ঢাকাSunday , 20 December 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রবি-এয়ারটেল একীভূত হওয়ার আগেই তরঙ্গ নিলাম

Link Copied!

robiনিজস্ব প্রতিবেদক : রবি-এয়াটেলের একীভূত হওয়ার আগেই অব্যহৃত টু-জি ও থ্রি-জি তরঙ্গে নিলাম করা হবে। গত ১৫ ডিসেম্বর সচিবালয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের কার্যক্রমের অগ্রগতি ও বাস্তবায়নের পর্যালোচনা বিষয়ক এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় সভায় উপস্থিতি ছিলেন।
বিটিআরসির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রবি আজিয়াটা ও এয়ারটেল বাংলাদেশ একীভূত হওয়ার উদ্যোগ সফল হলে তাদের থ্রিজি ও টুজি তরঙ্গের চাহিদার অনেকটাই পূরণ হয়ে যাবে। এতে অপারেটর দুটি প্রস্তাবিত এ নিলামে অংশ নেওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে।  তাই নিলাম আগেই হলে সরকার লাভবান হবে।
গত ৯ সেপ্টেম্বর ব্যবসা এক করার আলোচনা শুরু করে বাংলাদেশের এই দুই মোবাইল ফোন অপারেটর রবি ও এয়ারটেল। এরই ধারাবাহিকতায় একীভূত হওয়ার অনুমতি চেয়ে সে মাসেই বিটিআরসিতে আবেদন করে।
এদিকে সূত্র জানিয়েছে, নিলামের তারিখ নির্ধারনে এরই মধ্যে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) কে নির্দেশনা দিয়েছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ।
থ্রিজি ও টুজি দুই ধরনের তরঙ্গেরই ভিত্তি মূল্য ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি এ তরঙ্গ নিলামের জন্য একটি গাইড লাইন প্রকাশ করে বিটিআরসি। এতে ১৮০০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ নিলামের ভিত্তিমূল্য ধরা হয় তিন কোটি মার্কিন ডলার বা ২৩২ কোটি টাকা (প্রতি মেগাহার্টজ)। আর ২১০০ মেগাহার্টজের ভিত্তিমূল্য ধরা হয় ২ কোটি ২০ লাখ ডলার বা প্রায় ১৭০ কোটি টাকা।
উল্লেখ্য, দ্বিতীয় প্রজন্মের মোবাইল ফোন সেবার জন্য ব্যবহৃত ১৮০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডউইথের অব্যবহৃত ১০ দশমিক ৬ মেগাহার্টজ এবং তৃতীয় প্রজন্মের মোবাইল ফোন সেবার জন্য ব্যবহৃত ২১০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের অব্যবহৃত ১৫ মেগাহার্টজ তরঙ্গ নিলামের সিদ্ধান্ত নেয় বিটিআরসি।
গাইড লাইন প্রকাশের নিলামের প্রস্তুতি নেয় বিটিআরসি । প্রথম দফায় নিলামের তারিখ ছিল ৩০ এপ্রিল। এরপর দু’দফা পেছানো হয় । প্রথমে ২০ মে এবং পরে ২৭ মে নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু মোবাইল কোম্পানিগুলোর সাড়া পায়নি।
অপারেটর কোম্পানিগুলোর নানা আপত্তির মুখে টুজি ও থ্রিজি নিলামের গাইডলাইন পর্যালোচনার উদ্যোগ নেয় বিটিআরসি ।
ফোন কোম্পানিগুলো নিলামের আগে সিমকার্ড প্রতিস্থাপন কর সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি, নিলামে বিক্রি হওয়া তরঙ্গ মূল্যের ওপর আরোপিত মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) প্রত্যাহার, কর কাঠামোর সংস্কারসহ বিদ্যমান বিভিন্ন বিরোধের মীমাংসা ও দাবির বাস্তবায়ন চায় । এছাড়া  ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত নীতিমালার শর্ত অনুসারে অন্যতম বৃহৎ অপারেটর গ্রামীণফোনের টুজি নিলামে অংশগ্রহণ নিতে পারতো না । এ কারণেই নীতিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সূত্র আরও জানিয়েছে, নতুন অপারেট এমনকি বেসরকারি ল্যান্ডফোন ও ওয়াইম্যাক্স যাতে নিলামে অংশ নিতে পারে সেভাবে গাইড লাইনে সংশোধনের সুপারিশ করেছে বিটিআরসি।
ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত গাইডলাইন অনুসারে, যার যে ব্যান্ডের তরঙ্গ রয়েছে সে অপারেট সেই ব্যান্ডের নিলামে অংশ নেবে। অর্থাৎ যে অপারেটরের ২১০০ মেহাহার্টজ ব্যান্ডের তরঙ্গ নেই, তারা এ তরঙ্গের নিলামে অংশ নিতে পারবে না । একইভাবে ২১০০ বা ১৮০০ কোনো ব্যান্ডের তরঙ্গ না থাকায় দেশের সবচেয়ে পুরনো মোবাইল কোম্পানি সিটিসেল নিলামে অংশ নিতে পারবে না।
এছাড়া গাইডলাইনে আরও বলা আছে, যাদের জিএসএম ব্যান্ডে (১৮০০ মেগাহার্টজ) ২০ মেগাহার্টজের বেশি তরঙ্গ বরাদ্দ রয়েছে তারা সরাসরি নিলামে অংশ নিতে পারবে না। তবে প্রথম ধাপের নিলামে যদি কোনো তরঙ্গ ব্লক বিক্রি না হয় তাহলে ২০ মেগাহার্টজের বেশি বরাদ্দ পাওয়া কোম্পানি নিলামে অংশ নিতে পারবে।
এ শর্তের শিকার দেশের বড় মোবাইল কোম্পানি গ্রামীণফোন। কারণ কোম্পানিটির হাতে টুজির ২০ মেগাহার্টজের বেশি তরঙ্গ রয়েছে। টুজির ৯০০ ও ১৮০০ মেগাহার্টজ এবং থ্রিজির ২১০০ মেগাহার্টজ মিলিয়ে কোম্পানিটির কাছে বর্তমানে মোট ৩২ মেগাহার্টজ তরঙ্গ রয়েছে।
এর আগে ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে এক নিলামে থ্রিজির জন্য ব্যবহৃত ২১০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে ২৫ মেগাহার্টজ তরঙ্গ বিক্রি হয়। যদিও বিক্রির জন্য বরাদ্দ ছিল ৪০ মেগাহার্টজ। এ নিলামের মাধ্যমে ৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি আয় করে বিটিআরসি । ওই নিলামে ১০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ কিনে নেয় গ্রামীণফোন। আর ৫ মেগাহার্টজ করে কিনে নেয় বাংলালিংক, রবি ও এয়ারটেল। তবে রাষ্ট্রায়ত্ত সেলফোন অপারেটর টেলিটক আগেই ১০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ বরাদ্দ পায়।
একীভূত হওয়ার আবেদনে  দুই কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এক হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানের ৭৫ শতাংশ শেয়ার থাকবে আজিয়াটা গ্রুপ বারহাদ ও এনটিটি ডোকামোর কাছে, বাকি ২৫ শতাংশ শেয়ার ভারতী এয়ারটেলের কাছে থাকবে। রবির ৭৫ শতাংশ শেয়ারের মধ্যে ৭০ শতাংশ শেয়ার থাকবে আজিয়াটার কাছে আর ৫ শতাংশ থাকবে ডোকোমোর কাছে।
চিঠিতে বলা হয়, এতে গ্রাহকসেবা আরও উন্নত হবে। এয়ারটেলের গ্রাহকদের নম্বর (০১৬ দিয়ে শুরু) অপরিবর্তিত থাকবে। তিন বছর পর ০১৬ দিয়ে নতুন সংযোগ দেওয়া হবে না । বিটিআরসির এখন একিভূত হওয়ার আইনি দিকগুলো খতিয়ে দেখছে ।
বাংলাদেশের মোট মোবাইল ফোন গ্রাহকদের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এই দুটি কোম্পানির। সোয়া ১৩ কোটি গ্রাহকের মধ্যে তিন কোটি রবির, এক কোটি এয়ারটেলের ৷
রবির মালিকানা মালয়েশিয়াভিত্তিক আজিয়াটা গ্রুপের। অন্যদিকে এয়ারটেলের মালিক ভারতের ভারতী এয়ারটেল। তারা ওয়ারিদের ব্যবসা বাংলাদেশে কিনে নিয়েছিল।
২০১৫ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে মূলধনী ব্যয়ে ৭১০ কোটি টাকা বিনিয়োগসহ এ পর্যন্ত বাংলাদেশে রবির মোট মূলধনী ব্যয়ের পরিমাণ ১৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা।
এশিয়াতে আজিয়াটা গ্রুপ এবং এর সহযোগী ও সহায়ক প্রতিষ্ঠানের মোবাইল গ্রাহকের সংখ্যা ২৬ কোটির বেশি। ২০১৪ সালে গ্রুপটির আয় ছিল ১৮.৭ বিলিয়ন মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত।
২০১০ সালে ওয়ারিদ টেলিকমের ৭০ শতাংশ শেয়ার কিনে বাংলাদেশে ভারতী এয়ারটেলের ব্যবসা শুরু হয় ।  তিন বছর পর ওয়ারিদের কাছে থাকা বাকি ৩০ শতাংশ শেয়ারও কিনে নেয় সিঙ্গাপুরে ভারতী এয়ারটেলের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ভারতী এয়ারটেল হোল্ডিংস লিমিটেড।
বাংলাদেশে ব্যবসা প্রসারে ব্যর্থ হয়েই একিভূত হতে চাইছে এয়ারটেল ।  বর্তমানে ৬টি মোবাইল ফোন অপারেটরের মধ্যে গ্রাহক সংখ্যার দিকে থেকে এয়ারটেল বাংলাদেশে চতুর্থ।