ঢাকাThursday , 31 December 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দুর্নীতি দমন কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা
ডেমরা সাব রেজিস্ট্রি অফিসে বেপরোয়া ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

Link Copied!

Ashrafulমাসুদ পারভেজ : ঢাকা জেলার ডেমরা সাব রেজিস্ট্রি অফিসে ঘুষ ছাড়া জমি রেজিস্ট্রি হয় না বলে গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। কাগজপত্রে ত্রুটির কথা বলে জমি ক্রেতা-বিক্রেতার কাছে দাবি করা হয় মোটা অংকের ঘুষ। না দিলে জমি রেজিস্ট্রি হয় না। অফিসের কেরানী থেকে শুরু করে সাব রেজিস্ট্রার সবাইকে ঘুষ দিতে সুকৌশলে বাধ্য করা হয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারি ‘ফি’ এর বাইরে সংশ্লিষ্ট দলিল লেখককে দিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতার কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়। সবমিলে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়েছে ডেমরা সাব রেজিস্ট্রি অফিস। ভুক্তভোগীরা জানায়, বর্তমান সাব রেজিস্ট্রার আশরাফুল ইসলাম এই অফিসে যোগদান করেই অবৈধ উপায়ে দু’হাতে অর্থ উপার্জনে বেপরোয়া হয়ে উঠেন।
সূত্র জানায়, সাব রেজিস্ট্রার আশরাফুল ইসলাম প্রতিমাসে ১৫-২০ লাখ টাকা অবৈধ পথে উপার্জন করেন। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, সাব রেজিস্ট্রার আশরাফুল ইসলাম কোন কোন দিন ৫০ হাজার আবার কখনও লাখ টাকাও অবৈধ পথে উপার্জন করেন। এই টাকার কিছু অংশ দিয়ে সবাইকে ম্যানেজ করা হয়। সাব রেজিস্ট্রার আশরাফুল ইসলাম কক্সবাজার জেলার চকোরিয়া উপজেলায় দায়িত্ব নেয়ার পূর্বে চট্টগ্রাম জেলার ফতেয়াবাদে কর্মরত ছিলেন। এখানেও ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি কাউকে পরোয়া করেন না। তিনি দাম্ভিকতার সুরে বলেন, গণমাধ্যমে লিখে কোন লাভ হবে না। কারণ তিনি সবাইকে ম্যানেজ করে চলেন। গত রাতে এই প্রতিবেদক অভিযোগের সূত্র ধরে তার সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে রোমহর্ষক তথ্য পেয়েছেন। জমি রেজিস্ট্রেশনের নামে কাগজপত্র ঠিকঠাক থাকার পরও দলিলপ্রতি নির্ধারিত হারে সাব রেজিস্ট্রার আশরাফুল ইসলামকে ঘুষ দিতে হয়।
বর্তমান আইনমন্ত্রী অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে সাব রেজিস্ট্রারদের পোস্টিং দিলেও মাঝপথে মধ্যস্বত্ত্বভোগীরা মোটা অংকের অর্থ সুকৌশলে হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনই তথ্য ডেমরার সাব রেজিস্ট্রার আশরাফুল ইসলাম তার ঘনিষ্ঠজনদের বলে বেড়ান এবং তার পোস্টিংও নাকি এভাবে হয়েছে। আর এ কারণে আশরাফুল ইসলাম কাউকে পরোয়া করেন না।
ঘুষ বাণিজ্যের কারণে স্থানীয় প্রশাসনও বিব্রত। এ ব্যাপারে গত রাতে অভিযুক্ত দুর্নীতিবাজ সাব রেজিস্ট্রার আশরাফুল ইসলামের মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি এখন বাসায়। পরিবারের সামনে এ নিয়ে কোন কথা বলতে চাই না।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি দায়িত্ব পালনে রয়েছে ব্যাপক গাফিলতি। সরকারি অফিস সময় পালন না করার কারণে ক্রেতা ও বিক্রেতারা ক্ষুব্ধ। এ ছাড়া দলিলপ্রতি নির্ধারিত হারে উৎকোচ দেয়াটা নিয়মে পরিণত হয়েছে। দলিল লেখকের সাথে তাচ্ছিল্যের সাথে ব্যবহার করায় তারাও ক্ষুব্ধ। ভুক্তভোগীরা বলছেন, প্রতিদিন অফিস সময়ের পরে ঘুষ/উৎকোচের টাকা নিয়ে বাসায় যাওয়ার সময় দুর্নীতি দমন কমিশন অভিযান পরিচালনা করলে সাব রেজিস্ট্রার আশরাফুল ইসলামকে হাতেনাতে ঘুষের টাকাসহ আটক করা সম্ভব।
অভিজ্ঞ মহলের মতে, বর্তমান সরকারের অসংখ্য সফলতা ঢাকা পড়ছে সাব রেজিস্ট্রার আশরাফুল ইসলামের মতো দুর্নীতিবাজদের কারণে। সূত্র জানায়, দুর্নীতি দমন কমিশন গোপনে অভিযান পরিচালনা করলে অবশ্যই দুর্নীতিবাজ আশরাফুল ইসলামের বেপরোয়া দুর্নীতির চিত্র বেরিয়ে আসবে। তার অনৈতিক উৎকোচ গ্রহণের কারণে রেজিস্ট্রেশন বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হওয়ার পাশাপাশি সরকারের ভাবমূর্তিও ক্ষুণœ হচ্ছে।
সূত্র আরও জানায়, আশরাফুল ইসলাম নাকি আইজিআর অফিস এবং মন্ত্রণালয় ম্যানেজ করে এইসব বেপরোয়া কর্মকা- চালান।
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীরা আইন মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন ও আইজিআর পরিদপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।