নিজস্ব প্রতিবেদক : শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে সরকার উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদ দমনের নামে বিরোধী দলকে দমন করে ভুল পথে পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া। তিনি বলেছন, ‘আওয়ামী লীগ প্রতিনিয়ত মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে মুখে ফেনা তুলছে। আর অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা গণতন্ত্রকে আজ পদদলিত করছে।
শুক্রবার সকালে নয়াপল্টনস্থ যাদু মিয়া মিলনায়তনে মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর ১৩৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ ঢাকা মহানগর আয়োজিত স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ভিত্তিতে রাষ্ট্র নির্মাণ করতে হলে মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর প্রদর্শিত পথে আমাদের জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।
মোস্তফা ভুইয়া বলেন, ‘সমাজের সকল কৃতিত্ব একজনকে দিতে গিয়ে আজ ইতিহাস বিকৃতি করা হচ্ছে। বৃহৎ রাজনৈতিক দলগুলোর সুবিধাভোগী তথা কথিত বুদ্ধিজীবীরা মওলানা ভাসানীকে বাদ দিয়েই ইতিহাস নির্মাণ করতে চাচ্ছেন। এইসব জ্ঞানপাপীরাই সমাজ ও রাষ্ট্রকে বিভক্ত করে রাখতে চান।’
তিনি বলেন, ‘মওলানা ভাসানীকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাস নির্মাণ করা সম্ভব নয়। ইতিহাসের গতিধরায়ই মওলানা ভাসানী টিকে থাকবেন।’
বাংলাদেশ ন্যাপ ঢাকা মহানগরের সদস্য সচিব মো. শহীদুননবী ডাবলু’র সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন এনডিপি প্রেসিডিয়াম সদস্য মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা, ন্যাপের যুগ্ম মহাসচিব স্বপন কুমার সাহা, সম্পাদক মো. কামাল ভুইয়া, এনডিপি দপ্তর সম্পাদক মো. মুছা, ন্যাপের নগর সদস্য মো. বেলাল হোসেন, মো. জিল্লুর রহমান পলাশ প্রমুখ।
সভাপতির বক্তব্যে মো. শহীদুননবী ডাবলু বলেন, ‘শাসকদল আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মওলানা ভাসানীকে তারা ইতিহাস থেকে মুছে ফেলতে চাচ্ছে। অন্যদিকে তার নাম ব্যবহারকারীরাও বিভিন্ন সময় রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকলেও মওলানা ভাসানীকে যথাযথ সম্মান প্রদর্শনে ব্যর্থ হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘মওলানা ভাসানীকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার প্রক্রিয়া কখনো সফল হবে না।’
প্রসঙ্গত, আগামীকাল ১২ ডিসেম্বর মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ১৩৫ তম জন্মবার্ষিকী। তার স্মরণে সকাল ১১ টায় যাদু মিয়া মিলনায়তনে মওলানা ভাসানীর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ।

