ঢাকাSaturday , 28 November 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সম্প্রীতি রক্ষায় প্রয়োজন পারস্পরিক সহযোগিতা

Link Copied!

akbar-aliনিজস্ব প্রতিবেদক : উদ্দেশ্যমূলকভাবে একটি গোষ্ঠী দেশের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধন ছিন্ন করার অপচেষ্টায় লিপ্ত আছে। রাজনৈতিক দায়িত্বহীনতা এবং প্রশাসনকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে না দেয়ায় এ ধরনের ঘটনা অব্যাহতভাবে ঘটছে। এ অবস্থায় পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সকলের মধ্যে সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা।
শনিবার দুপুরে রাজধানীর ডেইলি স্টার ভবনের এস মাহমুদ সেমিনার হলে দ্য হাঙ্গার প্রজেক্ট ও দ্য ডাইভারসিটি সেন্টার আয়োজিত ‘সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় করণীয়’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় তারা এসব কথা বলেন।
এ সময় সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. আকবর আলী খান বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশে যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, যে কোনো সময় যে কোনো ঘটনা ঘটে যেতে পারে। তবে এটাকে আমি কিছু মনে করি না, কোন সমস্যাই স্থায়ী নয়, সমাধান আছে। এখানে শান্তিপূর্ণভাবে একে অপরের নির্ভরশীলতা তৈরি করতে হবে। সমস্যা সমাধানে আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন হওয়া দরকার।’
স্বল্প আয়তনের দেশে যে পরিমান মানুষ বসবাস করে, এখানে পরস্পরের প্রতি সম্প্রীতি ছাড়া টিকে থাকা অসম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাজনৈতিক পরিবর্তন দরকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দলসমূহের মধ্যে সমালোচনা থাকবে, তবে সেটা যেন গালাগালি না হয়। গালাগালি বন্ধ করে একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে কথা বললে রাজনৈতিক উত্তাপ কমে যাবে।’
আকবর আলী খান আরও বলেন, ‘সামাজিক পুঁজি গঠন না করতে পারলে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উন্নয়ন ব্যহত হবে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ সঙ্কট থেকে উত্তরণ সম্ভব।’
বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, ‘আমাদের দেশে হিন্দু-মুসলমানদের যে মনোমালিন্য এটা উপমহাদেশের ঐতিহাসিক সমস্যা। তবে এটা সমাধানযোগ্য। বর্তমানে সারা পৃথিবীর মধ্যে রাজনৈতিক যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তার মধ্যে আমাদের ভালো থাকার আশা করতে পারি না। তবে তুলনামূলকভাবে বাংলাদেশে বিশ্বের যে কোনো স্থানের চেয়ে শান্তি ও স্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছে।’
তিনি বলেন, ‘পুলিশ প্রশাসনকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিলে আমরা এ পরিস্থিতি থেকে মুক্ত হতে পারি। অতীত কাল থেকেই সম্প্রীতি আমাদের হৃদয়ে আছে, কিন্তু বর্তমানে কিছু পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হচ্ছে। যতোই উস্কানি আসুক আমাদের ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সম্প্রীতির মধ্যে এগিয়ে যেতে হবে।’
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর রানা দাশ গুপ্ত বলেন, ‘আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক উন্নয়নের দায়িত্ব আমাদের। পাকিস্তান ভেঙ্গে বাংলাদেশ হওয়ার পরেও আমাদের সংখ্যালঘুদের ভাগ্যে কী হলো? তারা যেভাবে দেশ থেকে বিতাড়িত হচ্ছে তাতে এ সংখ্যালঘুরা শূন্যে নেমে আসতে আর কত বছর লাগবে? আমি অবাক হই, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর পরেও সংবিধানে ধর্মতন্ত্রও প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে আবার ধর্ম নিরপেক্ষতার কথাও বলা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের রাজনীতির একটি অংশ মনে করে সংখ্যালঘুরা দেশ থেকে চলে গেলে দেশ বাঁচবে ধর্ম বাঁচবে। আরেক অংশ মনে করে সংখ্যালঘুরা থাকলে ভোট আমার আর চলে গেলে জমিটা আমার। রাষ্ট্র ও রাজনীতিকেই ঠিক করতে হবে তারা রাষ্ট্রকে কেমন দেখতে চায়? সেই সঙ্গে সিভিল সোসাইটিকে দায়িত্ব নিতে হবে।’
যে চেতনারভিত্তিতে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিলো সে চেতনায় পরিচালানা না করতে পারলে দেশ অচিরে পাকিস্তান আফগানিস্তানে পরিণত হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
হাঙ্গার প্রজেক্টের গ্লোবাল ভাইস প্রেসিডেন্ট ও কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘আমাদের সমাজে ভিন্ন গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে বাস করে। বিভিন্ন সময় তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব হয়। তবে এ দ্বন্দ্বকে কাজে লাগিয়ে একটি গোষ্ঠী সমাজে সহিংসতা সৃষ্টি করছে। ভিন্নমত, পথ ও গোষ্ঠীর সঙ্গে কীভাবে শান্তিপূর্ণভাবে বাস করা যায় এটা আমাদের ভাবতে হবে। কে বা করা উস্কানি দিচ্ছে তা খুঁজে বের করতে হবে। তা না হলে বিরাট সমস্যার সম্মুখীন হবো।’
এ সময় হাঙ্গার প্রজেক্টের দেশব্যাপী সম্প্রতি রক্ষায় গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচির সুফল তুলে ধরেন ড. বদিউল আলম মজুমদার।
এ সময় আরও বক্তব্য দেন, মানবাধিকার কর্মী ফরিদা আক্তার, হামিদা হোসেন, আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, ইয়াং গ্লোবাল লিডার লুৎফে সিদ্দিকী প্রমুখ।