নিজস্ব প্রতিবেদক : স্বাধীনতার রচনা করেছিলেন একজন অমর শিল্পী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, যারা একথাটি অস্বীকার করতে চায় তারা বাংলাদেশের অস্তিত্বকে অস্বীকার করেন বলে মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নুর এমপি।
বুধবার বিকেলে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের ৩৮ নম্বর গ্যালারি কক্ষে চ্যানেল আইয়ের সহযোগিতায় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র প্রদর্শনী কক্ষ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় এদেশের জনগণ প্রতি মুহুর্তে নিঃশব্দে, গোপনে স্বাধীনতা বাংলার অনুষ্ঠান শুনতো। কালুর ঘাট থেকে এই স্বাধীন বাংলার বেতার কেন্দ্রের সূচনা হয়। স্বাধীনতার ঘোষণাও দেয়া হয়েছিল সেখান থেকে।’
জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক বলে অনেকে তাদের উদ্দেশ্য হাসিল করতে চান মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, ‘জিয়াউর রহমান পাঠক ছিলেন। স্বাধীনতার রচয়িতা তিনি ছিলেন না। স্বাধীনতার রচয়িতা ছিলেন অমর শিল্প বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একথাটি যারা অস্বীকার করতে চায় তারা বাংলাদেশের অস্তিত্বকে অস্বীকার করেন।
নুর বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চে যে ভাষণ দিয়েছিলেন তার পর থেকেই মানুষ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হতে থাকে। দলমত নির্বিশেষে তখন একজন নেতাই শুধু ছিলেন তিনি বঙ্গবন্ধু। তখন থেকে এ ভুখন্ডে পাকিস্থানি সরকারের কোন নির্দেশ কার্যকরী হতো না।’
সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীন বাংলা বেতার শিল্পীদের কণ্ঠে দেশপ্রেমের গান, আত্নত্যাগের গান মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দীপ্ত করতো। শব্দ সৈনিকদের এই যুদ্ধকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই।’
অনুষ্ঠানে চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর বলেন, ‘স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে যারা সেদিন কণ্ঠ দিয়েছিলেন তাদের মধ্যে আমার বাবাও ছিলেন। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সাথে আমাদের সে সম্পর্কটা মনে করিয়ে দেয়ার জন্য জাদুঘর কর্তৃপক্ষতে ধন্যবাদ।’
বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সভাপতি এম আজিজুর রহমানের সভাপতিত্বে এসময় আরো বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব বেগম আখতারী মমতাজ, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী ফকির আলমগীর ।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী।

