নিজস্ব প্রতিবেদক : নারায়ণগঞ্জের পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে বহাল রেখে স্কুল পরিচালনা পর্যদকে বিলুপ্ত ঘোষণা করেছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।
মাউশির প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষক শ্যামল কান্তির বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত আনার অভিযোগের প্রমাণ মেলেনি।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘অবৈধভাবে ওই শিক্ষককে বরখাস্তের আদেশ দেওয়া হয়েছে। ওই আদেশ বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। পরিচালনা পর্ষদ এজেন্ডাবহির্ভূতভাবে ওই শিক্ষককে বরখাস্ত করেছিল। তাই স্কুল কমিটিও বাতিল করা হয়েছে।’
তিনি জানান, নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে স্কুল পর্ষদ পরিচালনার জন্য একটি কমিটি করে দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সভ্য সমাজে শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনা ন্যক্কারজনক। তিনি (শ্যামল কান্তি) স্বপদে বহাল আছেন এবং দায়িত্ব পালন করে যাবেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের তদন্ত কমিটি রাত দিন খেটে প্রতিবেদন দিয়েছেন। গতকাল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছেন। প্রতিবেদনের প্রাথমিক পর্যালোচনার ভিত্তিতে আমরা সিদ্ধান্তগুলো নিয়েছি। প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে গত শুক্রবার নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষককে একদল লোক মারধর করে। পরে স্থানীয় সাংসদ সেলিম ওসমানের উপস্থিতিতে তাকে কান ধরিয়ে ওঠবস করানো হয়।
দেশজুড়ে ওই ঘটনার প্রতিবাদ ও দোষীদের বিচার দাবির মধ্যেই মঙ্গলবার সেই শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করে স্কুল কর্তৃপক্ষ।
শ্যামল কান্তি ভক্তকে লাঞ্ছনার ঘটনায় জাতীয় পার্টির স্থানীয় সাংসদ সেলিম ওসমানসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে গতকাল বুধবার রুল জারি করেন হাইকোর্ট।

