রাজশাহী প্রতিনিধি : রাজশাহীতে ব্যাটারি চালিত একটি ভ্যান ছিনতাইয়ের জন্য এক কিশোরকে হত্যা করেছে দুই মাদকাসক্ত যুবক। এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার বেলা ১১টার দিকে জেলার গোদাগাড়ী ও তানোর উপজেলার সীমান্ত এলাকা পাকড়ি ঝিনাখাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার সকালে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
নিহত কিশোরের নাম হেফাজুল ইসলাম ওরফে পিচ্চি (১৩)। সে তানোরের মুণ্ডুমালা পৌর এলাকার উত্তরপাড়া মহল্লার সাইফুদ্দিন মণ্ডলের ছেলে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মুণ্ডুমালা চারপুকুরিয়া মহল্লার মণ্ডল কুমারের ছেলে শ্রাবণ ওরফে শাওন (২৩) এবং পাশের সাদিপুর মহল্লার বাসেদ আলীর ছেলে ফারুক হোসেন (৩০)।
গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম আবু ফরহাদ জানান, হেফাজুল ইসলামের ব্যাটারি চালিত একটি ভ্যান আছে। ছোট থেকেই সে ভ্যান চালায়। বুধবার সকালে আটক ওই দুই যুবক গোদাগাড়ীর পাকড়ি যাওয়ার কথা বলে তানোরের মুণ্ডুমালা বাজার থেকে হেফাজুলের ভ্যানটি ভাড়া করে। পরে তারা গোদাগাড়ী ও তানোরের সীমান্ত এলাকার নির্জন ঝিনাখাড়ির কাছে এসে কৌশলে ভ্যানটি থামান। এরপর ওই দুই যুবক ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে ভ্যান চালকের মৃত্যু নিশ্চিত করেন। পরে তারা লাশটি খালের ঝোপের মধ্যে লুকিয়ে রেখে ভ্যানটি নিয়ে পালিয়ে যান।
ওসি আরো জানান, ভ্যানটি নিয়ে যাওয়ার পর তারা রাজশাহী নগরীর কাশিয়াডাঙা এলাকায় গিয়ে বিক্রি করার চেষ্টা করেন। কিন্তু বিক্রি না হওয়ায় বিকেলে তারা স্থানীয় একটি আম বাগানে ভ্যানটি ফেলে রেখে চলে যান। এদিকে দীর্ঘ সময় ধরে ভ্যানটির মালিকের কোনো সন্ধান না পেয়ে স্থানীয়রা ভ্যানে লিখে রাখা মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করেন। এ সময় হেফাজুল ইসলামের পরিবারের এক সদস্য গিয়ে ভ্যানটি নিয়ে যান।
এদিকে হেফাজুলের কোনো খবর না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তার পরিবারের সদস্যরা। পরে তারা মুণ্ডুমালা বাজারে গিয়ে অন্যান্য ভ্যান চালকের কাছে তার ব্যাপারে খোঁজ করেন। তখন অন্যান্য ভ্যান চালকেরা তাদের জানান, সকালে ওই দুই যুবক হেফাজুলের ভ্যান ভাড়া করে নিয়ে যান।
এরপর হেফাজুলের সন্ধানে তার পরিবারের সদস্যরা ওই দুই যুবকের বাড়িতে গেলে প্রথমে তারা কিছুই জানেন না বলে দাবি করেন। তবে তাদের কথাবার্তা সন্দেহজনক মনে হওয়ায় বিষয়টি তারা স্থানীয় পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রকে জানান। পরে পুলিশ গিয়ে ওই দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেন।
এরপর পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই তারা ভ্যান চালক হেফাজুলকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। পরে তাদের সঙ্গে নিয়েই তানোর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হেফাজুলের মরদেহ খুঁজে পায়।
তবে লাশটি গোদাগাড়ী থানা এলাকায় পড়ে থাকায় রাত ২টার দিকে গোদাগাড়ী থানা পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
গোদাগাড়ীর ওসি আরো জানান, এ ঘটনায় শাওন ও ফারুককে আসামি করে নিহত ভ্যান চালকের ভাই থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পরে বৃহস্পতিবার সকালে ওই দুই যুবককে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

