নিজস্ব প্রতিবেদক : দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করার জন্য নিজেদের মধ্যে অভিযোগ, প্রতিহিংসা বন্ধ করে ঐক্যবদ্ধ হতে নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
মঙ্গলবার দুপুরে এক প্রতিবাদ সভায় তিনি বলেন, দলে পদ পেতে নিজেদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে। কিন্তু সেটি যদি প্রতিপক্ষে রূপ নেয়, তাহলে ক্ষতি। একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে দোষারোপ বন্ধ করে ঐক্যবদ্ধ হোন। তাহলেই দল সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী হবে।
গাজীপুরের মেয়র এম এ মান্নানের মুক্তি দাবিতে এই সভার আয়োজন করে ‘মান্নান মুক্তি পরিষদ’ নামের একটি সংগঠন।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে একটি নির্বাচিত সংসদ প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপি আন্দোলন করছে। এ জন্য নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি করছে। এটি ন্যায্য দাবি। কারণ এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে না।
সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আশঙ্কায় বিএনপির দাবি মানছে না দাবি করে দলটির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, এই সরকার জানে বিএনপির দাবি মানলে তারা আর ক্ষমতায় থাকতে পারবে না।
সরকারের ‘অন্যায়ের’ বিরুদ্ধে জনগণকে বোঝাতে নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান নজরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘জনগণকে বোঝাতে হবে, এই সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। সে জন্য তারা জনগণের জন্য কোনো কাজ করবে না। তারা সব প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দিয়েছে, আরো করবে। ব্যাংক লুট হয়েছে। সব জায়গায় একই অবস্থা।’
তিনি আরো বলেন, ‘জয়ের (সজীব ওয়াজেদ জয়) বিরুদ্ধে আড়াই হাজার কোটি টাকা সন্দেহজনক লেনদেনের যে অভিযোগ উঠেছে, সরকারের উচিত তার তদন্ত করা। কারণ, জনগণ এই টাকার উৎস সম্পর্কে জানতে চায়।’
প্রতিবাদ সভায় অংশ নিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, গণতন্ত্র, মানবাধিকার, আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ সবকিছু এই সরকার খেয়ে ফেলেছে। এরই ধারাবাহিকতায় সিটি করপোরেশন লুট করার জন্য সেখানকার নির্বাচিত মেয়রদের সরিয়ে দিচ্ছে। সে জন্য এম এ মান্নানসহ নির্বাচিত সব মেয়রকে কারাগারে ভরে রাখা হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সংকুচিত করতে প্রেস কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন আইন প্রণয়ন করতে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে গণতন্ত্রের শেষ স্তম্ভটুকুও ধ্বংস হয়ে যাবে বলে মনে করেন তিনি।
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ও গাজীপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী সায়েদুল আলম বাবুলের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সহ দপ্তর সম্পাদক শামীমুর রহমান শামীম। এ ছাড়া গাজীপুরের স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।

