
রাজধানীর খামারবাড়িতে ফ্লাওয়ার ফেস্টের উদ্বোধন করছেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী এমপি। পাশে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ মো. হামিদুর রহমান এবং কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের মহাসচিব কৃষিবিদ মো. মোবারক আলীসহ আমন্ত্রিত অন্যান্য অতিথিবৃন্দ -পাঞ্জেরী
নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশে উৎপাদিত ফুল নিয়ে প্রথমবারের মতো শুরু হলো দুইদিনব্যাপী বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার ফেস্ট ২০১৬। আজ মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী এমপি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মঈনউদ্দিন আবদুল্লাহ, ইউএসএআইডি বাংলাদেশ ফিড দ্য ফিউচার টিম লিডার মার্ক টেজেনফিল্ড, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ মো. হামিদুর রহমান।
বিএফএস’র সভাপতি আব্দুর রহিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ইউএসএআইডি’র এভিসি প্রকল্পের চিফ অব পার্টি মাইকেল ফিল্ড। ‘ফুল চাষের সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএফএস’র উপদেষ্টা ড. গয়ানাথ সরকার।
কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, আমরা ছোটবেলায় বিশিষ্ট কোন ব্যক্তি স্কুলে আসলেই শুধু ফুল দেখতে পেতাম, কিন্তু এখন ফুলের বহুবিধ ব্যবহার হচ্ছে। ফুল চাষীরা তাদের জীবিকা নির্বাহ করছে ফুল চাষ করে। অনেক মানুষ এই সেক্টরের সাথে জড়িত। আমি মনে করি কৃষি বিজ্ঞানীদেরও অনেককিছু করার আছে।
বিএফএস’র সভাপতি আব্দুর রহিম বলেন, আমাদের দেশি ফুলের বাজার সম্প্রসারণের অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। ঢাকায় স্থায়ী পাইকারি বাজার, ফুল নিয়ে গবেষণাগারসহ বিভিন্ন সহযোগিতা পেলে আমরা অর্থনীতিতে আরও বেশি অবদান রাখতে পারবো। সরকার আমাদের নিয়ে যে প্রকল্প গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার দ্রুত বাস্তবায়ন চাই।
বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার ফেস্ট ২০১৬ আয়োজনে সহযোগিতা করছে ইউএসএআইডি’র এভিসি প্রকল্প, বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটি (বিএফএস), deshiphool.com । ২৯ ও ৩০ মার্চ খামারবাড়িস্থ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
দুইদিনব্যাপী মেলায় ফুল উৎপাদক, ফুল ব্যবসায়ী (পাইকারি ও খুচরা), ফুল সেক্টরের সংশ্লিষ্ট সংগঠন, সাজসজ্জা বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান (ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট) অংশগ্রহণ করবেন। মেলায় ২০টি প্রদর্শনী স্টল থাকছে।

বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করছেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী এমপি -পাঞ্জেরী
ফেস্টিভ্যালে গোলটেবিল বৈঠক, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, ফুলের প্রদর্শনী, ফুলের উপর ফ্যাশন শো ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, অংশগ্রহণকারীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন রয়েছে।
এক সময় শুধু সৌখিনতায় মানুষ বাড়ির আঙ্গিনায় ফুলের গাছ রোপণ করতো এবং পূজো পার্বণেই ফুলের ব্যবহার হতো। বর্তমানে বাংলাদেশে ফুল অর্থকারী ফসল হিসাবে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন ও বিপণন হচ্ছে। ১৯৮৩ সাল থেকে ৩০ শতক জমিতে রজনীগন্ধা ফুল চাষের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে ফুল উৎপাদন শুরু হয়। বর্তমানে দেশে ২৩টি জেলায় প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে প্রায় ১৬ হাজার কৃষক সরাসরি বিভিন্ন জাতের ফুল উৎপাদনের সাথে জড়িত। সবমিলিয়ে প্রায় ২০ লক্ষ মানুষ এই সেক্টরের সাথে পরস্পর জীবন জীবিকায় নিয়োজিত। হাজার হাজার শিক্ষিত বেকার ফুল চাষ ও ফুল ব্যবসা করে বেকারত্ব দূর করেছে। দেশের উৎপাদিত ফুল দেশের চাহিদা মিটিয়ে কিছু কিছু বিদেশেও যাচ্ছে। বছরে প্রায় ৮০০ কোটি টাকার ফুল আমাদের দেশে উৎপাদিত হচ্ছে।
আয়োজকরা জানান, ফুল উৎপাদন ও বিপণন কার্যক্রমে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ অব্যাহত আছে। সরকারি-বেসরকারি জাতীয় অনুষ্ঠানসহ বিয়ে, জন্মদিন ও বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে ফুলের ব্যবহার ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখন আধুনিক পদ্ধতিতে নতুন জাতের ফুল উৎপাদন ও বাজারজাত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অনেক কোম্পানির সাথে পরিচিতি ও স্থানীয় সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সম্পর্ক স্থাপিত হচ্ছে। দেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ফ্লোরিকালচারের ওপর একটি বিভাগ স্থাপিত হয়েছে। দেশি ফুলের বৈচিত্র্যের সাথে মানুষের পরিচয় আরও বাড়ানোর উদ্দেশ্যে ও ফুলের সামগ্রিক ব্যবহার আরও বৃদ্ধি করা এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটি (বিএফএস) এই মেলার আয়োজন করেছে।
দেশের মানুষ এখন প্রচুর ফুল ব্যবহার করছে। এজন্য আমাদের দেশের ফুল চাষ, ফুলের বাজার দিন দিন সম্প্রসারিত হচ্ছে। তবে ফুলের গুণগত মান বজায় রাখা এবং বাছাইকৃত প্যাকেজিং ফুল ক্রয়-বিক্রয়ের প্রচলন নাই বললেই চলে। ফুল সেক্টরকে টেকসই, শক্তিশালীকরণ ও রপ্তানীযোগ্য করতে হলে আন্তর্জাতিক বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় আমাদের দেশের উৎপাদিত ফুলও আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগের মাধ্যমে উৎপাদক, ব্যবসায়ী ও ভোক্তা সকলেরই মানসম্মত বাছাইকৃত প্যাকেজিং ফুল ব্যবহারের প্রতি অভ্যাস গড়ে তোলার প্রয়োজন, এজন্যই মেলার আয়োজন। এই আয়োজনের যাত্রা শুরু হলো, প্রতি বছরই এই ধরনের ফেস্টিভ্যালের আয়োজন করা হবে।

