নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বক্তব্যের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেছেন, ‘আগে বলেন- কোন বল আমাদের কোর্টে?’
বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে এক অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেন, ‘বল এখন শাসক দলের কোর্টে। তারা সংঘাতের পথ ছেড়ে সংলাপের পথে সমস্যার সমাধান করবে বলে আশা করি।`
এর প্রেক্ষিতে শুক্রবার রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের দ্বিবার্ষিক সম্মেলন-২০১৬ এর অনুষ্ঠানে এ প্রশ্ন রাখেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।
আওয়ামী লীগের এ সিনিয়র নেতা বলেন, ‘খালেদা জিয়া কালকে বিরাট প্রশ্ন করেছেন। তিনি প্রশ্ন করেছেন- বল এখন শেখ হাসিনার কোর্টে। তাই আমাদের নাকি উত্তর দিতে হবে। তার আগে আমি জিজ্ঞেস করি আপনাকে- কোন বল আমাদের কোর্টে? আপনি বড় খেলোয়াড়। কত জায়গায় খেলেন। নওয়াজ শরীফের সঙ্গে খেলেন। কখনো খেলেন হকি, কখনো ক্রিকেট, কখনো ভলিবল, কখনো ফুটবল।
‘আর এখন কোনটা খেলতে চান। ইউপি নির্বাচন চলছে। তাই আপনি কোন ফুটবলটা কোথায় হারিয়ে আইছেন। আর আপনি ফুটবলটা পাইছিলেন কোথায়?’
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত আরো বলেন, ‘ফুটবল পাইছিলেন ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করে। জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করে। দেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে ধিকৃত এবং বিকৃত করে। সেই ফুটবল খোঁজেন? ওই ফুটবল যদি খোঁজেন, তাহলে আমি কইতে পারি- ওই ফুটবল ইহজীবনেও আপনি পাবেন না। পাবেন না, পাবেন না। ওটা চলে গেছে। ওটা হারিয়ে গেছে। এটা আপনি বুঝতেই পারছেন।
‘আর যদি ফুটবল বলতে আপনি জাতীয় নির্বাচন চান? নির্বাচন হবেই। আমরা কি নির্বাচনে অবিশ্বাস করি? আমরা সংবিধানে বিশ্বাসী। সংবিধান অনুযায়ী যথাসময়ে যথারীতি এবং নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনে আপনিও অংশগ্রহণ করবেন। আপনাকে বাদ দিয়ে নির্বাচন হবে না। শুধু একটা কথা বইল্যা দেই- আপনি যে ভুলটা একবার করেছেন নওয়াজ শরীফের কথায়, আইএসআই’র কথায়, এটা আর আপনি কইরেন না।’
ইউপি নির্বাচন প্রাণহানি ও সহিংসতায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘গতকালকেও নয়জন মানুষ মারা গেছে। এদের রক্ষা আমাদের নির্বাচন কমিশন করতে পারেন না। আমাদের নির্বাচন কমিশন বিশ্বের সবচেয়ে বেশি শক্তিধর নির্বাচন কমিশন। তিনি ইচ্ছা করলে নির্বাচন বাতিলও করতে পারেন, গ্রহণও করতে পারেন। যে কাউকে চাকরিচ্যুত করতে পারেন। কিন্তু এটা কেমন? এ লড়েও না, চড়েও না, আগাও না, পিছাও না। আরে একটা কিছু কর, একটা কিছু কর।’
আওয়ামী লীগ মানেই সেক্যুলার সংগঠন না। সমাজের প্রত্যেকটি শক্তির সমন্বয়ে বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া আওয়ামী লীগ সেই শক্তিকেই আহরণ করে- দাবি করে তিনি বলেন, ‘আজকের যে শক্তি, তা প্রতি স্তরে স্তরে ক্ষয়ে ক্ষয়ে তৈরি হয়েছে। এই শক্তিকে কেউ সরাতে পারবে না। যখনি সেক্যুলার শক্তি থেকে বিচ্যুত হয়েছে। তখনি কিন্তু বিপদ আসছে। খালেদা জিয়া আজকে কি বিপদে পড়ছে। অন্য কারও নাম বললাম না। এরাও এখন কাতরাইতেছে।’
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি কাজল দেবনাথের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির সদস্যসচিব তাপস কুমার পাল। সভা পরিচালনা করেন আয়োজক সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্মল চ্যাটার্জি।
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত অতিথি ও সংশ্লিষ্ট নেতাদের নিয়ে পায়রা উড়িয়ে সম্মেলনের শুভ উদ্ধোধন ঘোষণা করেন। সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন শেষে দ্বিতীয় পর্বে দ্বিতীয় অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে।

