ঢাকাSunday , 29 November 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

‘ভাইকিংসে’ আগ্রহ নেই চট্টগ্রামের দর্শকদের

Link Copied!

vhikingsচট্টগ্রাম প্রতিনিধি : বিপিএলের ঢাকা পর্বে চার ম্যাচের তিনটিতেই হেরেছে চিটাগং ভাইকিংস। সোমবার বেলা দুইটায় চট্টগ্রাম পর্বের প্রথম খেলায় বরিশাল বুলসের মুখোমুখি হবে তারা। তবে ঘরের মাঠে খেলা হলেও ভাইকিংস নিয়ে চট্টগ্রামের দর্শকদের মধ্যে তেমন আগ্রহ দেখা যাচ্ছেনা।
চার ম্যাচের তিনটিতেই হার এবং চট্টগ্রামের দল হবার পরেও চট্টগ্রামের মানুষকে সম্পৃক্ত করতে তেমন কোন ব্যবস্থা নেননি ভাইকিংসের মালিকরা। আর এ কারণেই দলটির প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছেন বলে জানালেন চট্টগ্রামের ক্রীয়ামোদিরা।
গত আসরে ‘চিটাগং কিংস’ নামে চট্টগ্রামের ফ্রাঞ্চাইজি বিপিএলে অংশগ্রহণ করলেও। এবারের আসরে দলটি মাঠে খেলছে ‘চট্টগ্রাম ভাইকিংস’ নামে। নামের সাথে সাথে মালিকানাতেও এসেছে পরিবর্তন। এবার দলটির মালিকানা পেয়েছেন ডিবিএল গ্রুপ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। মিডিয়া অ্যাম্বাসেডর হিসেবে রয়েছে চ্যানেল আই। মালিকানা পরিবর্তনের বিষয়টিকেও খুব একটা ভালো ভাবে দেখছেনা এই অঞ্চলের মানুষ। এছাড়া চট্টগ্রামের প্রতিনিধিত্বকারী দলটির মালিক চট্টগ্রামের বাসিন্দা না হওয়ায়ও দর্শকদের কাছে টানছে না দলটি। এরপরও যারা দলটির সমর্থন দিতে মাঠে যাওয়ার কথা বলছেন, তারা শুধু যাবেন জাতীয় দলের ওপেনার চট্টগ্রামের বাসিন্দা তামিম ইকবালের জন্যই।
চট্টগ্রামে বরিশাল, রংপুর এবং সিলেটের বিপক্ষে পরপর ৩টি ম্যাচ খেলবে চিটাগং ভাইকিংস। বিপিএলে চট্টগ্রাম পর্বের সব ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে জহুর আহমদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে। সোমবার বেলা দুইটায় বরিশাল বুলসের মুখোমুখি হবে ভাইকিংস। মঙ্গলবার (১লা ডিসেম্বর) মুখোমুখি হবে রংপুর রাইডার্সের। বুধবার (২রা ডিসেম্বর) সিলেট সুপারস্টার্স বনাম চিটাগাং ভাইকিংস এবং বৃহস্পতিবার (৩রা ডিসেম্বর) কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স বনাম চিটাগং ভাইকিংসের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
রোববার সকালে নগরীর ষোলশহর রেল স্টেশনে কথা হয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মিরাজ মাহবুবের সাথে। মিরাজ বাংলামেইলকে বলেন, ‘চট্টগ্রামের একটা দল যে বিপিএলে খেলছে তা টেলিভিশন না দেখলে বা পত্রিকা না পড়লে জানতেও পারতম না। আগামী কালই চট্টগ্রাম পর্ব শুরু হবে বিপিএলের, অথচ নগরের কোথাও ভাইকিংস নিয়ে কোন প্রচারোণা দেখলাম না। অথচ ঢাকার দল ঢাকা ডায়নামাইটসের বিভিন্ন প্লাকাড-পোষ্টার বন্দরনগরীর বিভিন্ন স্থানে শোভা পাচ্ছে।’
এই পর্যন্ত দলটির পাওয়া বলতে ভাইকিংসের দলপতি চট্টগ্রামের ছেলে তামিম ইকবালেন পারফমেন্স। ঢাকার প্রথম পর্বের প্রথম ম্যাচেই রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে খেলেছেন ৫১ রানের ঝকঝকে ইনিংস। দ্বিতীয় ম্যাচে সিলেট সুপার স্টারসের বিপক্ষে খেলেন ৬৯ রানের আরেকটি নজরকাড়া ইনিংস। এরপর দু’ম্যাচে তার সংগ্রহ যথাক্রমে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষে ৩৩ ও ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে ১। চার ম্যাচে তামিমের ব্যাটে এসেছে মোট ১৫৪ রান।
মাঠে না গেলেও টিভিতে খেলা দেখবেন জানিয়ে সিটি কলেজের ছাত্রী শর্মীলি ঘোষ বাংলামেইলকে বলেন, ‘শুধু তামিম আছে বলেই ভাইকিংসের খেলাগুলো দেখি। তবে এবারের দলটি তেমন ভালো হয়নি। ক্যাচ মিসের মহড়ায় একেবারেই বিরক্ত, সার্বিক পারফমেন্সও তেমন ভালো না। খবরের কাগজে দেখলাম অন্যান্য দল গুলোর সমর্থনে নিজ নিজ শহরে নানান ধরনের অনুষ্ঠান, মিছিলসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু চট্টগ্রামের ফ্রাঞ্চাইজিরা কি করলো কিছুইতো দেখলাম না। মাঠে যাওয়ার ইচ্ছা নেই, যদি পারি ঘরে বসেই খেলা দেখবো।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে চট্টগ্রামের এক ক্রীড়া ব্যাক্তিত্ব বলেন, ‘চিটাগাং ভাইকিংস যেহেতু চট্টগ্রামের দল, তাই দলটির মালিকানা চট্টগ্রামের কেউ পাবেন এমনটাই আশা করেন চট্টগ্রামের মানুষ। এখানকার মানুষ ক্রিকেট নিয়ে কতটা ক্রেজি তা পুরো বাংলাদেশই জানে। এখন যদি তাদের ইচ্ছা, মানসিকতার প্রতি খেয়াল রাখা না হয়, তবে ক্রীয়ামোদি ও ভক্তরা অনাগ্রহ দেখাবেন এটাই স্বাভাবিক।’
এছাড়া চট্টগ্রামের এই দলটির প্রতি আগ্রহ নেই এ অঞ্চলের অধিকাংশ ক্রীড়া সাংবাদিকদেরও। নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেকটা বিরক্তি প্রকাশ করেই চট্টগ্রামের সিনিয়র দুজন ক্রীড়া সাংবাদিক বাংলামেইলকে বলেন, ‘বিপিএল নিয়ে চট্টগ্রামের দলের জন্য গতবার যে আগ্রহ ছিল। এবার এর সিঁকি ফোটাও নেই। দর্শকতো দূরের কথা, দলটির সাথে চট্টগ্রামের বেশিরভাগ ক্রীড়া সাংবাদিকদেরও কোনো প্রকারের যোগাযোগ নেই। শুধুমাত্র কয়েকজন সাংবাদিক তাদের হয়ে সিন্ডিকেট ভিত্তিক কাজ করছেন। এখন মালিক পক্ষের উদ্দেশ্যে নিয়েই প্রশ্ন উঠা স্বাভাবিক। তারা কি চট্টগ্রামের ক্রিকেট খেলাার মানোন্নয়নে দল নিয়েছেন না কি টাকা ইনকামের জন্য নিয়েছে তা এখন প্রশ্ন।’