ঢাকাSunday , 3 April 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঝড়ে স্কুল-বসত ঘর লণ্ডভণ্ড: ত্রাণ পায়নি ক্ষতিগ্রস্তরা

Link Copied!

Ghurni-Jhoorনোয়াখালী প্রতিনিধি : ১২দিন পেরিয়ে গেলেও সরকারি বা বেসরকারি কোনো দপ্তর থেকে ত্রাণ বা ক্ষতিপূরণ পায়নি নোয়াখালীর সদর উপজেলার অশ্বদিয়া ইউনিয়নে কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো ও বিদ্যালয়টি।
ওই এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত বক্তারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রায় আগের মতোই রয়েছে। মেরামত না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে খোলা আকাশের নিচে। শুধু কিছু বেঞ্চ সাজিয়ে রাখা হয়েছে। তার সামনে উড়ছে জাতীয় পতাকাটি। শিক্ষার্থীরা প্রচণ্ড রোদের মধ্যে খোলা আকাশের নিচে ক্লাস করছে। উপস্থিতিও ছিল কম। এভাবে গত কয়েকদিন ক্লাস চলছে বিদ্যালয়টিতে।
এছাড়া ঝড়ের কবলে পড়ে ঘর হারিয়ে কোনো মতে ঝুপড়ি ঘর তোলে বসবাস করছে এলাকার ক্ষতিগ্রস্তরা। লণ্ডভণ্ড বসত ও রান্নাঘরগুলো এখনো ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১৯ মার্চ ভোরে নোয়াখালীর সদর উপজেলার অশ্বদিয়া ইউনিয়নে আঘাতহানে কালবৈশাখী ঝড়। এতে বক্তারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ওই ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক বসত ও রান্না ঘর লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। ওইদিন বিকেলের দিকে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করা হলেও ক্ষতিগ্রস্ত অপর বাড়িগুলো এখন পর্যন্ত কেউ দেখে যায়নি।
পরে উপজেলা প্রশাসন থেকে বিদ্যালয়টির জন্য তিন বান্ডেল ঢেউটিন ও নগদ ৯ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। কিন্তু বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছেন ওই টাকা দিয়ে কোনোভাবেই বিদ্যালয় দাঁড় করানো সম্ভব নয়।
বক্তারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম জানান, বরাদ্দের পরিমাণ অপ্রতুল হওয়ায় বিদ্যালয়ের খুঁটিগুলোও দাঁড় করানো সম্ভব হয়নি।
বিদ্যালয়ের ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা জানায়, ‘যেদিন তুফান হয়েছিল সেদিন ক্লাস হয়নি। এর কয়েকদিন পর থেকে ক্লাস হলেও আমাদের শরীর রোদে পুড়ে যায়। এ জন্য দুপুর ১২টা বাজলেই আমরা সবাই চলে যাই। যখন আকাশ মেঘলা করে তখন ভয় লাগে। যদি বৃষ্টি আসে তাহলে সবাইকে ভিজতে হবে।’
ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকজন বলেন, ‘ঝড়ের কবলে পড়ে তাদের বসত ও রান্না ঘর ভেঙে গেছে। স্থানীয় চেয়ারম্যান, মেম্বারকে জানানো হলেও কেউ তাদের কোনো সহযোগিতা করেনি। তবে আগামী দিনে নির্বাচন করতে পারে এমন একজন কয়েকজনকে আর্থিক সহযোগিতা করেছে।’
সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম বলেন, ‘ইতোমধ্যে স্কুলটির জন্য নগদ ৯ হাজার টাকা ও তিন বান্ডেল ঢেউটিন বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ঢাকা থেকে আরো কিছু অনুদান পাওয়ার কথা, পেলে স্কুলটির মেরামত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এছাড়া জেলা প্রশাসন থেকে এলাকার ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ১৫ হাজার টাকা ও প্রত্যেকের জন্য ৫ কেজি করে চাল বরাদ্দ হয়েছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এগুলো বিতরণ করা হবে।’
প্রসঙ্গত, গত ১৯ মার্চ শনিবার ভোর ৪টা থেকে হঠাৎ জেলার বিভিন্ন স্থানে কালবৈশাখী ঝড় শুরু হয়। একই সাথে ব্যাপক শিলা বৃষ্টি দেখা দেয়। ঝড়ে ও শিলা বৃষ্টিতে জেলা সদর উপজেলার অশ্বদিয়া ইউনিয়নের বক্তারপুর, মাছিমপুর ও মুকিমপুরে অন্তত ৫০টি কাঁচা টিনের বসত ও রান্না ঘর লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। এছাড়া কড়ই, নাটাই, সুপারি ও নারিকেল গাছসহ অন্তত দুই শতাধিক বিভিন্ন জাতের গাছ উপড়ে পড়েছে এবং ভেঙে গেছে।