ঢাকাMonday , 7 March 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সফল বাস্তবায়নের পথে মানসম্পন্ন বীজ সরবরাহ বৃদ্ধিকরণ প্রকল্প

Link Copied!

গাজীপুরস্থ বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে প্রায় নির্মিত টেকনোলজি ট্রান্সফার বিল্ডিং

গাজীপুরস্থ বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে প্রায়নির্মিত টেকনোলজি ট্রান্সফার বিল্ডিং

হাসান রেজা : দেশের বীজ শিল্পকে আন্তর্জাতিকমানে উন্নীতকরণের লক্ষ্যে কৃষি মন্ত্রণালয়ের মানসম্পন্ন বীজ সরবরাহ বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের অধিকাংশ কার্যক্রম সফল বাস্তবায়নের পথে। ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি) সহায়তাপুষ্ট এই প্রকল্পটি গুণগত মানসম্পন্ন বীজ উৎপাদন ও সরবরাহ, সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ মানবসম্পদ উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পটি বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি), বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি), বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের বীজ উইংয়ের সমন্বয়ে গঠিত। ৩৪৭ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পে আইডিবি’র ঋণ ২৭২ কোটি ৬১ লাখ টাকা এবং বাংলাদেশ সরকার ৭৫ কোটি ১২ লাখ টাকা অর্থায়ন করেছে।
জানা গেছে, প্রকল্পটির সবচাইতে আকর্ষণীয় ও কাঙ্ক্ষিত স্থাপনা রাজধানীর মিরপুরের গাবতলীতে ৪তলা বিশিষ্ট ২ হাজার বর্গমিটার আয়তনের আন্তর্জাতিকমানের বীজ পরীক্ষাগার, প্রশিক্ষণ ও ডরমেটরির নির্মাণ কাজ ইতোমধ্যে সমাপ্ত হয়েছে; এটি আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে সুসজ্জিত করা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বীজ পরীক্ষণ এসোসিয়েশন (International Seed Testing Association) কর্তৃক স্বীকৃতি নেয়ার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এর ফলে বীজ রপ্তানির পথ সুগম হবে এবং বীজমান নিশ্চিতকরণের কার্যক্রম সহজ হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাজধানীর গাবতলীতে প্রকল্পের মাধ্যমে নবর্নির্মিত বিএডিসির আধুনিক বীজ পরীক্ষাগার

