ঢাকাFriday , 15 April 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ভোগবিলাস ও পদের লোভে বারবার ব্যর্থ বিএনপি

Link Copied!

Goesssorনিজস্ব প্রতিবেদক : জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে বিএনপি ব্যর্থ বলে স্বীকার করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। আর এ জন্য তিনি দলের নেতাদের ভোগবিলাসী জীবনযাপন ও পদের প্রতি লোভকে দায়ী করেছেন তিনি।
তিনি বলেছেন, ‘ভোগবিলাসী জীবনযাপনে যারা অভ্যস্ত, তাদের দ্বারা মানুষের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়।’
এ ছাড়া বিএনপি নেতাদের দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ারও ইঙ্গিত দেন। বলেন, ‘দুর্নীতিমুক্ত মানুষ ছাড়া দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই সম্ভব নয়। সুতরাং ডানে-বামে তাকিয়ে দেখতে হবে, ওই উপসর্গে আক্রান্ত কোনো লোক আছে কি না। যদি থাকে, তাদেরকে দিয়ে আন্দোলনের মাঝপথে আঁতাত হয়ে যেতে পারে।’
আক্ষেপ করে গয়েশ্বর বলেন, ‘সরকারের দুঃশাসন থেকে মুক্তি পেতে জনগণ বিএনপির দিকে তাকিয়ে আছে। অথচ আমরা রাজপথে না ছুটে পদের পেছনে ছুটছি। সে কারণে জনগণের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে আমরা বারবার ব্যর্থ হচ্ছি।’
শুক্রবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে গণসংস্কৃতি দলের এক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দলটির দশম প্রতিষ্ঠা দিবস উদযাপন উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়।
গয়েশ্বর রায় বলেন, ‘স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্য যারা জীবন উৎসর্গ করলেন, তারা হৃদয়ের মণিকোঠায় থাকলেও আমরা তাদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করতে পারিনি। সেজন্য আমরা আজ দুর্দশায় নিমজ্জিত।’
তিনি আরো বলেন, ‘এখন রাজপথ বলতে কোনো পথ নেই। মানুষ খুব আশা করে আছে আমাদের ওপর। কিন্তু আমরা পথের সন্ধান করি না, সব সময় ব্যস্ত থাকি পদের সন্ধানের জন্য। পদের প্রতিযোগিতায় রাজপথ শূন্য। সুতরাং পদই যেখানে মানুষকে বড় করে, সেখানে রাজপথ শূন্য থাকবে, এটাই স্বাভাবিক।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, ‘জাতি আজ নিঃশ্বাস ফেলতে পারছে না। তার চলনে, কথায় সবকিছুতে আজ বাধা। সেখানে আমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে আমরা কতটুকু সফল হচ্ছি? আমরা বারবার চেষ্টা করছি, কিন্তু লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারছি না। কেন? এর জবাবটা আমাদের খুঁজে বের করতে হবে। তবে শুধু জবাব দেয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। পদ বিতরণ আর পদের সন্ধানে শুধু ব্যস্ত থাকলে হবে না, রাজপথের লোকদের মূল্যায়ন করতে হবে। পথের (রাজপথ) মানুষকে পদ দিতে হবে, তাহলে আন্দোলন সফল হবে, মানুষের আকাঙ্ক্ষাও পূরণ হবে।’
আন্দোলনের ব্যর্থতা প্রসঙ্গে গয়েশ্বর রায় বলেন, ‘আমাদের চেষ্টার মধ্যে যদি ত্রুটি থাকে, তাহলে আন্দোলন কখনোই সফল হবে না। দেশবাসী আমাদের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। সুতরাং আমাদের নিজস্ব প্রচেষ্টা দিয়ে জনগোষ্ঠীর আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়ন করতে হবে।’
দলের নেতা-কর্মীদের দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ার ইঙ্গিত দিয়ে গয়েশ্বর আরো বলেন, ‘আমাদের এবারের কাউন্সিলের স্লোগান ছিল— দুর্নীতি দুঃশাসন হবেই শেষ গণতন্ত্রের বাংলাদেশ। দুর্নীতি অনেকভাবে অনেক জায়গায় হয়। যারা করতে পারে, তারা ক্ষমতায় থেকে যেমন পারে তেমনি ক্ষমতার বাইরে থেকেও পারে। ডানে-বামে তাকিয়ে দেখতে হবে, ওই উপসর্গে আক্রান্ত কোনো লোক আছে কি না।’
নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমরা এখন বিরোধী দলে আছি। আমাদের সীমাবদ্ধতাও আছে। এটি মেনে নিয়েই বলছি, আমাদেরকে আন্দোলন করতে হবে জেতার লক্ষ্য নিয়ে। সেখানে মরতে হয় মরব— এই নীতিকে ধারণ করেই অতীতে সফল আন্দোলন হয়েছে।
‘ভবিষ্যৎ আন্দোলন সফলে আমাদেরকেও এই নীতি অবলম্বন করতে হবে। আমরা মরব না, কিন্তু বেহেশতে যেতে চাইব। সেটি হবে না। ঠিক তেমনি আমরা আন্দোলনে রাজপথে নামব না, আবার আন্দোলনের সফলতা চাইব— সেটিও হবে না। এ ব্যাপারে সংকল্পবদ্ধ হতে পারলে সকল প্রশ্নের জবাব একদিন আসবেই। অন্যথায় এই জবাবগুলো জমে থাকতে থাকতে একদিন নিঃশেষ হয়ে যাবে।’
গণ সংস্কৃতি দলের উপদেষ্টা মুক্তিযোদ্ধা ইমতিয়াজ হোসেন চপলের সভাপতিত্বে এতে অন্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন— ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাবেক প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, ঢাবির অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া, বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, এনডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য মঞ্জুর হোসেন ঈসা, আয়োজক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক এস আল-মামুন, দেশনেত্রী সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল করিম ভুইয়া প্রমুখ।