নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকায় অবস্থানরত বাংলাদেশ, ভূটান, ভারত ও নেপালের (বিবিআইএন) মধ্যে চলমান মোটর কার র্যালির রাজধানীর সংসদ ভবন এলাকা থেকে বেনাপোল হয়ে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। পথে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে বিরতি করবে এ র্যালি। সেখানে মহান মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতির প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন র্যালিতে অংশগ্রহণকারী ৮০ জন প্রতিনিধি দল।
মঙ্গলবার সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে আনন্দ ঘন পরিবেশে কলকাতার উদ্দেশে যাত্রা করে এর র্যালি। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের র্যালিতে অংশ নেয়া গাড়িগুলোর ফ্লাগ অফ করেন। এরপর একসঙ্গে যাত্রা করে ২০টি গাড়ি। এর আগে, সকাল পৌনে ৮টার পর রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁও থেকে সংসদ ভবনের উদ্দেশে রওয়ানা হয় র্যালিটি।
পথে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন এবং সেখানে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানানোর পর ফের সংসদ ভবনের উদ্দেশে যাত্রা করে এটি। সোয়া ৮টার দিকে সংসদ ভবনের সম্মুখে পৌঁছে র্যালি। এখানে বিভিন্ন ধরনের ব্যানার প্রদর্শন ও ফটোসেশনের পর বক্তব্য দেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও ভারতের বিদায়ী হাইকমিশনার ও বর্তমান রাষ্ট্রদূত পঙ্কজ শরণ।
এ সময় ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমাদের সীমান্তের দেয়ালও ভেঙে দিতে হবে। সংশয়, অবিশ্বাস ভাঙতে হবে। ইউরোপ যদি সীমান্তের সব বাধা অতিক্রম করে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এগিয়ে যেতে পারে, আমরা কেন পারবো না। আমাদের মধ্যে তো সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন রয়েছে।’
সেতুমন্ত্রী বিজয়ের মাসে মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণ করে বলেন, ‘ইতিহাসের এক স্বরণীয় দিন। আগামী ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস। বিজয় দিবসের প্রথম দিনে মোটার র্যালি বিজয় মাসের এক শুভ সূচনা হলো। ভারতও আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অংশীদার। মহান একাত্তরে কয়েক হাজার ভারতীয় সৈন্য শহীদ হয়েছেন। ভারত আমাদের কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে। ভারতের সহযোগিতায় বাংলাদেশের বিজয় অর্জনে তাদের স্মৃতি আমাদেও অমর হয়ে থাকবে।’
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম স্বীকৃতি দেয় ভুটান। তার পর নেপাল। তিনি এসময় ভুটান ও নেপালের প্রতি কৃতজ্ঞতার কথাও প্রকাশ করেন। নেপাল স্বাধীনতা লগ্ন থেকে আমাদের বন্ধুপ্রতিম দেশ হিসেবে কাজ করছে।
মন্ত্রী বলেন, ভারতের সঙ্গে দীর্ঘ ৬৮ বছরের সন্দেহ, অবিশ্বাস দূর করে সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে। সুতরাং সীমান্তের সব সমস্যাই সমাধান করা যাবে বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
মৈত্রী শোভাযাত্রা গত রোববার ঢাকায় পৌঁছানোর পর গত সোমবার আঞ্চলিক যোগাযোগ অবকাঠামো নিয়ে বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান ও নেপালের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ওই সেমিনার আয়োজন করা হয়।
সব সন্দেহ, অবিশ্বাস দূর করে সীমান্তের সব বাধা দূর করার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা নতুন দিকে যাত্রা শুরু করলাম। শুরুতে কিছু সমস্যা হয়তো থাকবে। কিন্তু সমস্যা সমাধান করে গন্তব্যে পৌঁছাতে হবে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘গাড়ি চলাচল চালু করতে হলে সংসদে আইন পাস হতে হবে। বাংলাদেশ সংসদে অধিবেশন হবে জানুয়ারিতে। এ অধিবেশনে আমাদের আইন পাস হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এভাবে সব দেশে আইন পাস হয়ে গেলে সড়ক যোগাযোগ চালু হয়ে যাবে। তবে সেটা বেশি দিনের নয়।’ দ্রুত আইন পাস হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মন্ত্রী।
এ সময় পঙ্কজ শরণ বলেন, এ যুগে অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য রিজিওনাল কানেক্টিভিটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ অর্জনে আমরা সব বাধা অতিক্রম করবো।
প্রসঙ্গত, সম্প্রীতির বার্তা ফেরি করে বেড়ানো চার দেশের মৈত্রী মোটর শোভাযাত্রা (ফ্রেন্ডশিপ মোটর র্যালি) সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে রোববার ঢাকায় পৌঁছেছে।
বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত ও নেপাল এই চার দেশের মধ্যে সড়ক যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে ১৪ নভেম্বর ভারতের উড়িষ্যার ভুবনেশ্বর থেকে ২০টি গাড়ির মৈত্রী মোটর শোভাযাত্রার পথচলা শুরু হয়। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা থেকে গত শনিবার দুপুরে ফেনীর বিলোনিয়া সীমান্ত দিয়ে মৈত্রী শোভাযাত্রা বাংলাদেশে ঢোকে। শোভাযাত্রাটি চট্টগ্রামে পৌঁছায়। সেখান থেকে ঢাকায় আসে। শোভাযাত্রায় চার দেশের ৮০ জন প্রতিনিধি রয়েছেন। আজ মঙ্গলবার ঢাকা ত্যাগ করলো মৈত্রী মোটর র্যালি।

