ঢাকাWednesday , 18 May 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিএডিসি’র প্রকল্পের তত্ত্বাবধানে গভীর নলকূপ স্থাপন
বিরাণভূমি কুতুবদিয়ায় সবুজ ফসলের সমারোহ

Link Copied!

গভীর নলকূপ স্থাপনের মাধ্যমে সেচ সুবিধা চালুর ফলে কুতুবদিয়ার বিভিন্ন এলাকায় সবুজ ফসলের সমারোহ চোখে পড়ে

গভীর নলকূপ স্থাপনের মাধ্যমে সেচ সুবিধা চালুর ফলে কুতুবদিয়ার বিভিন্ন এলাকায় সবুজ ফসলের সমারোহ চোখে পড়ে

হাসান রেজা : বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)’র পূর্বাঞ্চলীয় সমন্বিত সেচ এলাকা উন্নয়ন (২য় পর্যায়) প্রকল্পের তত্ত্বাবধানে স্থাপিত গভীর নলকূপ বদলে দিয়েছে কক্সবাজারের বিরানভূমি কুতুবদিয়াকে; সেচ ব্যবস্থা সম্প্রসারণের ফলে ফসল মৌসুমে এই এলাকায় সবুজের সমারোহ বাড়ছে; সেই সাথে প্রতি বছর বৃদ্ধি পাচ্ছে বোরো-আমন ধানের আবাদ ও উৎপাদন।
কুতুবদিয়া দেশের সর্ব দক্ষিণের একটি উপজেলা; কক্সবাজার জেলার চকোরিয়ার পাশাপাশি লম্বা ভূ-খণ্ড। ২১৫.৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই উপজেলার মোট জনসংখ্যা প্রায় দেড় লাখ। সাগরের মৎস্য আহরণ আর লবণ চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে এই এলাকার মানুষ। দীর্ঘকাল লবণ চাষ আর লবণ পানির কারণে কুতুবদিয়া পরিণত হয়েছে বিরাণভূমিতে। এখানকার অধিবাসীরা জানান, লবণ পানির আধিক্যের কারণে ধানসহ কোন ফসলের চাষই হতো না এই উপজেলায়। সেই সাথে খাবার পানির তীব্র সঙ্কট তো রয়েছেই। এই এলাকার পুকুরগুলোতে বৃষ্টির সময় যে মিঠা পানি জমা হয় তা দিয়েই মানুষজন গৃহস্থালী কাজ করেন; পানি নিয়ে হাহাকার এই এলাকার নিত্যনৈমিত্তিক বিষয় বলেও জানান এখানকার বাসিন্দারা।
সূত্র জানায়, এই উপজেলার বাসিন্দাদের আর্থসামাজিক উন্নয়নে বেশকিছু কার্যক্রম বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয়। এই মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সংস্থা বিএডিসি’র পূর্বাঞ্চলীয় সমন্বিত সেচ এলাকা উন্নয়ন (২য় পর্যায়) প্রকল্পের তত্ত্বাবধানে প্রাথমিকভাবে গভীর নলকূপ স্থাপন করে সেচ ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে কৃষকদের ফসল চাষে উদ্বুদ্ধ করে সবুজ কুতুবদিয়া গড়ার কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। এ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে কুতুবদিয়ায় ৮টি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়। ঐ বছর ২টি গভীর নলকূপের পানি দিয়ে সেচ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ধান চাষ করা হয়। পরবর্তীতে উপজেলার সবগুলো ইউনিয়ন আলী আকবর ডেইল, উত্তর ধুরুং, দক্ষিণ ধুরুং, কৈয়ার বিল, বড়ঘোপ ও লেমসিখালীতে নলকূপ স্থাপন করা হয়। সবুজ ধান দোলা দেয় কৃষকের মনে; ধান চাষে আগ্রহী হয়ে ওঠে এখানকার কৃষকরা; ফসল চাষের আশায় বুক বাধে উপকূলের জনগণ। এরপর চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৮টি গভীর নলকূপেই বারিড পাইপ স্থাপন করা হয়। বিস্তীর্ণ এলাকা চলে আসে সেচ কার্যক্রমের আওতায়। আগে যেখানে লবণ পানির অাধিক্যের কারণে ফসল চাষের চিন্তাই করা যেত না সেখানে সেচ কার্যক্রমের কারণে সবুজ ফসলে ভরে ওঠে কুতুবদিয়া। প্রকল্প সূত্র জানিয়েছে, গভীর নলকূপ দিয়ে সেচ কার্যক্রমের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে কুতুবদিয়ার ৮শ’ একর জমি বোরো ও আমন চাষের আওতায় আনা হবে যা থেকে প্রায় ২ হাজার ৭শ’ মেট্রিক টন অতিরিক্ত খাদ্য উৎপাদন হবে।
