
নিজস্ব প্রতিবেদক : পুলিশ হেফাজতে ব্যবসায়ীকে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃত কাফরুল থানার সাবেক এসআই রেজাউল করীম পাটোয়ারী পুরান ঢাকার হাজতখানা থেকে পালিয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালাচ্ছে। মহানগর দায়রা জজের গারদখানার দায়িত্বপ্রাপ্ত এসআই মোফাখখারুল ইসলাম ‘দৈনিক পাঞ্জেরী’কে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আজ রোববার বিশেষ জজ আদালত-৫ জামিন বাতিল করে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিলে গারদখানা থেকে প্রিজন ভ্যানে উঠানোর সময় তিনি পালিয়ে যান। ওই সময় আসামি রেজাউল করিমের হাতে হাতকড়া ছিল না বলেও জানায় সূত্র।
কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল হাসান জানান, তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে ইতোমধ্যে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে।
এসআই মোফাখখারুল ইসলাম জানান, এই ঘটনায় কোতয়ালী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলা নং-২৫ তারিখ: ২৯/১১/১৫ইং।
কাফরুল থানা সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি কাফরুল থানায় পুলিশ হেফাজতে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ থানার সাহেবগঞ্জ গ্রামের মরহুম জামাল হকের ছেলে ব্যবসায়ী ফারুক হোসেন কামালের মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল ফারুকের ছোট বোন পারভীন হক ঢাকার সিএমএম আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামিরা হলেন-কাফরুল থানার সাবেক দুই এসআই মো. নুরুজ্জামান ও মো. রেজাউল করিম পাটোয়ারী এবং সোর্স বাবু ওরফে রতন ওরফে বাবু মিয়া। ওই বছর ৬ নভেম্বর আদালত মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। কাফরুল থানা পুলিশ মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে। এরপর আসামিরা উচ্চ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেয়। পরবর্তীতে মামলাটি সিআইডি তদন্ত করে। সিআইডির পরিদর্শক মাজহারুল হক গত ১ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। আসামিরা এতদিন জামিনে ছিল।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ থানার সাহেবগঞ্জ গ্রামের মৃত জামাল হকের ছেলে ফারুক হোসেন কামাল রাজধানীর কাফরুল এলাকায় থেকে সাব-কন্ট্রাক্টরের কাজ করতেন। ২০১২ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় আসামি এসআই নুরুজ্জামান ও সোর্স বাবু কাফরুল থানাধীন ভান্ডারি স্টিলের দোকান থেকে ফারুক হোসেন কামালকে ‘মামলা আছে’ বলে কাফরুল থানায় নিয়ে যায়।
ওই দিন রাত ১১টায় বাদিনী থানায় গেলে থানা হাজতে তার ভাইয়ের চিৎকার শুনতে পান। পুলিশকে ম্যানেজ করে ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করলে আসামি এসআই নুরুজ্জামান ও এসআই রেজাউল করিম পাটোয়ারী এবং সোর্স বাবু ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে আসামিরা ব্যবসায়ী ফারুক হোসেন কামালকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।
২০১২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি আসামিরা ফারুক হোসেন কামালকে কাফরুল থানার ৫৭ (২) ১২ নম্বর মামলায় সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার দেখিয়ে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠায়। আদালত আসামির শরীরে জখমের চিহ্ন দেখে রিমান্ড নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান।
২০১২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি কারাগারে ফারুক হোসেন কামাল গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে কারা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে কারা হাসপাতাল থেকে তাকে ২০১২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেডিক্যালে পাঠানো হয়। সেখানে ওই দিন সাড়ে ১১টায় তিনি মারা যান।
এদিকে, এ মামলার আসামি রেজাউল করিম পাটওয়ারী পুলিশ হেফাজত থেকে পালানোর পর মামলার বাদিনী নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

