চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : জীবননগর উপজেলার গঙ্গাদাসপুরে প্রতিপক্ষের বোমা হামলা ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে এক আওয়ামী লীগ কর্মী ও এক নারীসহ অপর দুইজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছে আরো পাঁচজন।
সোমবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে গ্রামের পূর্বপাড়া মসজিদের কাছে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
নিহত আওয়ামী লীগ কর্মীর নাম মোহাম্মদ আলী (৫০)। তিনি গঙ্গাদাসপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগের একজন কর্মী। পরে একই গ্রামের শাহাবুদ্দীন (৭৫) সোমবার রাত সোয়া ১০টায়, তার স্ত্রী মালেকা খাতুন (৫৮) মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
গুরুতর আহত আব্দুল মোমিন (৩৮) যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। একই ঘটনায় আহত আ. গফুর (৫৫), আয়ূব আলী (৫২), আমীর হোসেন (৩৮) ও সুরাতন নেছাকে (৬২) জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনার পর পালানোর সময় উত্তেজিত গ্রামবাসী রেজাউল গোলদার এবং মনিরুলের স্ত্রী ইসমত আরাকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করেছে।
নিহত শাহাবুদ্দীনের ছেলে রিপন হোসেন জানান, সন্ধ্যা ৭টার দিকে তার বাবা গঙ্গাদাসপুর পূর্বপাড়ার মসজিদের পাশে নিজের মুদি দোকানে বসেছিলেন। এ সময় ৩০/৩৫ জন দুর্বৃত্ত দোকান লক্ষ্য করে পরপর সাতটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে (হাসুয়া ও ফলা) দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে।
এ সময় মোহাম্মদ আলীর নাড়িভুঁড়ি বেরিয়ে পড়ায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। বোমা বিস্ফোরণে শাহাবুদ্দীনের ডান পা ও মোমিনের বাম হাত উড়ে যায়। মালেকা বেগমেরও পেট ও পিঠে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান শাহাবুদ্দিন এবং তার স্ত্রী মালেকা বেগম।
চুয়াডাঙ্গার সহকারী পুলিশ সুপার ছুফিউল্লাহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। মঙ্গলবার থেকে বিরোধপূর্ণ এলাকা গঙ্গাদাসপুরে বসানো হয়েছে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প।
জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবীর জানান, জমিজমা নিয়ে পূর্ব বিরোধের জের ধরে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। নিহত মোহাম্মদ আলীর লাশ উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। যশোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া শাহাবুদ্দিন ও তার স্ত্রীর ময়নাতদন্ত সেখানেই সম্পন্ন হবে। এ ব্যাপারে মঙ্গলবার বেলা ১১টা পর্যন্ত কেউ মামলা করেনি।

