পাঞ্জেরী ডেস্ক : বাংলাদেশের শিল্পসাহিত্য ও সংস্কৃতিকে ধর্মান্ধতার মাধ্যমে পদদলিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ধর্মান্ধরা দীর্ঘদিন ধরেই সংস্কৃতিকে গিলে ফেলার চেষ্টা করছে। দেশের তরুণ-তরুণীরা যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, তাতে ধর্মান্ধরা কোনোভাবেই বাংলার সংস্কৃতিকে ধ্বংস করতে পারবে না।
গত শনিবার নিউইয়র্কের বাংলাদেশ কনস্যুলেট ভবনে বাংলা বর্ষবরণ উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘দেশে বাংলা নববর্ষ পালন এখন সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, এটি সমগ্র বাঙালি জাতির উৎসব। একসময় ধর্মীয় গোঁড়ামির মধ্য দিয়ে আমাদের জাতীয় এ উৎসব পালনকে নানাভাবে দমন করার চেষ্টা হয়েছে।’
শিল্পমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের তরুণ প্রজন্ম আজ এসব গোঁড়ামি ও কুসংস্কার থেকে বেরিয়ে এসেছে। তারা এখন সারাদেশেই সম্মিলিতভাবেই বৈশাখ পালন করছে। ধর্মান্ধরা বারবার প্রতিহতের চেষ্টা করেও পারছে না আর পারবেও না। বাংলার সংস্কৃতি উৎসবে তরুণরা আজ সোচ্চার হয়ে উঠেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আর বদ্ধ ঘরে নয়, আগামীতে নিউইয়র্কেও যেন বাংলাদেশ কনস্যুলেটের মাধ্যমে বাইরে খোলা মাঠে বৈশাখ উদযাপন করা হয়। যাতে করে সকল প্রবাসীরা অংশগ্রহণ করতে পারে।’
সাবিনা শারমিন নিহারের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত ও সমাপনী বক্তব্য দেন নিউইয়র্কের কনসাল জেনারেল শামীম আহসান এনডিসি। তিনি নববর্ষ পালনের তাৎপর্য তুলে ধরে অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী কাদেরী কিবরিয়া, প্রতিমা সাহা, সাইফ উল্লাহ পারভেজ, তাসনিম এ জিন্নাত, মনিকা রায় ও তার দল।
কবিতা আবৃত্তি করেন শামীমা সুলতানা তন্বি, সোহেল গাজী, তনিমা সাহা, নাবিহা নওশিন কাশফি ও তাহমিদ আল হাসান। স্বরলিপি ও বাফার শিশুশিল্পীরা বেশ কয়েকটি গানে নৃত্য পরিবেশন করেন।
ডালিয়া চৌধুরীর নেতৃত্বে স্বরলিপির অংশগ্রহণকারী শিশুশিল্পীরা হল— উবিচা, রিমঝিম, সুপ্তি, পুজা, শুভ্র ও অথৈ এবং ফরিদা ইয়াসমিনের নেতৃত্বে বাফা’র শিশুশিল্পীরা পরপর বেশ কয়েকটি গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেন।
এ ছাড়াও আমাদের ‘দেশটা স্বপ্নপুরী’ ছোটদের কোরাস গানে অংশ নেন সাদমান ইসলাম,তাহমিদ আল হাসান, নাবিহা নওশিন কাশফি, তনিমা সাহা, ফাহিম হাসান, রেদোয়ান রাফি ও সোনিয়া রহমান।
এসো হে বৈশাখ কোরাস গানে কনস্যুলেট ও স্থায়ী মিশনের পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন। তারা হলেন— পেন্ডোরা চৌধুরী, তাসনিম এ জিন্নাত, চৌধুরী সুলতানা পারভিন, ফাইয়াজ মুর্শেদ কাজী, সৈয়দা জেসমিন সুলতানা মিল্কী, সেলিমা আশরাফ, সর্বানী সাহা, আমিনা রহমান, চন্দন সাহা, শেখ তারেক আলী, মনির হোসেন, রফিকুল ইসলাম, কবির হোসেন, সোহেল গাজী এবং অতিথি শিল্পী কাদেরী কিবরিরা। শিল্পীদের তবলায় সঙ্গত দেন পিনাক পাণি গোস্বামী।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী চিত্রশিল্পী দম্পতি শামীম বেগম ও খুরশিদ আলম সেলিমের ঋতু পরিবর্তন বিষয়ভিত্তিক আঁকা একটি ক্যানভাস বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলকে উপহার দেয়া হয়। কনস্যুলেটের পক্ষে কনসাল জেনারেল ও তার স্ত্রী পেন্ডোরা চৌধুরী এ উপহারটি গ্রহণ করেন।

