ঢাকাSunday , 6 December 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

‘গণতন্ত্রের জন্যই ক্ষমতা ছেড়েছিলাম’

Link Copied!

Ershadনিজস্ব প্রতিবেদক : ‘সংবিধান সংরক্ষণ ও গণতন্ত্রের জন্যই ৯০ সালের এই দিনে স্বেচ্ছায় ক্ষমতা ছেড়েছিলাম। কিন্তু সেই গণতন্ত্র আজ কোথাও নেই।’
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ রোববার দলের ‘সংবিধান সংরক্ষণ দিবস’ উপলক্ষে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত আলোচনা সভায় আক্ষেপ করে এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তিনি।
আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দল ৬ ডিসেম্বরকে ‘স্বৈরাচার পতন দিবস’ পালন করে আসছে। আর জাতীয় পার্টি দিনটিকে ‘সংবিধান সংরক্ষণ দিবস’ হিসেবে পালন করছে।
প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এরশাদ বলেন, ‘আজকের এ দিনে আমি আনন্দিত, গৌরব অনুভব করছি। আজ জাতীয় পার্টির জন্য ঐতিহাসিক দিন। কারণ, এই দিনে স্বেচ্ছায় ক্ষমতা হস্তান্তরের মধ্যে দিয়ে আমরা গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু করেছিলাম। সংবিধান সংরক্ষণের জন্যই আমি ক্ষমতা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমি অতীতের কথা ভুলে সামনে এগিয়ে যেতে চাই। তারপরও সে সময় আমার সঙ্গে আমার দলের নেতাদের সঙ্গে যে অন্যায় নির্যাতন করা হয়েছে, তা কোনোভাবেই ভুলতে পারি না।’
প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা দিয়ে এরশাদ বলেন, ‘তিনি আমার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। অন্যায়ভাবে আমাকে জেলে পাঠিয়েছেন। আমি ক্ষমতা ছেড়েছিলাম বিচারপতি শাহাবুদ্দিনের কাছে। এই শাহাবুদ্দিন, যার কোনো সাংবিধানিক ভিত্তি ছিল না, তিনি আমার কাছে শপথ নিয়েছিলেন, তিনিই আমার বিচার করলেন, জেলে দিলেন। কাজটা তিনি ঠিক করেননি।’
প্রাক্তন এ সেনাপ্রধান বলেন, ‘তারপর থেকে যেন নরকে ছিলাম। কাউকে আমার সঙ্গে দেখা করতে দিত না। কথা বলার লোক নেই, বই নেই। বাধ্য হয়ে নীরবে বসে থাকতাম। কি অমানুষিক নির্যাতন না আমার ওপর করা হয়েছে। বেঈমান শাহাবুদ্দিনের একদিন বিচার হবে।’
স্মৃতিচারণ করে এরশাদ বলেন, ‘ওই অবস্থায় নির্বাচন করলাম। আমি জেলে, দলের নেতা-কর্মীরা জেলে, সাধারণ মানুষের কাছে যাওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না। তারপরও পাঁচটি আসনে নির্বাচিত হয়েছিলাম।’
এ সময় বিএনপি ও আওয়ামী লীগের তীব্র সমালোচনা করেন এরশাদ। তিনি বলেন, ‘বিএনপি আমার ওপর নির্যাতন চালিয়েছে। ১৯৯১ সালে ক্ষমতায় এসে আমার বিরুদ্ধে ৪২টি মামলা ঠুকে দেয়। আমাকে শেষ করে দেওয়াই ছিল তাদের উদ্দেশ্য। কিন্তু রাখে আল্লাহ, মারে কে? আজ বিএনপির সেই দশা শুরু হয়েছে। এটাই আল্লাহর বিচার।’
হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ আরো বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে আমরা ক্ষমতায় বসিয়েছিলাম। কিন্তু তারা কথা রাখেনি। বরং আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে আমাকে  ৬ মাসের জন্য জেলে নিক্ষেপ করল। এখন দুটি মামলা বিচারাধীন। ১৯৯৫ সালে খালেদা জিয়া মঞ্জুর হত্যা মামলা করেছিলেন। সেই মামলা এখনো শেষ হয়নি। কোনোদিন শেষও হবে না। কবরে গেলেও সমন যাবে। অবিচারের শেষ নেই।’
জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলার সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন দলের জ্যেষ্ঠ নেতা ও পানিসম্পদমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, দলের মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, প্রেসিডিয়াম সদস্য এস এম ফয়সল চিশতী, সাইদুর রহমান টেপা, মীর আব্দুস সবুর প্রমুখ।