রাজধানীর গাবতলীতে প্রকল্পের মাধ্যমে নবর্নির্মিত বিএডিসির আধুনিক বীজ পরীক্ষাগার

এ ছাড়া, প্রকল্পের মাধ্যমে ৪টি আধুনিক ও উন্নত আলু বীজ হিমাগারের নির্মাণ কার্যক্রম প্রায় ৭০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে; আগামী সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে বাকি কাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছে প্রকল্প অফিস। অন্যদিকে উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে গোপালগঞ্জে ২ হাজার মে. টন ধারণক্ষমতা সম্পন্ন এবং শেরপুরে ১ হাজার মে. টন ধারণক্ষমতা সম্পন্ন আন্তর্জাতিকমানের দু’টি বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণ কেন্দ্র। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে গোপালগঞ্জে প্রথমবারের মতো বীজ উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তারা জানিয়েছেন, সহস্রাধিক চাষীর মাঠে উৎপাদিত বীজ সংরক্ষিত হবে এবং সময়মত সরবরাহ করা হবে। এতে করে অধিক ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে গোপালগঞ্জ উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি প্রকল্পের তত্ত্বাবধানে ঠাকুরগাঁওয়ে নির্মিত ফার্মার্স সিড সেন্টারটিও উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। এ ছাড়া, দেশের বিভিন্ন স্থানে উচ্চ মানসম্পন্ন বীজ ফসল (High Valued Crop Seed) সংরক্ষণের জন্য ২০টি ডিহিউমিডিফাইড বীজ গুদাম নির্মাণকাজ প্রায় ৭৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানা গেছে।
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শক্তিশালীকরণে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, দাপ্তরিক-কাম-আবাসিক ভবন নির্মাণকাজ ৮০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রকল্প অফিস। এর মধ্যে ৪তলা বিশিষ্ট ৩ হাজার বর্গ মিটারের প্রযুক্তি হস্তান্তর ও প্রশিক্ষণ ভবন নির্মাণ অন্যতম। এ ছাড়া, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের আওতায় পরীক্ষাগার, দাপ্তরিক-কাম-আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি আধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে সমৃদ্ধ করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
এর পাশাপাশি প্রকল্পের তত্ত্বাবধানে লবণাক্ততা, খরা ও বন্যাসহিষ্ণু জাতের ধান বীজসহ অন্যান্য ফসলের বীজ উদ্ভাবনের কার্যক্রমও পরিচালিত হয়েছে। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের তত্ত্বাবধানে ধানের ১টি লবণাক্ততা সহিষ্ণু জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে এবং আরও ২টি জাত উদ্ভাবনের কাজ চলছে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের তত্ত্বাবধানে আলুর ২টি, মিষ্টি আলুর ২টি ও টমেটোর ২টি জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। এছাড়া, কচুর ১টি, টমেটোর ১টি, বেগুনের ২টি, করোলার ১টি ও লাউয়ের ১টি জাত উদ্ভাবনের কার্যক্রম গতিতে এগিয়ে চলেছে বলেও জানা গেছে।
এ ছাড়া, প্রকল্পের মাধ্যমে মানবসম্পদ উন্নয়নের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, বিজ্ঞানী, চাষী ও বীজকর্মীদের যুগোপযোগী ও সমৃদ্ধকরণে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। প্রকল্পের মাধ্যমে ১১ হাজার ৪শ’ ৯০ জন চুক্তিবদ্ধ চাষী ও বীজ ডিলার, ২১ হাজার ৮শ’ জন প্রগতিশীল চাষী, ৭ হাজার ১শ’ ৪৭ জন কর্মকর্তা ও বিজ্ঞানী এবং ৪ হাজার ৮০ জন কর্মচারিকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। দেশের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে পাঁচ ব্যাচে ১শ’ জন সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তাকে বীজ প্রযুক্তির ওপর ৩ মাসের কোর্স প্রদান করা হয়েছে। বেসরকারি পর্যায়ে ২ শ’ ২৫ জন বীজকর্মীকে বীজ উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণের ওপর ৩দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। এ ছাড়া ৫৯টি সেমিনার ও ওয়ার্কশপ এবং ৩শ’ ৩০টি মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পাশাপাশি সারাদেশে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বীজ উৎপাদন, বিতরণ ও আমদানি-রপ্তানির তথ্য সংরক্ষণ এবং সার্বক্ষণিক তথ্য আদান-প্রদান ও বীজ মনিটরিং কার্যক্রম শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কৃষি মন্ত্রণালয়ের বীজ উইং তত্ত্বাবধানে প্রকল্পের আওতায় পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে একটি সফটওয়্যার প্রস্তুত করা হয়েছে; যা উদ্বোধনের অপেক্ষায় আছে বলে জানা গেছে।
জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক মুহা. আজহারুল ইসলাম দৈনিক পাঞ্জেরীকে বলেন, প্রকল্পটির সাফল্য বিবেচনায় বাংলাদেশের কৃষিখাতে উন্নয়নের লক্ষ্যে আইডিবি পুনরায় সহায়তা প্রদানের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ধারাবাহিকতা রক্ষার লক্ষ্যে সংস্থাটি ইতোমধ্যে বর্তমান প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় বাস্তবায়নের জন্য সুদহীন ঋণ সহায়তা প্রদানের প্রস্তাব দিয়েছে বলেও জানান প্রকল্প পরিচালক। এ সময় তিনি বলেন, আইডিবি কৃষিখাতে বাংলাদেশের সাফল্য বিবেচনায় কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীকে তাদের সদর দপ্তর পরিদর্শনে জেদ্দা ভ্রমণের জন্য অনুরোধ জানিয়েছে। এ প্রেক্ষিতে প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় অনুমোদন এবং বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের কৃষিখাতের উন্নয়নে এক মাইল ফলক উন্মোচিত হবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের বীজ উইংয়ের সাবেক মহাপরিচালক ও সদ্য অবসরে যাওয়া একই মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার ফারুক দৈনিক পাঞ্জেরীকে বলেন, বাংলাদেশের কৃষির জন্য এই প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। প্রকল্পটির মাধ্যমে বিএডিসি, ব্রি ও বারি’র বিভিন্ন অবকাঠামোগত ব্যাপক উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। বাংলাদেশে আইডিবি’র অর্থায়নকৃত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সাফল্যের দিক থেকে সেরা প্রকল্প এটি। এর কার্যক্রমসমূহ দেশের বীজ সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থাকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন আনোয়ার ফারুক।