ঢাকাTuesday , 24 November 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ফরম পূরণের নামে লাখ টাকার কারবার

Link Copied!

mannanনিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর মাতুয়াইলে অবস্থিত মান্নান হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে ফরম পূরণ বাণিজ্য এখন তুঙ্গে। ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিতব্য এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফরম পূরণের নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। সরকার নির্ধারিত নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে, জিম্মি করে এসব অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান এবং ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি গোলাম মোর্শেদ অরুণ। এমনটাই অভিযোগ প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থী-অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগের নিয়মিত শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণ বাবদ ১ হাজার ৪ শ ৫৫ টাকা ফি নির্ধারণ করে দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বিজ্ঞান বিভাগের অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের জন্য এই ফি ১ হাজার ৫শ ৫৫ টাকা। মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের নিয়মিত শিক্ষার্থীদের ফি ১ হাজার ৩শ ৫৫ টাকা এবং অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের ফি ১ হাজার ৪শ ৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে মন্ত্রণালয়ের নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৭ হাজার থেকে সাড়ে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত ফরম পূরণ বাবদ আদায় করছে প্রতিষ্ঠানটি।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, মান্নান হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে ২০১৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার জন্য নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ২০০ শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ১৭৯ জন কৃতকার্য হয় এবং অকৃতকার্য হয় ২১ জন। অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অভিযোগ, ফরম পূরণের সময় অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের জন্য ইচ্ছা করেই তাদের ফেল করানো হয়েছে।
অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধান করে দেখা গেছে, ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকার সঙ্গে এসএসসির পর একই স্কুলের কলেজ শাখায় ভর্তি হওয়ার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়ে আসন্ন পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে তারাও। নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ফাইনাল বোর্ড পরীক্ষা অংশ নেয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকলেও, নির্বাচনী পরীক্ষার দায়িত্ব নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উপর থাকায়, এটিকে সুযোগ হিসেবে নিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অলিখিত নিয়মের বেড়াজালে মুখ খুলতে পারছেন না তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘নির্বাচনী পরীক্ষায় আমি এ প্লাস পেয়েছি। আমাকে ৭ হাজার টাকা দিয়ে ফরম পূরণ করতে হয়েছে। সরকার বিজ্ঞান বিভাগের জন্য ১,৪৫৫ টাকা নির্ধারণ করেছে। কিন্তু স্কুলের প্রধান শিক্ষক ৭ হাজার টাকা নিয়েছে।’
আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘সরকারি নিয়ম দেখিয়ে বাড়াবাড়ি করলে ফরম পূরণ করা যাবে না। তারপর ব্যবহারিক নম্বর স্কুলের শিক্ষদের হাতে। এ কারণে বাধ্য হয়েই বেশি টাকা দিয়ে ফরম পূরণ করেছি।’
নাম প্রকাশে অপারগতা প্রকাশ করে এক অভিভাবক বলেন, ‘এ স্কুলের সবকিছুই তারা (অধ্যক্ষ ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি)। সরকার এখানে কিছুই না। সরকারি নিয়ম কাগজ-পত্রেই আছে। এখানে কোনো অভিভাবক কিছুই বলতে পারে না।’
তিনি আরো বলেন, ‘৭ হাজার টাকা না দিলে স্কুল কর্তৃপক্ষ কোনোভাবেই ফরম পূরণ করতে দেবে না। এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে ব্যবহারিক পরীক্ষায় পাস নম্বর দেবে না। কথা বলা মানে নিজের সন্তানের বিপদ নিজে টেনে আনা।’
পাশেই বসে থাকা আরেক অভিভাবক ক্ষেভের সঙ্গে বলেন, ‘সরকার ফরম পূরণের জন্য ফি নির্ধারণ করে দিয়েই খালাস। সরকার যদি তদারকি করতে নাই পারে তাহলে শুধু শুধু নিয়ম কেন? এ ধরনের নিয়মের কারণে আমাদের আরো বেশি ভোগান্তির শিকার হতে হয়।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মান্নান হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমাকে কথা বলতে নিষেধ করা হয়েছে। আমি কথা বলতে পারবো না।’
এ বিষয়ে সভাপতির সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি। কথা বলতে সভাপতির মোবাইল ফোনে বেশ কয়েকবার কল ও ক্ষুদেবার্তা পাঠিয়েও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের অভিযোগের বিষয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘অভিযোগটি লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। আমাদের অনুসন্ধানী দল ওই এলাকায় গিয়ে বিষয়টির সত্যতা যাচাই করবে। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে আমরা সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’