নিজস্ব প্রতিবেদক : অবৈধ সদস্যপদ দেয়ার নাম করে টাকা আত্মসাৎ করেছে রাজধানীর নীলক্ষেত বইয়ের দোকান মালিকদের সংগঠন ইসলামিয়া মার্কেট বণিক বহুমুখি সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ৪ জন। সমিতির সদস্যপদ বিক্রির বিধি-বিধান না থাকলেও, প্রতারণার মাধ্যমে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৪৬ লাখ ১৬ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন তারা।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। তাই গত সপ্তাহে ওই সমিতির সংশ্লিষ্ট চারজনের বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশ করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন দুদকের উপপরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা এসএম রফিকুল ইসলাম। কমিশন যাচাই-বাছাই শেষে অনুমোদন দিলেই তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। দুদক সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদনে যাদের বিরুদ্ধে মামলা সুপারিশ করা হয়েছে তারা হলেন- নীলক্ষেত ইসলামিয়া মার্কেট বণিক বহুমুখি সমবায় সমিতি লিমিডেটের সাবেক সভাপতি মো. মকবুল হোসেন খান, বর্তমান সভাপতি মো. আব্দুর রাজ্জাক ভূঁইয়া, সহ-সভাপতি মো. আমির হোসের খোকন এবং সাধারণ সম্পাদক মো. আলী আক্কাস।
কমিশনে জমাকৃত ওই প্রতিবেদনে বলা আছে, ওই সমিতির তৎকালীন সভাপতি মো. মকবুল হোসেন খান ২০০৯ সালের ১৮ নভেম্বর জনৈক মো. আনোয়ারুল্লাহ খন্দকারের কাছে থেকে সদস্যপদসহ দুটি চুক্তিপত্রের মাধ্যমে ১৭ লাখ টাকা নেন। অপর চুক্তিপত্রে টাকা গ্রহণের কারণ হিসেবে মার্কেটের দুর্যোগ মুহূর্তে প্রয়োজনের কথা থাকলেও, অনুসন্ধানে দুর্যোগ মোকাবেলার কিছু উল্লেখ ছিল না বলে জানা যায়।
জানা যায়, ২০১১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ওই ১৭ লাখ টাকার মধ্যে ৫০ হাজার টাকা নগদ ও ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা ৫টি সদস্যপদ বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে বলে দেখানো হয়। সেখানে প্রতিটি সদস্যপদ বাবদ দেড় লাখ টাকা ধরে তাকে পাঁচটি সদস্যপদ বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। বাকি ৯ লাখ টাকা পরিশোধ না করে আত্মসাৎ করা হয়।
এ ছাড়া চুক্তি অনুযায়ী চার শতাংশ হারে এই টাকার লভ্যাংশ হিসেবে নভেম্বর ২০১৫ পর্যন্ত লভ্যাংশ দাঁড়ায় ১৬ লাখ ৩২ হাজার টাকা, যা সুদ ও আসল টাকাসহ ৪৬ লাখ ৯২ হাজার টাকা। এসব টাকা অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজসে আত্মসাৎ করেছেন বলে দুদকের অনুসন্ধানে প্রমাণিত হয়।
ওই প্রতিবেদনে আরো বলা আছে, ওই সমিতির সদস্যপদ বিক্রির কোনো বিধি-বিধান না থাকায় তাদের সদস্যপদ বিক্রির ওই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অবৈধ। আর তাই আগের সভাপতি অপরাধ করে যাওয়ার পরও ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আসা নতুন কমিটি সেই টাকা আইনগতভাবে ফেরত দিতে বাধ্য থাকলেও তারা তা ফেরত দেননি। তাই তাদের নতুন কমিটির সভাপতি, সহ-সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধেও মামলার সুপারিশ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে দুদকের একজন পদস্থ কর্মকর্তা জানান, প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে এক ব্যক্তির কাছ থেকে এই টাকা আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ইসলামিয়া মার্কেট বণিক সমিতি লিমিডেটের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলার সুপারিশ করে প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছে। কমিশন এই প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই করে তা যথাযথ বলে মনে হলে মামলার অনুমোদন দেবে। পরবর্তীতে কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষেই তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হতে পারে।
উল্লেখ্য, নীলক্ষেত মার্কেটে ১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত ইসলামিয়া মার্কেট বণিক বহুমুখি সমবায় সমিতি লিমিটেড ও ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত বাবুপুরা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড আছে।

