ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি : আশুগঞ্জে নির্বাচন পরবর্তী দুই দিনব্যাপী সহিংসতায় দু’দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে অন্তত শতাধিক নারী-পুরুষ আহত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেল ও শুক্রবার সকালে এ সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের বেশকিছু বাড়ি-ঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে দাংগাবাজরা।
পুলিশ ও এলাকাবাসীরা জানায়, ২২ মার্চ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দুর্গাপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় মনোনয়ন পান জিয়াউল করিম খান সাজু। এদিকে, একই এলাকা থেকে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হন মোয়াজ্জেম হোসেন মাজু মিয়া। এই নির্বাচনে দুর্গাপুর গ্রামের রোমান, মগল মিয়া মাজু মিয়ার বিরোধিতা করে আসছিল। এ নিয়ে মাজু মিয়ার সঙ্গে রোমান ও মগল মিয়ার বিরোধ চলে আসছিল।
চেয়ারম্যান পদে জিয়াউল করিম খান সাজু নির্বাচিত হওয়ার পরে দু’পক্ষের বিরোধিতা আরো আরো বাড়তে থাকে। এরই জের ধরে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুরু হয় সংঘর্ষ। সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ ব্যাপক লাঠিচার্জ, রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে বিকেল ৪টায় সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় উভয় পক্ষের বেশকিছু বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে দাংগাবাজরা। এ সময় উভয় পক্ষের কমপক্ষে অর্ধশতাধিক লোকজন আহত হয়।
এরই জের ধরে শুক্রবার সকালে আবারো দু’পক্ষের লোকজন সকাল ৯টা থেকে আবারো সংঘর্ষে নেমে পড়ে। সংঘর্ষটি পুরো এলাকায় বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে যায়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুপুর ১২টায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। তিন ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে উভয় পক্ষের প্রায় অর্ধশতাধিক লোকজন আহত হয়েছে।
আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালসহ জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের নাম পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন জানান, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। পরবর্তী সহিংসতা এড়াতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

