নিজস্ব প্রতিবেদক : জিডিপি নিয়ে বিএনিপর মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের করা মন্তব্য ‘ডাহা মিথ্যা’ বলে উল্লেখ করেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ।
বুধবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। বাংলাদেশের জিডিপি নিয়ে বিএনপি মহাসচিবের করা মন্তব্যের জবাবে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বিশ্ব ব্যাংকের উদ্বৃতি দিয়ে বিএনপি নেতা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যে মন্তব্য করেছেন, তা ডাহা মিথ্যা কথা। বিএনপি ধারাবাহিকভাবে যে মিথ্যাচারের রাজনীতি করে আসছে, তারই অংশ হিসেবে জিডিপি নিয়ে এমন শঙ্কা প্রকাশ করেছেন ফখরুল সাহেব।’
তিনি আরো বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে যে বছর হত্যা করা হয়, সে বছর জিডিপি ৭ শতাংশের বেশি হওয়ার কথা ছিল। স্বাধীনতার পর এই প্রথম ৭.০৫ শতাংশ জিডিপি অর্জিত হতে যাচ্ছে। আর এটিই বিএনপির গাত্রদাহের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা মিথ্যাচারের পাশাপাশি নানা ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করছে।’
বিএনপি নেতারা মানসিকভাবে অসুস্থ দাবি করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘এই দলটি (বিএনপি) দেশের মঙ্গল চায় না। বিএনপির আমলে বাংলাদেশ পরপর ৫ বার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়। আর উন্নয়নে অবদানের জন্য জননেত্রী শেখ হাসিনা চ্যাম্পিয়ন অব দ্যা আর্থ নির্বাচিত হন।’
সংবাদ মম্মেলনে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ, কার্যনির্কাহী কমিটির সদস্য সুজিত রায় নন্দীসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার বেলা সোয়া ১১টায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে এবারই দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি ৭ শতাংশের ঘরে যাবে। এ দাবি সঠিক নয়। ২০০৬-২০০৭ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হয়েছিলো ৭.০৬ শতাংশ। পরিসংখ্যান ব্যুরো অনেকটা তাড়াহুড়ো করে এই হিসাবটি প্রকাশ করেছে। পৃথিবীর অনেক দেশে বাংলাদেশের বিশাল অংকের পুঁজি পাচার হচ্ছে। পুঁজি পাচার জাতীয় অর্থনীতিকে রক্তশূন্য করে ফেলছে। সরকার রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ বাড়িয়ে ব্যক্তিখাতে বিনিয়োগ ঘাটতি পূরণের কৌশল নিয়েছে।’
বিএনপি মহাসচিব আরো বলেন, ‘পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী মাথাপিছু আয় গত অর্থবছরের ১৩১৬ ডলার থেকে চলতি অর্থ বছরের ১৪৬৬ মার্কিন ডলারে বৃদ্ধি পেয়েছে। মাথাপিছু আয় ব্যাপক জনগোষ্ঠীর প্রকৃত কল্যাণের সূচক নয়। এর জন্য জানা প্রয়োজন আয় বৈষম্যের সূচক। বাংলাদেশে আয় বৈষম্য বাড়ছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জতীয় আয় নির্ধারণে ভিত্তি বছর পরিবর্তন করার ফলে বর্তমান দলীয় সরকারের আমলে ২০০৯ সালে মাথা পিচু আয় ১২১ ডলার বৃদ্ধি পেয়েছিল, যা নেহাতই পরিসংখ্যানগত চমক। বাস্তবে সাধারণ মানুষের অবস্থার কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। এ কারণেই পরিসংখ্যানের চমকে বিভ্রান্ত হওয়ার সুযোগ নেই।’

