এগুলো মাথায় ছিল না। এখন বিয়ে করার পর চিন্তা ভাবনাগুলো সব পরিবার কেন্দ্রিক হয়েছে বলতে পারেন।
প্রচুর আড্ডা দিতে পছন্দ করতেন রুবেল। অথচ সেই রুবেল বিয়ের পর তার জীবনের ছকটাও অনেক পরিবর্তন করে ফেলেছেন। ক্রিকেট খেলে কিভাবে আরো বেশি উপর্জন করা যায়। এছাড়া এখন নিয়ম করে খাওয়া-দাওয়া করেন জাতীয় দলের এই ডানহতি পেসার।
এ বিষয়ে রবেল বলেন, ‘খেলার প্রতি আমার আবেগ এবং অনুভূতি যতটুকুই ছিল তার চেয়ে এখন আরও বেশি বেড়েছে। পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে আমার কাজ হচ্ছে ভালোভাবে ক্রিকেট খেলা। অর্থ উপার্জন থেকে শুরু করে সবকিছুই আমার এর মাধ্যমে করতে হবে। তাই এখন আমি আগের চেয়েও বেশি সিরিয়াস হয়েছি এই খেলার ব্যাপারে। এছাড়া খাওয়া-দাওয়াটাও রুটিন মাফিক করছি। যদিও আগে একটু অগোছালো ছিলাম এসব ব্যাপারে।’
রুবেলের নববধূ দোলাও দারুণ ক্রিকেট ভক্ত। তাই দোলার সঙ্গে ক্রিকেটীয় বিষয় নিয়ে আলোচনাও করেন রুবেল। একই সঙ্গে তাদের দাম্পত্য জীবন খুবই সুখের কাটছে।
এ বিষয়ে রুবেল বলেন, ‘দাম্পত্য জীবন আমাদের খুব ভালোই কাটছে। বিয়ে মানুষের চিন্তা-ভাবনাগুলো পরিবর্তন করে দেয়। তবে আমি খুবই সুখে আছি। আমার মতো দোলাও ক্রিকেট খুব পছন্দ করেন। বিশেষ করে ক্রিকেটারের বউ ক্রিকেটতো পছন্দ করবেই।’
রুবেল ও দোলার বিবাহোত্তর সংবর্ধনা অনুষ্ঠান এখানো হয়নি। চলতি বছর এই বিবাহোত্তর সংবর্ধনা অনুষ্ঠান করার ইচ্ছাও আছে রুবেলের। এ প্রসঙ্গে ডানহাতি এই পেসার বলেন, ‘বিবাহত্তোর সংবর্ধনা অনুষ্ঠান খুব দ্রুতই হবে আশা করি। এর মধ্যে আমার খেলার গ্যাপ বের করে একটা দিন তারিখ নির্ধারণ করবো। তখন ওই সময় আপনাদের জানানো হবে। ইনজুরি থেকে ফিরে আমি ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে ছন্দে ফিরেছি। আপাতত এই দিকেই আমার সকল মনোযোগ রয়েছে।’

