লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি : জেলায় কয়েক মাস ধরে গ্যাসের তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকরা। শিল্প কারখানা ও গ্যাস ফিলিং স্টেশনের মালিকরা বিভিন্ন জায়গায় ধর্ণা দিয়েও গ্যাস সমস্যার সমধান করতে পারেনি। বিকল্প জ্বালানি হিসেবে মাটির চুলা ব্যবহার করছেন অনেকেই।
জানা যায়, লক্ষ্মীপুরে গত ৫ মাস ধরে গ্যাসের তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এ কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন আবাসিক ও বাণিজ্যিক গ্রাহকরা। প্রতিদিন রাত ১২টার পর গ্যাস আসলেও চলে যায় ভোর ৬টার দিকে। এতে করে রান্না-বান্নার কাজ নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন গৃহিণীরা।
অপরদিকে, গ্যাস নির্ভরশীল শিল্প কারখানার শ্রমিকরা কাজ করতে না পারায় ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন। নিরবচ্ছিন্ন গ্যাসের দাবিতে সম্পতি লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সামনে রাস্তায় নেমে মানববন্ধন করেছে শত শত গ্রাহক। এসময় জেলা প্রশাসক বরাবর গ্যাস সমস্যা সমাধানের দাবিতে স্মারকলিপি দেন তারা ।
পৌর শহরের শিল্পকলোনী, ল’ ইয়ার্স কলোনী, মোবারক কলোনী, মদিন উল্যা হাউজিংসহ বিভিন্ন আবাসিক এলাকার কয়েকজন গৃহিণী জানান, সকাল ৬টার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গ্যাস না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা। গ্যাস না থাকায় সকালের নাস্তা ও দুপুরের খাবার পর্যন্ত তাদের ঠিকমতো খাওয়া হয় না। অনেকেই বিকল্প ব্যবস্থায় লাকড়ি চুলা ব্যবহার করলেও নিয়মিত গ্যাস বিল পরিশোধ করতে হয় তাদের। এতে করে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা।
বিসিক শিল্পনগরীর বেকারী কারখানার মালিক মো. লোকমান হোসেন জানান, নিয়মিত গ্যাস সরবারহ না থাকায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এতে করে পণ্য সরবারহ করতে না পারায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তিনি।
লক্ষ্মীপুর বাখরাবাদ গ্যাস অফিস সূত্র জানায়, জেলা শহরসহ আশেপাশের এলাকায় প্রায় ৮ হাজার গ্রাহক রয়েছে। বার্নার রয়েছে প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার। গত জুন মাস থেকে নভেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৫ মাস লক্ষ্মীপুরে তীব্র গ্যাস সঙ্কট দেখা দিয়েছে।
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের সুন্দরপুর গ্যাস ফিল্ড থেকে প্রতিদিন লক্ষ্মীপুরে ৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার কথা থাকলেও সেখানে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১ মিলিয়ন ঘনফুট। এর ফলেই গ্যাসের তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।
লক্ষ্মীপুর বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন ব্যবস্থাপক (বিক্রয়) আলতাফ হোসেন গ্যাস সঙ্কটের কথা স্বীকার করে বলেন, চাহিদার তুলনায় গ্যাস সরবরাহ কম থাকায় বর্তমানে গ্রাহকরা কিছুটা কষ্টে রয়েছেন। চাহিদা মত গ্যাস উত্তোলন করা হলে এ সমস্যা থাকবে না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

