রাজশাহী প্রতিনিধি : অপহরণের ১৪ দিন পরে রুয়েট ছাত্রলীগ নেতা সাইফুজ্জামান সোহাগকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার গভীর রাতে চট্টগ্রাম মীরেরসরই এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া সোহাগের শ্বশুর শেখ আব্দুর রহমান দুলাল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তাকে মাইক্রোতে করে রাজশাহীতে নিয়ে আসা হচ্ছে।
শেখ আবদুর রহমান দুলাল জানান, কয়েকদিন আগে নারায়ণগঞ্জ ও রাজশাহী থেকে আটক হওয়া দুই জনের কাছ থেকে এ বিষয়ে পুলিশ তথ্য পায়। সেই তথ্য অনুযায়ী মীরেরসরাই এলাকায় অভিযান চালিয়ে সোহাগকে উদ্ধার করা হয়।
এর আগে সোহাগকে অপহরণের ঘটনায় রোববার রাজপাড়া থানা পুলিশ ওই দুই জনকে আটক করে।
এরা হলেন – ঢাকা দক্ষিণখান থানার ফাইজবাদ এলাকার আব্দুল আউয়াল খানের ছেলে ও রুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ইঞ্জিনিয়ার ফারজাদুল ইসলাম মিরন (২৮) এবং রাজশাহী নগরীর নওদাপাড়া এলাকার শওকত আলীর ছেলে ও রুয়েটের সিভিল বিভাগের ২য় বর্ষের ছাত্র ইসফাক ইয়াসিফ ইপু (২১)।
আটক দুইজনকে তিনদিনের রিমান্ডে নিয়েছিল পুলিশ। গত সোমবার দুপুরে পুলিশ তাদের রাজশাহীর অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে। শুনানি শেষে বিচারক জুলফিকার উল্লাহ আসামিদের তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। সেই রিমান্ডের তথ্য অনুযায়ী সোহানকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুর রহমান।
প্রসঙ্গত, ৯ ডিসেম্বর রাত ৩টার দিকে র্যাবের পোশাকধারী ৬/৭জন তেরখাদিয়া পশ্চিমপাড়া এলাকায় সোহাগের বাড়িতে যান। র্যাবের পোশাক পরা দেখে বাড়ির লোকজন দরজা খুলে দিলে তারা সোহাগের ঘরে ঢুকে ল্যাপটপ ও মোবাইলের মেমোরি কার্ডসহ অন্যান্যে ইলেকট্রনিক ডিভাইস চায়। সেগুলো নেয়ার পরই তারা সোহাগকে একটি মাইক্রোবাসে উঠিয়ে নিয়ে চলে যায়। এরপর সোহাগের বাবা, শ্বশুর, র্যাব রাজশাহীর সদর দপ্তর, বোয়ালিয়া থানা, ডিবি পুলিশ ও মতিহার থানায় খোঁজ নিলেও কোথায় তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে রাজপাড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন সোহাগের বাবা।
ওই ঘটনায় ১৩ ডিসেম্বর রোববার রাতে নগরীর রাজপাড়া থানায় সোহাগের বাবা আক্কাসউজ্জামান বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় অজ্ঞাত র্যাব ও ডিবি পুলিশ এবং সোহাগের সহপাঠী নাবিলাকে আসামি করা হয়।

