ঢাকাTuesday , 22 December 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

হিমালয়ের হিমেল বাতাসে কাবু পঞ্চগড়বাসী

Link Copied!

shitপঞ্চগড় প্রতিনিধি : জেলায় কয়েকদিন ধরে ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকে আকাশ। সঙ্গে উত্তরের হিমেল বাতাস। দিনের বেলায় কখনো কখনো সূর্যের দেখা মিললেও তাপ ছড়ানোর আগেই তা আবার ঘন কুয়াশায় ঢেকে যায়। এতে করে কাজ করতে না পারায় নিম্ন আয়ের মানুষেরা পড়েছে বিপাকে।
হিমালয় কন্যা খ্যাত পঞ্চগড়ে রাতভর বৃষ্টি মতো ঝড়ছে তুষার। দিনের বেলায় হেডলাইট জালিয়ে রাস্তায় চলাচল করছে যানবাহন। প্রচণ্ড কনকনে ঠাণ্ডায় খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া যাত্রীরা রিকশা-ভ্যানে উঠছে না। তাই চরম দুর্ভোগে পড়েছে রিকশা-ভ্যান চালকসহ খেটে খাওয়া মানুষ। তারা পরিবার পরিজন নিয়ে অনাহারে অর্ধাহারে দিনযাপন করছেন।
এদিকে স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া, ডায়েরিয়াসহ নানান রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। বাড়তি সতর্কতা নিয়েও শেষ রক্ষা হচ্ছে না তাদের। গত তিনদিনে সরকারি হাসপাতাল ও শহরের বেসরকারি বিভিন্ন ক্লিনিকে শতাধিক শিশু ভর্তি হয়েছে।
অন্যদিকে শীত বস্ত্রের অভাবে বিভিন্ন জায়গায় খর-কুটা জালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন নিম্ন আয়ের ওই সব মানুষ। জেলার দুই লাখ গরীব ও দুঃস্থ মানুষকে শীতের প্রকোপ থেকে বাঁচাতে সরকারি বা বেসরকারিভাবে তেমন কোনো উদ্যোগ নেই। এখনি শীতকাতর মানুষের পাশে দাঁড়াতে না পারলে তীব্র শীতে দুঃস্থদের দুর্ভোগ আরো চরমে পৌঁছাবে।
শহরের খোলাপাড়া মহল্লার রিকশাচালক সপিকুল বলেন,‘ঠাণ্ডার কারণে যাত্রীরা রিকশায় উঠতে চায় না। আগে আধাবেলা রিকশা চালিয়ে দেড় থেকে দুইশ টাকা পর্যন্ত আয় হতো। বর্তমানে সারাদিন মাত্র ৫০ থেকে ৭০ টাকা আয় হয়। পরিবার নিয়ে বড়ই কষ্টে আছি।’
পঞ্চগড় নুরুল আলা নুর কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ আব্দুর রহমান বলেন, ‘উত্তরের এই সীমান্ত জেলায় বরাবরে অন্য যেকোনো এলাকার তুলনায় বেশি শীত অনুভূত হয়। কিন্তু বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় শীতবস্ত্র এলাকায় আসে শীত মৌসুম শেষের দিকে। তখন সেই সহায়তায় উপযুক্ত কাজ হয় না। এজন্য সঠিক সময়ে শীতবস্ত্র নিয়ে শীতকাতর এসব মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আকুল আবেদন করছি।’
পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. মনোয়ার হোসেন বলেন,‘তীব্র শীতের কারণে সদর হাসপাতালে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। আমরা যথাসাধ্য চিকিৎসা ও পরামর্শ দিচ্ছি। সদর হাসপাতালে বর্তমানে ভর্তিকৃত রোগীদের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ শীতজনিত রোগে আক্রান্ত।’
তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমানে শিশু ও বৃদ্ধদের ঠাণ্ডা এবং বাশি খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে শীতকালীন ফলমূল ও সবজি খাওয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। কারণ এই মৌসুমের শীতকালীন সবজি ও ফলমূল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।’
এদিকে শীতার্ত লোকজন দ্রুত সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে সহায়তা চেয়েছেন। পঞ্চগড়ে আবহাওয়া অফিসের কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় তাপমাত্রার রেকর্ড করা সম্ভব হয়নি।