সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে সুনামগঞ্জে কাউন্সিলর পদে প্রতি ওয়ার্ডেই ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা প্রার্থী হয়েছেন। দলীয়ভাবে একক প্রার্থী না দেয়ায় একাধিক প্রার্থী নির্বাচন করার জন্য মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। প্রার্থী বেশি থাকায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরাও পড়েছেন বিব্রতকর অবস্থায়। অবশ্য জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, নির্বাচনের মাধ্যমে দলের যোগ্য নেতারাই বেরিয়ে আসবেন।
সুনামগঞ্জ পৌরসভায় ১নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করতে মাঠে রয়েছেন বর্তমান কাউন্সিলর ও জেলা যুবলীগের সদস্য হোসেন আহমদ রাসেল, জেলা ছাত্রলীগের উপ-মানব উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক আবুল হাসনাত মো. কাওছার, সদর উপজেলা যুবলীগের সদস্য মলয় চন্দ।
জেলা যুবলীগের সদস্য হোসেন আহমদ রাসেল বলেন,‘আমার দায়িত্ব পালনকালে ওয়ার্ডে ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। একাধিক প্রার্থী থাকলেও আমি জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।’
২নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন জেলা যুবলীগের সদস্য অ্যাডভোকেট হাসান মাহমুদ সাদী, যুবলীগ নেতা কপিল তালুকদার কল্লোল।
৪নং ওয়ার্ডে ক্ষমতাসীন দলের ২জন প্রার্থী মাঠে প্রচারণা ও গণসংযোগ চালাচ্ছেন। তারা হলেন- মতিলাল চন্দ, ছাত্রলীগের সাবেক নেতা চঞ্চল কুমার লোহ। দুই প্রার্থীই কেউ কাউকে ছাড় না দিয়ে নির্বাচনী মাঠে আছেন।
৫নং ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর ও জেলা যুবলীগের সদস্য অ্যাডভোকেট মণীষ কান্তি দে মিন্টু এবার নির্বাচন করবেন। তার সঙ্গে গত বছরের মতো এবারও নির্বাচন করছেন সাবেক ছাত্রনেতা ও বর্তমান আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম সাবেরীন সাবু। স্থানীয় ভোটাররা বলছেন, সর্বশেষ নির্বাচনের মতো এবারও একই দলের দুই নেতা মিন্টু-সাবু’র মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।
গোলম সাবেরীন সাবু বলেন,‘দলীয় একাধিক প্রার্থী থাকলেও আমি সব সময়ই এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে ছিলাম। আমার ওয়ার্ডকে ঘিরে অনেক স্বপ্ন। আশা করছি, ভোটাররা সেই স্বপ্ন পূরণে আমাকে নির্বাচিত করবেন। নেতাকর্মীরাও আমার সঙ্গে আছেন।’
৬নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন জেলা শ্রমিকলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক (একাংশ) মফিজুল হক, আওয়ামী লীগ নেতা আবাবিল নূর। দু’জনই জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন।
৭নং ওয়ার্ডে লড়বেন আওয়ামী লীগ নেতা শামীনুর রশিদ সামু, জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক মো. সামছুজ্জামান স্বপন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রচার সম্পাদক সেলিম আহমদ।
৮নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন জেলা যুবলীগের সদস্য মজনু মিয়া, সদর উপজেলা যুবলীগের সদস্য ফরিদ মিয়া।
ফরিদ মিয়া বলেন,‘একাধিক প্রার্থী বড় বিষয় নয়, যোগ্য প্রার্থী হিসেবে আমাকে এলাকার মানুষ পছন্দ করে। তারা আমাকে নির্বাচিত করবেন বলেই আশা করছি।’
৯নং ওয়ার্ডে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলাম তারেক, স্থানীয় ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি আলী আহমদ কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন।
আলী আহমদ বলেন,‘দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে এলাকার মানুষ আমার সঙ্গে আছে। দলের একাদিক প্রার্থী থাকলেও সমস্যা নেই। নেতাকর্মীরাও আমাদের সঙ্গে আছে।’
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নূরুল হুদা মুকুট বলেন,‘বিষয়টির ব্যাপারে আমি জেনেছি। জেলার ৪ পৌরসভায় কাউন্সিলরদের মধ্যে যেখানে আমাদের একাধিক প্রার্থী আছে আমরা আলোচনার মাধ্যমে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেব। আমরা নির্বাচনের আগেই বিষয়টির ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে পারবো বলে আশা করছি।’

