ঢাকাTuesday , 17 November 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ছাত্রলীগ তিন, শিবির দেড় হাজার

Link Copied!

madrasaকুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : ‘যারা ছাত্রলীগ করে তাদের জন্য ৩ হাজার টাকা আর যারা ছাত্রশিবির করে তাদের জন্য দেড় হাজার টাকা। এর এক টাকাও কম নেয়া হবে না।’
এভাবেই ঘোষণা দিয়ে ফরম পূরণের ফি নির্ধারণ করে দিয়েছেন দাঁতভাঙ্গা বছিরিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার জামায়াত নেতা মাওলানা রফিকুল ইসলাম।
চলতি বছরের দাখিল পরীক্ষায় ফরম পূরণে ওই অদ্ভুত নিয়মকে কেন্দ্র করে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার দাঁতভাঙ্গা বছিরিয়া দাখিল মাদরাসার ঘটনা এটি।
মাদরাসার ছাত্রদের শিবির বানানোর ওই ঘটনায় সুপারের জসিম উদ্দিন নামে এক ছাত্র সোমবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
জসিম উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি ছাত্রলীগের সমর্থন করি দেইখ্যা ফরম পূরণে আমার ফি তিন হাজার টাকা নির্ধারণ করেছে। আমি সুপারের পায়ে ধরে পাঁচ মিনিট কান্নাকাটি করে ২ হাজার ৭শ টাকা দিয়ে ফরম পূরণ করেছি। আমার মতো আরও অনেকে রয়েছে যারা ছাত্রলীগ করে তাদেরও ওই অতিরিক্ত হারে টাকা দিতে হয়েছে। আবার যারা ছাত্রশিবির দলের কর্মী তাদের কাছ থেকে দেড় হাজার টাকা নিয়ে ফরম পূরণের সুযোগ দিয়েছেন সুপার নিজেই।’
জসিম আরও বলেন, ‘সুপার আমাকে কয় এই, তোমার না কাউনিয়ারচর গ্রাামে বাড়ি। তোমার গ্রামের সবাই জামায়াত-শিবির করে তুমি একা ছাত্রলীগ করও কেন?’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই মাদরাসার এক শিক্ষক মোবাইল ফোনে জানান, সুপার নিজেই জামায়াতের একজন নেতা। মাদরাসায় যারা শিবির করে তাদের সুযোগ-সুবিধা দেয়া হয়। আর যারা আওয়ামী লীগ বা ছাত্রলীগ করে তাদের কাছ থেকে নানা ফি’র নামে অতিরিক্ত টাকা নেন।
ছাত্রলীগ করলে টাকা বেশি আর ছাত্রশিবির করলে টাকা কম সুপারের এমন নিয়মের বিষয়টি যাছাই বাছাই করার জন্য ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু শিক্ষার্থীরা প্রকাশ্যে কথা বলতে রাজি হয়নি। তবে ওই মাদরাসার ছাত্রী আরজিনা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার বাবা আওয়ামী লীগ করেন। এজন্য আমারও ৩ হাজার টাকা চাইছিল ফরম পূরণের জন্য। আমি ২৭০০ টাকা দিয়ে ফরম পূরণ করেছি।’
একইভাবে এরশাদুল হক ও তৌহিদুল হক নামে শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়। এদের মধ্যে এরশাদুল হক ৩০০০ টাকা ও তৌহিদুল হক ২৬০০ টাকা দিয়ে ফরম পূরণ করেছে।
ওই ঘটনার বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মিনু জানান, একজন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক প্রকাশ্যে জামায়াত-শিবিরকে উসকে দিবে তা হতে দেয়া হবে না। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য।
অভিযোগ প্রসঙ্গে ওই সুপার মাওলানা রফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি তা অস্বীকার করে বলেন, ‘এটা মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন কথা। কোনো ছাত্র বলেছে এমন কথা আমাকে তার নাম বলুন।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শংকর কুমার বিশ্বাস অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘একজন শিক্ষক ওইভাবে কথা বলতে পারে না। এ বিষয়ে খোঁজ নেয়া হচ্ছে।’