স্থানীয়রা জানান, গভীর নলকূপগুলো বদলে দিয়েছে তাদের চিরচেনা কুতুবদিয়াকে। এই এলাকার মানুষের আর্থসামাজিক ও জীবনমান উন্নয়নে গভীর নলকূপ বসিয়ে সেচ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করায় সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয়ের ভূয়ষী প্রসংশার পাশাপাশি কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর প্রতি তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা বলেন, যে এলাকা ছিল বিরানভূমি সেই এলাকা আজ সবুজের সমারোহে ভরে উঠেছে। এছাড়া, খাবার পানির সংকটও অনেকটা দূর হয়েছে বলেও জানান তারা।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সবুজ এই কুতুবদিয়ার রূপকার সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয় এবং বিএডিসি। ইতোপূর্বে ২০১০-১১ অর্থবছরে কক্সবাজার জেলা ক্ষুদ্রসেচ উন্নয়ন কর্মসূচির মাধ্যমে কুতুবদিয়ায় গভীর নলকূপ খননের চেষ্টা করেও কাঙ্ক্ষিত সফলতা আসেনি। এরপর বিএডিসি’র পূর্বাঞ্চলীয় সমন্বিত সেচ এলাকা উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে কুতুবদিয়ায় গভীর নলকূপ খনন, কমিশন ও বারিড পাইপ স্থাপন করা হয় যার সুফল ইতোমধ্যে ঐ এলাকার জনগণ পেতে শুরু করেছে। তারা আরো বলেন, এই কার্যক্রমের ফলে কুতুবদিয়া শুধু সবুজই হয়নি এখানকার জনগণ সেচের পাশাপাশি সুপেয় পানিও পাচ্ছে।
কুতুবদিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আওরঙ্গজেব মাতবর এ বিষয়ে দৈনিক পাঞ্জেরীকে বলেন, সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে গভীর নলকূপ স্থাপন ও সেচ কার্যক্রমে এখানকার কৃষকরা বিভিন্ন ফসল চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে এবং ফসলের আবাদও বাড়ছে। কুতুবদিয়ার কৃষি ও কৃষকের স্বার্থে এ কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
কুতুবদিয়ার উপজেলা চেয়ারম্যান এটিএম নুরুল বশর চৌধুরী দৈনিক পাঞ্জেরীকে বলেন, বিএডিসি’র প্রকল্পের মাধ্যমে স্থাপিত গভীর নলকূপে এই এলাকা সেচ সুবিধার আওতায় এসেছে। এর ফলে এখানকার কৃষকরা ধানসহ বিভিন্ন ফসল চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে এবং তাদের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটছে।
কুতুবদিয়ার উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আতিক উল্লাহ দৈনিক পাঞ্জেরীকে বলেন, গত বছর বিএডিসি’র প্রকল্পের মাধ্যমে স্থাপিত দু’টি নলকূপ দিয়ে সেচ কার্যক্রম চালানো হয়েছে এবং চলতি বছর আরো ৬টিসহ মোট ৮টি নলকূপের পানি দিয়ে সেচ কার্যক্রম চলছে। এই এলাকায় আগে সামান্য পরিমাণ ফসল উৎপাদিত হতো উল্লেখ করে তিনি বলেন, নলকূপ দিয়ে সেচ কার্যক্রম চালুর ফলে বর্তমানে এখানে বোরোর আবাদ বাড়ছে। চলতি মৌসুমে উপজেলায় বোরো ধান ব্রি-২৮, ৪৭, বিনা-৮, ১০ চাষ হয়েছে বলেও জানান তিনি। এ ছাড়া সেচ এলাকা সংলগ্ন অনেক জমিতে অতিরিক্ত ফসল হিসেবে কৃষকরা তরমুজ, খিরাই, ফুলকপি, বাঁধাকপি চাষও করছেন। এলাকায় সেচ সুবিধা চালুর ফলে আগামী মৌসুমগুলোতে বোরোসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ ও উৎপাদন ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
জানতে চাইলে পূর্বাঞ্চলীয় সমন্বিত সেচ এলাকা উন্নয়ন প্রকল্প (২য় পর্যায়)’র প্রকল্প পরিচালক মাহবুব মুনীর দৈনিক পাঞ্জেরীকে বলেন, কুতুবদিয়া ছিল লবণ চাষের বিরাণভূমি। এখানে গভীর নলকূপ স্থাপনের মাধ্যমে সেচ সুবিধা চালুর করে ফসল আবাদের প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এতে করে এখানে বিভিন্ন ফসল বিশেষ করে বোরো ধানের উৎপাদন বাড়ছে যা স্থানীয় কৃষকদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নসহ দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে বড় ভূমিকা রাখবে।
এ বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা উইংয়ের যুগ্ম প্রধান মো. মনজুরুল আনোয়ার দৈনিক পাঞ্জেরীকে বলেন, কুতুবদিয়ার পানির স্তর অনেক নিচে। এখানে আগে সামান্য পরিমাণ ফসল উৎপাদিত হতো শ্যালো মেশিনের পানি দিয়ে; আবার কিছু এলাকায় শ্যালো মেশিনে পানিও উঠতো না। এই প্রেক্ষাপটে বিএডিসি’র প্রকল্পের মাধ্যমে গভীর নলকূপ স্থাপন করে কৃষকদের সেচ সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। অত্যন্ত সফল এই কার্যক্রমের ফলে এই এলাকার কৃষি ও কৃষক বেশ উপকৃত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।