নিজস্ব প্রতিবেদক : মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াত নেতা মীর কাশেম আলীর আপিল মামলা নিয়ে জামায়াত-বিএনপি ও তাদের লবিস্টরা যে সুরে কথা বলেন, সেই সুরে কথা প্রকাশ্য এজলাসে বলছেন প্রধান বিচারপতি- এই কথা বলেছেন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম।
রোববার দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় তিনি এ কথা বলেন। ৭ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের জনসভা সফল করার লক্ষ্যে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ এই বর্ধিত সভার আয়োজন করে।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী ৮ তারিখ মঙ্গলবার শীর্ষ যুদ্ধাপরাধী মীর কাশেম আলীর মামলার রায় হবে। আমরা একাত্তরের ঘাতকদের বিচার করছি। ইতোমধ্যে চার জনের রায় কার্যকর হয়েছে। কিন্তু ৮ তারিখে যে ব্যক্তিটির রায় হবে তিনি সবচেয়ে ধনাঢ্য ব্যক্তি। কোটি কোটি টাকা খরচ করে বিচারকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য, ট্রাইব্যুনালকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য এবং বিচারকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য লবিস্ট নিয়োগ করেছেন।
তার লবিস্ট হিসেবে টমি ক্যাডম্যান গোটা বিশ্বে প্রচারণা চালাচ্ছেন- এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত তার দেহটা কারা অভ্যন্তরের কনডেম সেলে হলেও তার অর্থ-বিত্ত ও শক্তি বাইরে তৎপর হয়ে ষড়যন্ত্র করছে। তাই অতীতের প্রতিটি রায়ের মতো আগামী ৮ তারিখেও আমরা মাঠে থাকব।
তিনি বলেন, ‘এটা নিয়ে বিভিন্ন কথাবার্তা হয়েছে। আজকে এই বিচার নিয়ে প্রসিকিউশন রাজনীতি করছে- এই কথাও উঠেছে। জামায়াত-বিএনপি এবং তাদের লবিস্টরা যে সুরে কথা বলেন, সেই সুরে কথা প্রকাশ্য এজলাসে বলছেন প্রধান বিচারপতি। প্রসিকিউশন এবং ইনভেস্টিগেশনকে এক কাতারে দাঁড় করাবার কথাও তিনি বলেছেন। অথচ এই প্রসিকিউশন ২৩টি মামলা নিষ্পত্তি করেছে এবং সফলভাবে মামলা পরিচালনা করেছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা প্রত্যাশিত রায় চাই। বাংলাদেশের সকল মানুষ, যারা মীর কাসেমের বিচারপ্রার্থী, আমি একজন মন্ত্রী হিসেবে নয়, ১৬ কোটি মানুষের একজন হিসেবে, বিচারপ্রত্যাশী হিসেবে হতাশ। রায় নিয়ে আমরা সন্দেহের মাঝে আছি।’ তিনি ৮ তারিখে নেতা কর্মীদের মাঠে থাকার আহ্বান জানান।
ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, আগামী ৮ তারিখ মীর কাসেম আলীর রায় ঘোষণা করা হবে। আমরা অধীর আগ্রহে বসে আছি তার সর্বোচ্চ সাজা দেখার জন্য।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি রুমির আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলতে চাই, যদি এই রায় ওলট-পালট হয়, তাহলে এই শহীদ আত্মা তাদের ক্ষমা করবে না।’
সভায় সভাপতিত্ব করেন মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি কামাল আহমেদ মুজমদার। সভা সঞ্চালন করেন প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুল হক সবুজ। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, কার্যনির্বাহী সদস্য এস এম কামাল হোসেন, মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শেখ বজলুরর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন।

