স্বাস্থ্য ডেস্ক : স্তন ক্যানসার এক ধরণের বিশেষ ক্যানসার যা স্তন কোষ থেকে সৃষ্টি হয়। স্তন ক্যানসার পুরুষদেরও হতে পারে । তবে পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের হওয়ার সম্ভাবনা একশ গুণ। এই স্তন ক্যানসার নিয়ে অনেক গবেষক ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন কারণ দাঁড় করালেও সম্প্রতি পাওয়া গেল অবাক করার মত তথ্য। মায়েদের শালদুধ থেকেও নাকি সৃষ্টি হয় স্তন ক্যানসার। সম্প্রতি ইরানের এক গবেষক দল দিয়েছেন এমনই তথ্য।
শিশু জন্মের পর তৃতীয় দিনে মায়ের বুকে আসল দুধ আসার আগ পর্যন্ত যে হলদেটে তরল পদার্থ বের হয়, তাকেই বলে শালদুধ। শালদুধ পরিমাণে থাকে অল্প। কিন্তু এতে আমিষ আর শর্করার ভাগ থাকে অনেক বেশি। অন্যদিকে চর্বি বা মাখন জাতীয় উপাদানের পরিমাণ থাকে খুব কম। শালদুধে আরেকটা উপাদান প্রচুর পরিমাণে থাকে, তা হলো ‘ইমিউনোগ্লোবিউলিন’। এই ইমিউনোগ্লোবিউলিনগুলোর রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা থাকে অনেক বেশি। শালদুধের মাধ্যমে মায়ের শরীর থেকে ইমিউনোগ্লোবিউলিনগুলো শিশুর শরীরে গিয়ে শিশুকে অনেকগুলো রোগের আক্রমণ থেকে রক্ষা করে। তাই শালদুধকে বলা হয় শিশুর প্রথম টিকা।
তাই গবেষকরা বলছেন, ‘অনেক মা আছেন যারা শরীরের কাঠামো ঠিক রাখার জন্য বাচ্চাদের শালদুধ খাওয়ান না। এমনকি আসল দুধও পান করান না। যার ফলে ওই শালদুধ থেকেই পরবর্তীতে সৃষ্টি হয় স্তন ক্যানসারের। এ বিষয়ে গবেষকদের ব্যাখ্যা হচ্ছে, শালদুধ অপেক্ষাকৃত ঘন ও আঠালো থাকে। বাচ্চাকে সেই দুধ পান না করালে দিনে দিনে ওই দুধ স্তনের ভেতরে পঁচে পুঁজে পরিণত হয়। যা স্তনের স্তনকোষগুলোকে ধ্বংস করে ফেলে। আর এভাবে ধীরে ধীরে একদিন তা রূপ নেয় স্তন ক্যানসারে।’
একজন নারীর কাছে নারীত্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অবশ্যই মা হওয়া। সন্তান ধারণ করা এবং তাকে বড় করা। বলা হয়, নারী সবথেকে সুখী হয় নিজের সন্তানকে স্তনপান করিয়ে। তাই মায়েদের জন্য ইদানিং একটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিচ্ছেন ডাক্তাররা। ‘আপনার সন্তানকে অবশ্যই স্তনপান করান। তবে একই পাশের স্তন বেশি সময় নয়। কারণ, স্তন ক্যানসারের সম্ভাবনা রয়েছে সেখানেও।

