স্পোর্টস ডেস্ক : বিপিএলে দিনের দ্বিতীয় ম্যাচটাই হতো লো স্কোরিং। নাটকীয়তাও থাকতো অনেক। দেখা গেছে ১১০ রান করেও জিতে যাচ্ছে কেউ কেউ। কিন্তু দিনের প্রথম ম্যাচটা যে এমন লো স্কোরিং হবে এবং মাত্র ১০৯ রান করেও ৬ রানে কেউ জিততে পারে, সেটা অন্তত প্রথম চার দিনের চরিত্র দেখে কেউ বিশ্বাসই করতে চাইবে না।
বিপিএলে শুরুর তিনদিনের প্রথম যে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল, সবগুলোই ছিল হাই স্কোরিং। প্রায় ১৭০-এর ওপর স্কোর উঠেছেই সবগুলো ম্যাচে; কিন্তু এই প্রথম দিনের প্রথম ম্যাচটি একটি লো স্কোরিং ম্যাচ দেখলো বিপিএল।
বিপিএলের পঞ্চম দিনের প্রথম ম্যাচটিতে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ১০৯ রানে অলআউট হয়ে যায় রংপুর রাইডার্স। জাবে ব্যাট করতে নেমে সিলেট অলআউট হয়েছে ১০৩ রানে। ফলে শ্বাসরূদ্ধকর ম্যাচটিতে মাত্র ৬ রানের দুর্দান্ত জয় পেয়ে গেলো সাকিব আল হাসানের রংপুর রাইডার্স।
সিলেটের চরম দুর্ভাগ্য। প্রথম দুটি ম্যাচে তারা হেরেছে ১ রানের ব্যবধান। তৃতীয় ম্যাচে এসে হারলো ৬ রানের ব্যবধানে। হারের বৃত্ত থেকেই বের হতে পারছে না মুশফিকুর রহিমের দল। প্রথম ম্যাচে চিটাগাং ভাইকিংসের ১৮০ রানের জবাবে সিলেট করতে পেরেছিল ১৭৯ রান। দ্বিতীয় ম্যাচে বরিশাল বুলসের করা ১০৮ রানের জবাবে সিলেট করেছিল ১০৭ রান।
আজ সিলেটের প্রত্যাশা ছিল প্রথম জয়ের। সে লক্ষ্যে বোলাররা বেশ ভালো করেছিলেন। সাকিবের রংপুরকে অলআউট করে দিয়েছিলেন ১০৯ রানে। জবাবে ব্যাট করতে নেমে মুশফিকই ছিলেন সিলেটের শেষ ভরসা। তিনি ৩৪ বলে ২৫ রানে অপরাজিত থাকলেও, তার অপরপ্রান্তেও ব্যাটসম্যানরা ছিলেন শুধু আসা-যাওয়ার মিছিলে।
১১০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভারেই সিলেটের ওপেনার জশুয়া কবকে ফিরিয়ে দেন সাকিব আল হাসান। অথ্যাৎ দলীয় ৫ রানেই ফিরে যান কব। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ২৬ রান করেন দিলশান মুনাভিরা এবং মুমিনুল হক। এই জুটিও ভাঙ্গে সাকিব।
এরপর ২১ রানের জুটি গড়েন মুমিনুল আর মুশফিক। কিন্তু থিসারা পেরেরার বলে মুমিনুল এলবিডব্লিউ হয়ে গেলে এই জুটি ভাঙ্গে। ২৩ বলে মুমিনুল করেন ২৯ রান। এরপর নাজমুল ইসলাম রিটার্ন ক্যাচ দেন সেনানায়েকের হাতে। রবি বোপারাকে এলবিডব্লিউ করে আরাফাত সানি ফিরিয়ে দিলে দারুন বিপদে পড়ে যায় সিলেট। অথ্যাৎ ৫২ থেকে ৫৬, এই চার রানে সিলেটের পড়েছে ৩ উইকেট।
তবে এখান থেকে দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করছেন মুশফিক। কিন্তু সিলেটের ব্যাটসম্যানরা ছিলেন শুধু আসা-যাওয়ার মিছিলে। নাসুম আহমেদ, নাজমুল হোসেন মিলন, নুরুল হাসান কিংবা মোহাম্মদ শহিদরা ছিলেন ব্যর্থদের কাতারে।
তবুও শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৭ রান। ব্যাটসম্যান মুশফিক এবং অজন্তা মেন্ডিস। বোলার আবু জায়েদ চৌধুরী। সাকিব কিছু পরামর্শ দিয়েছিলেন আবু জায়েদকে। তাতেই সম্ভবত টোটকা পেয়ে গিয়েছিলেন তিনি এবং ওভারের দ্বিতীয় বলেই তুলে নিলেন অজন্তা মেন্ডিসের উইকেট।
ব্যাট হাতে সর্বোচ্চ ৩৪ এবং বল হাতে ৩ উইকেট নেয়ার কারণে সাকিবই হলেন ম্যাচ সেরা। রংপুরের আবু জায়েদ নিলেন ২ উইকেট।

