রাজশাহী প্রতিনিধি : কোমলমতি শিশুদের ইতিহাস, ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচয় করে দিতে নানামুখি কৌশল অবলম্বন করানো হয়। এর মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের একটি কৌশল হলো শ্রেণিকক্ষের নামকরণ। প্রথম থেকে পঞ্চম পর্যন্ত শ্রেণিকক্ষগুলোর মজার নাম ব্যবহার করা হয়। কোথাও ফুলের নামে, কোথাও নদীর নামে আবার কোথাও বীর শ্রেষ্ঠদের নামে অথবা ঐতিহাসিক কোনো জায়গার নামে। শ্রেণিকক্ষের নাম অনুযায়ি শিশু শিক্ষার্থীরা সেইসব নামে ইতিহাস জানতে পারে। এতে শিশুদের জ্ঞানের পরিধি আরো বেশি বৃদ্ধি পায়।
কিন্তু নগরীর একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের নাম রাখা হয়েছে ওই বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের নামে। এ নাম করণে শিশুরা কী শিক্ষা অর্জন করবে তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
নগরীর শিরোইল কলোনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের নামকরণে বিখ্যাত ও স্মরণীয় ব্যক্তিদের নামে স্থলে ওই বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের নাম দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকাবাসী ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যালয়টির পঞ্চম শ্রেণিতে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে নুর মোহাম্মদ, চতুর্থ শ্রেণিতে সহসভাপতি হিসেবে মৃত ডা. ফাইজ উদ্দিন, তৃতীয় শ্রেণিতে সফল সভাপতি হিসেবে মৃত আব্দুল মজিদ, শিশু শ্রেণিরকক্ষে বিদ্যালয়ের সহায়ক হিসেবে সাজেদা খাতুন আঙ্গুরা এবং প্রথম শ্রেণির কক্ষে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে সোলায়মান শেখের নামকরণ করা হয়েছে।
শুধু তাই না, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওইসব ব্যক্তির ইতিহাস দিয়ে বিভ্রান্তিতে ফেলা হয়েছে। পঞ্চম শ্রেণির নামকারণ করা হয়েছে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে নুর মোহাম্মদের নামে। তার জন্মের সাল উল্লেখ করা হয়েছে ২ মে ১৯৫৮ সালে। বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয়েছে ১৯৬৩ সালে। যখন বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয় তখন প্রতিষ্ঠতার বয়স ছিল মাত্র ৫ বছর। এতো অল্প বয়সে তিনি কীভাবে একটি বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা করতে পারেন তা নিয়ে এলাকাবাসীর মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এছাড়াও ডা. ফাইজ উদ্দিনকে ডাক্তার হিসেবে পরিচয় দেয়া হয়েছে। তবে এলাকাবাসী জানান, তার শুধু ওই এলাকায় একটি ওষুধের দোকানই ছিল। এছাড়াও চিকিৎসা শাস্ত্রে তার কোনো সনদ ছিল না।
বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে বেঁচে থাকা হাদিস মিঞা জানান, তিনি নিজে কোদাল হাতে ধরে বিদ্যালয়ের মাটি খুঁড়েছেন। তার সঙ্গে ওই এলাকার এমামুল হক, আলাউদ্দিন মেম্বার, আবু বকর মেম্বার, শকুর মোহাম্মদ মেম্বার, খোদা বক্স, গাফ্ফার সরদার ও গফুর সরদার বিদ্যালয় তৈরিতে অংশ নেন।
অসমান আলী জানান, যেসময় বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয় ওই সময় নুর মোহাম্মদ ওই বিদ্যলয়ে পড়েছেন। এরপরেও তিনি প্রতিষ্ঠাতা হন কি করে?
তিনি আরো জানান, রাজশাহী মহানগরীতে চার শহীদের অন্যতম নেতা শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান, ড. জোহাসহ অনেক বিখ্যাত ব্যক্তি আছেন। এছাড়াও রাজশাহীতে আরো অনেক ঐতিহাসিক এলাকার নাম আছে। শ্রেণিকক্ষের নামগুলোতে সেসব নাম ব্যবহার করা যেতো।
এদিকে, ৫টি শ্রেণি কক্ষের মধ্যে যাদের নাম ব্যবহার করা হয়েছে তাদের মধ্যে প্রথম শ্রেণির সোলাইমান বাদে সকলেই বিএনপি নেতা কর্মী। মৃত আব্দুল মজিদ বিদ্যলয় সভাপতি বিএনপি নেতা ও ইউনিয়ন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ছিলেন, মৃত ডা. ফাইজউদ্দিনও বিএনপি নেতা ছিলেন। নুর মোহাম্মদ তিনি সাবেক কমিশনার ও বিএনপি নেতা, সাজেদা খাতুন আঙ্গুরা তিনি ওয়ার্ডের বিএনপি নেতা।বিদ্যালয়টির বর্তমান সভাপতি নুরুজ্জামান টিটু জানান, শ্রেণিকক্ষের নামের বিষয়ে তাদের জানানো হয়েছিল যে যারা বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছে তাদের নামকরণ করতে। সে কারণে এভাবে নামকরণ করা হয়েছিল।
এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কাশেম জানান, নিদের্শনা অনুযায়ি কোমলমতি শিশুদের ইতিহাস, ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচয় করে দিতে কবি, সাহিত্যিকসহ বিখ্যাত ব্যক্তি, ঐতিহাসিক এলাকার নামে শ্রেণিকক্ষের নামকরণের কথা। যদি এ ধরনের নামকারণ হয়ে থাকে তাহলে সেটি ঠিক হয়নি। বিষয়টি পরিদর্শন করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান তিনি।

