রাজশাহী প্রতিনিধি : রাজশাহী মহানগর জাতীয় পার্টির (জাপা) সভাপতি সাইফুল ইসলাম স্বপন ও সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ সেলিমের বিরুদ্ধে অনাস্থা এনেছেন কমিটির সংখ্যাগরিষ্ট সদস্য।
শনিবার বিকেলে এক তলবি সভায় কমিটির ১১১ সদস্যর মধ্যে ৯১ জন রাজশাহী মহানগর সভাপতি ও সম্পাদকের প্রতি অনাস্থা এনেছেন।
রাজশাহী মহানগরীর জাপার সহসভাপতি লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে এ তলবি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা পরিচালনায় ছিলেন রাজশাহী মহানগর জাপার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান ডালিম।
বক্তারা জানান, ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর সম্মেলনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ি ১১১ জন সদস্যবিশিষ্ট রাজশাহী মহানগর জাপার কমিটি ঘোষণা করা হয়। ওই কমিটিতে সভাপতি পদে সাইফুল ইসলাম স্বপনকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে ইউসুফ সেলিমকে নির্বাচিত করা হয়।
স্বপন ও সেলিম উভয়ে ওই কমিটি ঘোষণার আগেও জাপার কোনো পদেই ছিলেন না। হঠাৎ করেই জাপার নেতা হিসেবে রাজশাহী মহানগরীর শীর্ষ দুইটি পদ নিয়ে আবির্ভুত হন তারা।
বর্তমানে ওই দুই নেতা জাপার নাম ভাঙিয়ে অফিসে বাণিজ্য করছেন। চাকরি দেয়া, দলে বড় পদ দেয়ার কথা বলে নেতাকর্মীদের কাছে থেকে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। এতে জাপার সুনাম তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।
শুধু তাই না, রাজশাহী মহানগরীর ৪টি থানা, ৩০ ওয়ার্ড এবং মহানগর জাপার অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে কোনো রকমের যোগাযোগ রাখেননি তারা। শুধু তাই না, ১১১ সদস্যবিশিষ্ট বিশেষ কমিটি পাওয়ার পরে প্রথম পরিচিত সভায় ১১ জন ও দ্বিতীয় মভায় মাত্র ৭ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। শুধু মানুষ দেখানোর জন্য দুই, একটি ছবি ফেসবুকে দিয়ে তাদের কাজ শেষ করেন।
নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, রাজশাহী মহানগর জাপার সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ সেলিম ছাত্র শিবিরের এজেন্ট হিসেবে কাজ করেন। ছাত্র জীবনে তিনি এ মৌলবাদী ছাত্র সংগঠনটির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। সংগঠনটির পক্ষে বিভিন্ন সন্ত্রাসীমুলক কর্মকাণ্ডে তিনি অংশ নেন। কিন্তু পরিতাপের বিষয় জাপার শীর্ষ পর্যায়ে একটি অংশকে ম্যানেজ করে তিনি রাতারাতি মহানগর জাপার সাধারণ সম্পাদকের পদ দখল করেন। জাপার হাইব্রিড এ নেতাকে পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাকর্মীরা চেচেন না। কমিটির অনেক সদস্য সভাপতি স্বপন ও সম্পাদক সেলিমকে চেনেন না। সভার শুরুতে জাপার প্রয়াত নেতা এমএস জোহা সরকারের আত্মার মাগফেরাত কামনায় এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
এদিকে রাজশাহী জাপার নেতা শাহাবুদ্দিন বাচ্চু স্থানীয় রাজনীতি থেকে দূরে সরে যাওয়ার পর থেকেই রাজশাহী মহানগর ও জেলা জাপায় স্থবিরতা দেখা দেয়। রাজশাহীতে জাপা মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদারের ডান হাত হিসেবে পরিচিত ছিলেন বাচ্চু। কিন্তু কেন্দ্র থেকে রুহুল আমিন হাওলাদার সরে যাওয়ার পর থেকেই স্থানীয়ভাবে বাচ্চুর বিরুদ্ধে নানান ষড়যন্ত্র শুরু হয়। এরপরে অভিমানে বাচ্চু নিজেকে গুটিয়ে রাখেন। মূলত এরপর থেকেই ঝিমিয়ে পড়তে থাকে রাজশাহী জেলা ও মহানগরের জাপার রাজনীতি।
শনিবার তলবী সভায় উপস্থিত ছিলেন- জাপার নেতা অ্যাডভোকেট হাসিবুল ইসলাম কচি, নাজিমুদ্দিন হিরা, মোসলে উদ্দিন মুসা, অ্যাডভোকেট এনামুল হক, অ্যাডভোকেট মমতাজ উদ্দিন আহম্মেদ, ইফতেখার হামিদ শ্যামল, নবিউল ইসলাম লাবু, সফুরা সরকার, ওয়াসিউর রহমান দোনন, ফেরদৌসি বেগম, মামবুবা বেগম, ইলিয়াস আলী ইদ্রিস, শাহিনুল ইসলাম শাহিন, জাকারিয়া ইসলাম তনু, আব্দুল ওহাব সরকার, মিজানুর রহমান মিজান, আজিজুল আলম ফান্টু, তরিকুল আলম, মোক্তার হোসেন, সাহাদাত হোসেন, রাজু আহম্মেদ, মেহেদী হাসান মুন্না, আলী আজম মুন্না, দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ।
রাজশাহী জেলা জাপার মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সরদার জুয়েল, জেলা ছাত্র সমাজের সভাপতি নুর মোহাম্মদ খোকন, জেলা শ্রমিক পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, যুগ্ম সম্পাদক কবির হোসেন, ইয়াসিন আলী।
নেতারা দাবি করেন, রাজশাহী মহানগর জাপার পুনঃজীবিত করার লক্ষে কেন্দ্রীয় নেতারা যেনো দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

