বরিশাল প্রতিনিধি : ঝালকাঠিতে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে নদীতে ঝাঁপ দেয়া সেই ছাত্রলীগের নেতা মো. সুমনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার সকাল ৮টার দিকে শহরের সিটিপার্ক সংলগ্ন এলাকায় সুগন্ধা নদী থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। মৃত সুমন ঝালকাঠি শহরের বাঁশপট্টি এলাকার বাসিন্দার সেকেন্দার আলীর ছেলে মো. সুমন ঝালকাঠি জেলা ছাত্রলীগ নেতা ছিলেন।
এদিকে, এ ঘটনায় ধাওয়া দেয়া সেই পুলিশ কর্মকর্তা সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জসিমকে ক্লোজড করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে ঝালকাঠি জেলা পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসি) মাহমুদ হাসান জানান, জেলা ছাত্রলীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক তরিকুজ্জামান লিমন নকিব এবং অপর নেতা মো. সুমনসহ অজ্ঞাত আরও পাঁচজনের বিরুদ্ধে গত রোববার পর্নগ্রাফি আইনে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন স্থানীয় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক কাঞ্চন আলী খান।
মামলা দায়েরের পর রোববার বিকেলে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জসিম শহরের কাটপট্টি এলাকার বাসিন্দা মুজিবুর রহমান নকিবের ছেলে লিমন নকিবকে গ্রেপ্তার করেন।
একইসঙ্গে শহরের বাঁশপট্টি এলাকার বাসিন্দার সেকেন্দার আলীর ছেলে ছাত্রলীগ নেতা সুমনকেও গ্রেপ্তারে অভিযান চালায়। কিন্তু পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সুমন শহরের মসজিদ বাড়ি সড়ক থেকে দৌড় গিয়ে সিটিপার্ক রোডের হাবিব মিয়ার `স’মিল থেকে সুগন্ধা নদীতে ঝাঁপ দেয়।
ঝালকাঠির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এসপি) আব্দুর রকিব মামলার বরাত দিয়ে জানান, গত ২৩ ডিসেম্বর বেলা ২টার দিকে জেলা ছাত্রলীগের প্রকাশনা সম্পাদক লিমন নকিব, সুমন, স্টেশন রোডের মনির, অজ্ঞাত দুই নারী এবং তিন পুরুষ অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক কাঞ্চন আলী খানের বাসায় ঢুকে পিস্তল ও চাকু দেখিয়ে তাকে উলঙ্গ করে ছবি তোলেন।
এ সময় শিক্ষকের কাছ থেকে নগদ ২৭ হাজার টাকা নিয়ে চলে আসেন। পরবর্তীতে ওইসব ছবি নিজেদের হেফাজতে রেখে ওই শিক্ষকের কাছে আরও ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।
এ ঘটনায় জেলা ছাত্রলীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক তরিকুজ্জামান লিমন নকিব এবং মো. সুমনসহ অজ্ঞাত আরও পাঁচ জনকে আসামি করে মামলা করেন ওই শিক্ষক।

