নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানী ঢাকাকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে ও পুরান ঢাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্লাস্টিক কারখানা স্থানান্তর করার লক্ষ্যে প্লাস্টিক শিল্পনগরী স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্যে ১৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘বিসিক প্লাস্টিক শিল্পনগরী’ প্রকল্পসহ মোট ৭ প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।
মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেকের বৈঠকে প্রকল্পগুলোর অনুমোদন দেয়া হয়।
বৈঠক শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘আজকের একনেকে ৭ প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৩৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারী তহবিলের ২ হাজার ১১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ২৫ কোটি ৪৬ লাখ টাকা ব্যয় হবে।’
পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, ‘বিসিক প্লাস্টিক শিল্পনগরী’ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শিল্পনগরীতে ৩৭০টি শিল্পপ্লট স্থাপিত হবে। এর মধ্যে ১০ শতাংশ মহিলা উদ্যোক্তাদের জন্য সংরক্ষণ করা হবে। ৩৭০টি প্লটে কমবেশি ৩৬০টি শিল্প ইউনিট স্থাপিত হবে। এসব শিল্প ইউনিটসমূহে ১৮ হাজার মানুষের সরাসরি কর্মসংস্থান হবে, যা দারিদ্র্য হ্রাসে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) ধলেশ্বরী নদীর কাছে ঢাকা-মাওয়া-খুলনা মহাসড়কের পাশে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় প্লাস্টিক শিল্প নগরী তৈরি করা হবে। প্রকল্পটি ২০১৮ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে।’
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘এ শিল্প নগরীটি গড়ে উঠলে পুরান ঢাকার আশে-পাশে অপরিকল্পিত ও অস্বাস্থ্যকর পরিবশে গড়ে ওঠা প্লাস্টিক শিল্প কারাখানাগুলোকে পরিবেশসম্মত উপযোগী স্থানে স্থানান্তর করা সম্ভব হবে। সেইসঙ্গে মানসম্মত প্লাস্টিক দ্রব্য উৎপাদনের সুযোগ সৃষ্টি এবং জিডিপিতে শিল্প খাতের অবদান বাড়াবে এবং কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে।
অনুমোদিত প্রকল্প গুলো হলো: ‘পল্লী অঞ্চলে পানি সরবরাহ প্রকল্প’। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৯৯ কোটি ৯৮ লাখ টাকা।
৮৪ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘ডেলিভারী সেবা দ্রুতকরণ’ প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
‘এসবি/সিআইডি ভবনের ৭ম থেকে ১১তম তলা পর্যন্ত ঊধ্বমুখী সম্প্রসারণ’ প্রকল্প। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় করা হবে ৪৩ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।
‘মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও ২৫০ শয্য বিশিষ্ট হাসপাতাল স্থাপন শীর্ষক প্রকল্প। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় করা হবে ৬১৫ কোটি ৫৩ লাখ টাকা।
‘চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন (২য় সংশোধিত)’ প্রকল্প। প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৯৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
৬২ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘ইনট্রিগ্রাট্রেড ম্যানেজমেন্ট অব রিসোর্স ফর প্রভার্টি এ্যালিভিয়েশন থ্রো কমপ্রিহেনসিভ টেকনোলজি’ প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
বিসিক শিল্প নগরী নির্মাণ প্রকল্পটির প্রধান কার্যক্রম হচ্ছে, ৫০ একর ভূমি অধিগ্রহণ, ৯ লাখ ২৫ হাজার ১০৩ ঘনমিটার ভূমি উন্নয়ন, ৩৭৫ বর্গমিটার প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ (তৃতীয় তলা পর্যন্ত), ২ হাজার গ্যালন ভূ-গর্ভস্থ পানি সংরক্ষণ, ২ হাজার গ্যালন বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, ৯৩ বর্গমিটার পাম্প ড্রাইভার, ৩৫ হাজার ৬৩৩ বর্গমিটার সড়ক নির্মাণ, ৩ হাজার ৫০৮ মিটার মেইন ড্রেন নির্মাণ, ৫ হাজার ৬০৬ মিটার সাব ড্রেন নির্মাণ, ৭০০ মিটার আউটলেট ড্রেন, ৫৩টি কার্লভাট তৈরি, ৫ হাজার ২৪৪ মিটার পানি সরবরাহের পাইপ লাইন তৈরি, ৫ হাজার ১৭৩ মিটার গ্যাস সরবরাহ লাইন, ২৯ দশমিক ৫ মিলোমিটার দুটি বৈদ্যুতিক লাইন ও সাব স্টেশন স্থাপন এবং ২ হাজার ১৪৯ মিটার শিল্পনগরীর সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, পরিকল্পনা সচিব সফিকুল আজম, পরিংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব কানিজ ফাতেমা প্রমুখ।

