আর্ন্তজাতিক ডেস্ক : বগুড়ার শিবগঞ্জে শিয়া মসজিদে দুর্বৃত্তরা গুলি এক ইমামকে হত্যা করেছে। ওই ঘটনার পর জঙ্গি তৎপরতা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ’ তাদের ওয়েব পোর্টালে জানিয়েছে, ইসলামিক স্টেট ওই হামলার দায় স্বীকার করেছে।
ওই গ্রুপটি জানিয়েছে, হোসেনি দালান, বাংলাদেশে ইতালীয় এবং জাপানি নাগরিককে হত্যার দায় স্বীকার করেছে আইএস। বগুড়ায় হামলার সাত ঘন্টা পর ওই সাইটের এক টুইটে শুক্রবার মধ্যরাত তিনটার দিকে বলা হয়েছে আইএস বগুড়ায় হামলার দায় স্বীকার করেছে।
ওই এলাকার প্রবীণ আলী আহমেদ জানিয়েছেন, ওই ঘটনার পর আতঙ্কে শুক্রবার সকালে মাত্র দুইজন মুসল্লি ওই মসজিদে নামাজ পড়তে এসেছেন। তিনি আরো জানিয়েছেন, এখানে শিয়া ও সুন্নিদের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই কিন্তু মাঝে-মধ্যে কিছু অপরিচিত যুবক মোটরসাইকেল নিয়ে এখানে আসা যাওয়া করত।
তারা এখানে নামাজ পড়া ও সেজদা দেয়া নিয়ে শিয়াদের সঙ্গে মতবিরোধ প্রকাশ করত। মসজিদের পাশেই তাদের একটি ইমামবাড়া পাঠাগার আছে। সেখানে ধর্মীয় আলোচনা হত। সেখানেও তারা তাদের মতাদর্শ নিয়ে তর্ক-বিতর্ক করত। এই মসজিদে নিহত মুয়াজ্জিন শাহিনুল মাওলানার সঙ্গে ওই যুবকদের প্রায়ই তর্ক বিতর্ক হত।
তিনি আরও জানিয়েছেন, এই মসজিদের ছয় শতাংশের মধ্যে এক শতাংশ জায়গা এখানকার মজিবুর মিয়া বেদখল করে নিয়েছিল। এ জায়গা নিয়ে তিন-চার বছর ধরে মামলা চলছে। দুই মাস আগে মজিবুর মিয়া মারা যান। তার ছেলে মনোয়ার, বুলু, সিরাজ ও জাহাঙ্গীর এ মামলা পরিচালনা করছে। কিন্তু এ ঘটনায় শিয়াদের কোনো অভিযোগ নেই। তাদের সন্দেহ ওই অপরিচিত যুবকদের ওপর।
এর আগে মহররমের সময় পুরান ঢাকার ইমামবাড়ায় শিয়াদের তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতির মধ্যে গ্রেনেড হামলায় দুইজন নিহত হন, আহত হন শতাধিক। ইমামবাড়ার ঘটনার পরও আইএস জড়িত বলে দাবি করেছিল ‘সাইট ইন্টিলিজেন্স গ্রুপ’।
তবে বাংলাদেশে আইএস আছে এটা বরাবরই অস্বীকার করে আসছে বাংলাদেশ। আর এ জাতীয় কথা ভিত্তিহীন বলেও দাবি সরকারের।
ইসলামিক স্টেট-দাওলা আল ইসলামিয়া নামের একটি পেইজ চালাতেন নাহিদ নামের এক যুবক। সে নিজেকে জিহাদি জন নামে পরিচয় দিয়ে বাংলাদেশে আইএসের প্রচারণা চালাত। তাকে সম্প্রতি আটক করেছে পুলিশ।
এর আগেও বিভিন্ন সময়ে আইএস সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে সন্দেহভাজন জঙ্গিদের আটক করেছে পুলিশ। বিদেশি হত্যার ঘটনায়ও আইএস সদস্যরা জড়িত বলে কথা উঠেছে। কিন্তু এ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ার পরও সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে বার বার বলা হচ্ছে, আইএস এর কোনো কর্মকাণ্ড বাংলাদেশে নেই।
কিন্তু আইএস এর মাসিক পত্রিকা ‘দাবিক’ এর সর্বশেষ সংখ্যায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশে আইএস একজন নতুন আঞ্চলিক নেতাকে তৈরি করছে। আর তারা হামলার জন্য সংগঠিত হচ্ছে।

