ঢাকাSaturday , 28 November 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

গলা ভেজালেন মোদি-সোনিয়া, সম্পর্ক ভিজবে?

Link Copied!

modiআন্তর্জ‍াতিক ডেস্ক : লোকসভা ভোটের আগে থেকেই ছুটছিল মোদির রথ। ভোটে ধরাশায়ী বিরোধীদের পাত্তাই দেননি তিনি। ফুটবলে যেমন দামি খেলোয়াড়কেও অসময়ে সাইড লাইনে বসিয়ে দেন কোচ, তেমনি তিনিও নিজের দলে সাইড লাইনে বসিয়ে দিয়েছিলেন আদভানির মতো জাঁদরেল নেতাদের। কিন্তু রাজনীতির খেলা বড্ড অদ্ভুত, কখন যে কোন গোলবারে বল ঢোকে! সময়টা এখন ভাল যাচ্ছে না তার। এই এক বছরেই নরেন্দ্র মোদি বুঝে গেছেন, দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়েও ইচ্ছেমতো দেশ চালানো যায় না।
তাই কি মোদির কণ্ঠে একটু নরম সুর? প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ও কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীকে চা-চক্রের নিমন্ত্রণ দিয়ে নিজেও গলা ভেজাতে চেয়েছেন তিনি? তবে নিরাশ করেননি তারা। শুক্রবার সন্ধ্যায় তারা একসাথে গলা ভিজিয়েছেন!
মোদির আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় দিল্লির ৭ নম্বর রেসকোর্স রোডে মিলিত হয়েছিলেন তারা। সঙ্গে ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অরুণ জেটলি ও এন বেঙ্কয়াইয়া নায়ডু।
যে প্রধানমন্ত্রী দেশের বাইরে গিয়েও বিগত ইউপিএ সরকারের সমালোচনায় পঞ্চমুখ ছিলেন, সেই তিনিই হঠাৎ প্রশংসায় ভাসালেন, বললেন অবদানের কথা! লোকসভায় সংবিধান নিয়ে বিশেষ আলোচনা সভায় মোদি বলেন, ‘দেশ গঠনে পূর্বতন সব সরকারেরই অবদান আছে। পুরনো সরকার কিছু করেনি, এটা বলতে পারব না।’
সংবিধান রচনায় আম্বেদকরের ভূমিকার কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সংবিধানের একটা ছবি নিয়েও এখন প্রবল বিরোধ হয়। আর সেই সময়ে বাবাসাহেবের নেতৃত্বে তিন বছরে এই সুবিশাল সংবিধান রচিত হয়েছিল। আজকের এই বিরোধের দিনে যা ভাবাই যায় না।’
সর্বশেষ রাজ্যসভার ভোটে দিল্লি আর বিহারে দলের বিপর্যয়ের পর প্রধানমন্ত্রী মোদিকে তাড়া করছে দুঃস্বপ্ন। ভেবেছিলেন, লোকসভার পর একের পর এক রাজ্য জয় করে রাজ্যসভাও হাতের মুঠোয় নেবেন। কিন্তু সে পথ যে কণ্টকাকীর্ণ, তা বুঝতে বাকি নেই আর। আর তাই বোধহয় প্রধানমন্ত্রীর কানে গান বেজেছিল, ‘তোমায় আমি ডেকেছিলেম চায়ের নিমন্ত্রণে!’
ভারতের সংবাদ মাধ্যম সূত্রে জানা যায়, মূলত জিএসটি অর্থাৎ পণ্য পরিষেবা বিল নিয়ে আলোচনা করতেই নরেন্দ্র মোদির এই চা-চক্রের আয়োজন। তবে জিএসটি বিল নিয়ে আলোচনার আগে সংসদে আটকে থাকা অন্যান্য বিষয় নিয়ে মনমোহন সিং এবং সোনিয়া গান্ধির সঙ্গে কথা বলেন মোদি। আবার সংসদের কাজকর্ম সুষ্ঠুভাবে চালানোর ব্যাপারে নরেন্দ্র মোদিকে প্রস্তাব দেন সোনিয়া গান্ধি। তারপর জিএসটি নিয়ে তিনটি দাবি জানান কংগ্রেস সভানেত্রী।
বিজেপি সরকার কেন্দ্রে আসার পর থেকে এই প্রথমবার বিরোধীদের মুখোমুখি বসলেন নরেন্দ্র মোদি। জনগণের চাপেই এ বৈঠক বলে কটাক্ষ করেছেন কংগ্রেসের সহ-সভাপতি রাহুল গান্ধি। তবে কটাক্ষ উপেক্ষা করে রাহুলকে ছাড়াই প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণ রক্ষা করেন সোনিয়া। এখন দেখা যাক, এই চা-চক্রে গলা ভেজানোর পর দু’পক্ষের সম্পর্ক কিছুটা ভেজে কি না।
রাজ্যসভায় জিএসটি বিলটি পাস করাতে বিরোধীদের সমর্থনের প্রয়োজন। কারণ সেখানে শাসক দল সংখ্যালঘিষ্ঠ। তাই কংগ্রেসকে ছাড়া কোনো বড় পদক্ষেপও নিতে পারবে না সরকার পক্ষ। আটকে যাবে রাজ্যসভায়। তাই এই গলাভেজা নিমন্ত্রণ!
কেন্দ্রীয় সরকার আগামী বছরের মধ্যেই এই বিল পাস করাতে চায়। কিন্তু এই শীতকালীন অধিবেশনে বিল না পাস হলে সেই ‘ডেটলাইন’ পার করে যাবে। আবার জিএসটি বিলে সংশোধনী না আনলে এই বিলে সম্মতি জানাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে কংগ্রেস। অন্যদিকে, বিলটি পাস করাতে বদ্ধ পরিকর মোদি সরকার।
ভারতের সংবিধান প্রণয়নের ৬৫ বছর পর একটা বিষয় পরিষ্কার, অনেক দূরদর্শিতা নিয়ে সে দেশের গণতান্ত্রিক, বহুদলীয় রাষ্ট্রকাঠামোর ভিত গড়েছিলেন সংবিধান প্রণেতারা। কারণ এই রাজ্যসভাই মর্যাদার সঙ্গে ক্ষমতার মাঠে আসীন রেখেছে ছোট বড় নানা রাজনৈতিক দলকে। মোদি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়েও এখানে এসে আটকা পড়েছেন। একলা চলো নীতি এখানে কাজ করবে না, যাবে তো একসঙ্গে চলো!