স্বাস্থ্য ডেস্ক : নানা ভেষজ গুণে ভরা নিমপাতা। অনেকে সর্বরোগের ওষুধ হিসেবেও নিমপাতাকে শ্রদ্ধার চোখে দেখেন। শতশত বছর ধরে আয়ুর্বেদিক ঐতিহ্যে নিমপাতার হরেক রকমের ব্যবহার হয়ে আসছে। বছরের অন্য সময় ব্যবহার হলেও শীত এলে এর কদর বেড়ে যায় অনেক বেশি। শীতে ঘা, পাঁচড়া, চুলকানি, রূপচর্চায়, পেটের রোগে এর সমান ব্যবহার চলে। নিমপাতার কিছু ব্যবহার বা উপকারিতা জানলেও এর বিস্তর কার্যকারিতা সম্পর্কে আমরা সবাই জানি না। তাই আজ জেনে নেবে নিমপাতার কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপকারী দিক সম্পর্কে।
– নিমের পাতায় অ্যান্টি-ফাঙ্গাল ও অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান রয়েছে। যা চুলের খুশকি দূর করতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।
– এটি চুলকানি, শুষ্কতা দূর করে। ত্বকের জ্বালা দূর করতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।
– আধা গ্লাস পানিতে রাতের বেলা ২ থেকে ৩ টুকরো নিম গাছের ছাল ভিজিয়ে রাখতে হবে। সকালে খালি পেটে সাতদিন পর্যন্ত খেলে বদহজম দূর হয়।
– ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সকালবেলা ৮ থেকে ১০টা নিমপাতার সঙ্গে ৪ থেকে ৫টা গোল মরিচ চিবিয়ে খাওয়া ভালো। এতে রক্তের শর্করা কমে যায়।
– চোখে ঝাপসা দেখা এবং ছানি পড়া কমানোর জন্য ৫ থেকে ৬ ফোঁটা নিমপাতার রসের সঙ্গে অল্প একটু দুধ মিশিয়ে খেলে উপকার পাবেন।
– লিভারে ব্যথা নিরাময়ের জন্য ৪ থেকে ৫টা নিমপাতার রস, সামান্য কাঁচা হলুদ এবং আধা চামচ আমলকীর গুঁড়া একসঙ্গে মিশিয়ে খেতে হবে।
– ফোঁড়া পাকানোর জন্য নিমের ছাল বাটা লাগালে ভালো উপকার পাওয়া যায়।
– চর্মরোগ দূর করতে পানিতে নিমপাতা সেদ্ধ করে ওই পানি দিয়ে গা মুছলে উপকার পাওয়া যায়।
– জলবসন্ত রোগীকে নিমপাতার উপর শোয়ালে জ্বালা- যন্ত্রণা কমে যায়।
– ব্রণ বৃদ্ধি করে যে সকল ব্যাকটেরিয়া নিমপাতা তা দূর করে। তাই নিয়মিত নিমপাতার রস মুখে লাগাতে পারেন।
– নিয়মিত দুয়েকটা নিমপাতা ভেজে ভাতের সঙ্গে খেলে আলসারের ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ রোধ করা যায়।
– নিমপাতার অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য কোনো সংক্রমণ বা পচনশীল অবস্থার ক্ষত সারাতে সাহায্য করে। তাই ক্ষত দূর করতে নিমপাতা বেটে লাগাতে পারেন।
– এতে উচ্চ পর্যায়ের অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমূহ রয়েছে যা দেহের ক্ষতিকারক টক্সিন বের করতে সাহায্য করে।
– নিমের তেলে বিভিন্ন ফ্যাটি এসিড এবং ভিটামিন ‘ই’ রয়েছে। এটি ত্বক কোষকে উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে।

