নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও সরকারি বাধার কারণে বিএনপি কাউন্সিল করতে পারছে না বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
সোমবার দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) নবম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং চতুর্থ কাউন্সিল অনুষ্ঠানে তিনি এ অভিযোগ করেন।
অতীতেও বিএনপির কাউন্সিলে সরকার বাধা দিয়েছে দাবি করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘এর আগেও যখন কাউন্সিলের জন্য সার্বিক প্রস্তুতি শেষ করেছিলাম, তখন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবসহ অসংখ্য নেতাদের গ্রেপ্তার করা হলো। জেলা পর্যায়ের নেতাদের গ্রেপ্তার করা হলো। সম্মেলন করতে পারলাম না। এবারো আমরা সম্মেলনের চেষ্টা করছি। কিন্তু সারাদেশে কোথাও ১০-২০ জন নেতাকে একসঙ্গে বসতে দেওয়া হয় না। পুলিশ এসে বাধা দেয়।’
তিনি বলেন, ‘আমরা যারা বিরোধী দলে রাজনীতি করছি, তারা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে লড়াই করছি না। কিন্তু যখন কোনো দাবি নিয়ে এগিয়ে যাই, আমাদের সামনে আওয়ামী লীগ আসে না, আসে তাদের সরকারি পুলিশ বাহিনী। জনগণের টাকায় কেনা অস্ত্র নিয়ে তারা আমাদের গণতান্ত্রিক পথকে রুদ্ধ করতে চায়।’
নির্যাতন-নিপীড়ন করে ‘জনগণের আন্দোলন’ বন্ধ করা যাবে না জানিয়ে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ‘ক্ষমতাসীন সরকার কি মনে করে, নিপীড়ন-নির্যাতন করে জনগণের আন্দোলন বন্ধ করা যাবে? যাবে না। কখনো যায়নি। এই সরকারই তো সবচেয়ে ভালো জানে, তাদের সব নেতাকে গ্রেপ্তার করার পর আমেনা বেগম নামে একজন অপরিচিত মানুষ আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তারপর নির্বাচনে আওয়ামী লীগই তো বিজয়ী হয়েছিল। একইভাবে এরশাদ আমলে বিএনপির অনেক নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ৯১-তে ঠিকই বিএনপি সরকার গঠন করেছিল।’
তিনি বলেন, ‘ক্ষমতাসীন দলের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না, এ বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য সৃষ্টি হয়েছে। সেজন্য নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হওয়া উচিত। এটা তাদেরই (আওয়ামী লীগ) দাবি। এজন্য তারা মাসের পর মাস হরতাল করেছে। গান পাউডার দিয়ে মানুষ হত্যা করেছে। কিন্তু এখন আর সেটা পছন্দ হচ্ছে না।’
বিএনপির এই নেতা অভিযোগ করেন, তার দলের পক্ষ থেকে নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা কথা বলা হলেও সরকার জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য বারবার আলোচনার কথা বলেছে। কিন্তু আলোচনা করা হয়নি।
বর্তমান সরকারকে ‘ভোটারবিহীন এবং জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়’উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিএনপি জনগণের ভোটে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার লড়াই করছে। জনগণের মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে কাজ করছে।’ এই দাবিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
দলটির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘অনেকে হতাশা ব্যক্ত করেন, আর কত দিন? আওয়ামী লীগ ২১ বছর পর ক্ষমতায় এসেছে। বাকশাল করে যে পাপ তারা করেছিল, তার মূল্য দিতে হয়েছে ২১ বছর। আজ বাকশাল না হলেও প্রায় ওই রকমই একটি ব্যবস্থা হয়েছে। কারণ এই সংসদে বিরোধী দল নেই। এমনই বিরোধী, যারা মন্ত্রিসভায়ও আছেন আবার বিরোধী দলেও আছেন।’
সভাপতির বক্তব্যে এলডিপি সভাপতি ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন জোটগতভাবে হবে না।’ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন দলের মহাসচিব ড. রেদোয়ান ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহাদত হোসেন সেলিম, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জাতীয় সংসদের প্রাক্তন হুইপ আবদুল করিম আব্বাসী, মাহমুদুর রহমান চৌধুরী, অ্যাডভোকেট আবু ইউসুফ মো. খলিলুর রহমান প্রমুখ।

